ভাষা সৈনিকের স্বীকৃতি চায় রিজিয়া খাতুন

প্রকাশিত: 7:49 AM, February 12, 2016

ভাষা সৈনিকের স্বীকৃতি চায় রিজিয়া খাতুন

109524_untitled_111282প্রান্ত ডেস্ক:১৯৫২ সালের স্কুলের ছাত্রী রিজিয়া খাতুন কাকার মাধ্যমে জানাতে পেরেছিলেন যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালিয়েছে পুলিশ। রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাওয়ায় ছিল তাদের অপরাধ। সারাদেশে শুরু হয় রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলন। আন্দোলন ঢাকায় শুরু হলেও এর ঢেউ এসে পড়ে জেলাগুলোতেও। এর থেকে ব্যতিক্রম হয়নি নড়াইল জেলায়ও। ‘রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই’ এ স্লোগানে মুখরিত করে তোলে সেদিনের শিক্ষার্থীরা। গড়ে তোলেন শহীদ মিনার। শহীদদের স্মরণে ২২ ফেব্রুয়ারি পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন রিজিয়া খাতুনসহ অন্যরা। কিন্তু সরকারিভাবে তাদের দেয়া হয়নি কোনো স্বীকৃতি।
১৯৫২ সালে মাতৃভাষা বাংলার জন্য আন্দোলন করেন ছাত্র-জনতা। বাংলাভাষা প্রতিষ্ঠা করার জন্য বুকের তাজা রক্ত দিয়ে চির স্মরণীয় হয়ে আছেন সালাম, রফিক, জব্বারসহ নাম না জানা অনেকে। ঢাকার আন্দোলনের সঙ্গে ২২ ফেব্রুয়ারি নড়াইলেও শুরু হয় ভাষার জন্য আন্দোলন। সে দিনের ভাষার আন্দোলনে যোগ দিতে ছাত্ররা যখন রাস্তায় নামার জন্য ছাত্রীদের আহ্বান জানান তখন সবাই বিভিন্ন অজুহাতে পালিয়ে গেলেও ৩ জন যোগ দেন সেই দিনের মিছিলে। সুফিয়া খাতুন, রিজিয়া খাতুন ও রুবি।
পৌরসভার ডুমুরতলা গ্রামের নুর জালালের মেয়ে রিজিয়া খাতুন বর্তমানের বসবাস করছেন শহরের আলাদাতপুর এলাকায়। স্বামী মৃত অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক। তাদের চার ছেলে এক মেয়ের সংসারে এক ছেলে মারা গেছেন।
রিজিয়া খাতুন জানান, শহরের মহিষখোলা তৎকালীন মহকুমা আওয়ামী লীগের সভাপতি আফসার উদ্দিন মোক্তারের বাড়িতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হতো। আফসার উদ্দিনের মেয়ে সুফিয়া খাতুন, তার ছেলে সে সময় ছাত্রনেতা শহীদ মিজানুর রহমান দুলু ও সুফিয়া খাতুনসহ অন্যরা বাড়িতে বিভিন্ন সময়ে গোপন বৈঠকে অংশগ্রহণ করতেন। তিনি অন্যদের সঙ্গে যোগ দিয়ে ভাষার জন্য সেইসব সভা-সমাবেশে। ছাত্র-জনতাকে সংগঠিত করার কাজ করেন। ভাষার জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করে মিছিল-মিটিং এ ছিলেন সক্রিয়। তিনিসহ ১০-১৫ জন শহরের তৎকালীন কালিদাসট্যাংক (বর্তমান টাউনক্লাব) এরপাশে প্রথম শহীদ মিনার তৈরি করে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।
সরকারিভাবে সম্মান না মিললেও স্থানীয়রা রিজিয়া খাতুনকে ভাষা সৈনিক হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে।
রাষ্ট্রভাষা বাংলা আজ সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে জানিয়ে তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘আমাদের দেশে বা বিশ্বের সব জায়গায় ভাষা শহীদের স্মরণে যে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হচ্ছে তা কোনো নিয়ম-নীতি মেনে হচ্ছে না। যে যার মতো ইচ্ছা হচ্ছে তেমন করে শহীদ মিনার তৈরি করছে।’ তিনি এ বিষয়ে সরকারের সুনিদিষ্ট আইন করার দাবি জানান।
রিজিয়া খাতুনের ছেলে কামাল উদ্দিন রাসেল  বলেন, ‘আমার মা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সে সময়ে রাজপথে মিছিল-মিটিং করেছে। অথচ আজও রাষ্ট্রীয়ভাবে তাকে স্বীকৃতি দেয়ার হয়নি।’ দ্রুত স্বীকৃতির দাবি জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক মো. হেলাল মাহমুদ শরীফ  বলেন, ‘ভাষা সৈনিক একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভাষা সৈনিকদের ব্যাপারে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখব।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 16 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ