বিআরটিএর কাছে ক্ষতিপূরণ চায় ডিসিসি

প্রকাশিত: 7:45 AM, February 12, 2016

বিআরটিএর কাছে ক্ষতিপূরণ চায় ডিসিসি

109524_untitled_111282প্রান্ত ডেস্ক:যানবাহন চলাচলের কারণে রাজধানীর সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ১০০ কোটি টাকা, যা বিআরটিএ’র রাজধানী থেকে আদায় করা রাজস্ব আয়ের ৭৫ শতাংশ।
সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন- রাজধানীর রাস্তা নির্মাণ বা সংস্কার করে সিটি করপোরেশন। কিন্তু তার ব্যবহার এবং রাজস্ব আদায় করে বিআরটিএ। এ ব্যবস্থাকে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক উল্লেখ করে সেই বিআরটিএ’র কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ চেয়ে সম্প্রতি এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রণালয়ে একটি পত্র দেয়া হয়েছে। জানা গেছে ক্ষতিপূরণের অর্থ ব্যয় হবে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতে।
মেয়র কার্যালয়ের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
দুই সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রণালয়ে পত্র দেয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিআরটিএর সঙ্গেও দেন দরবার চলছে। এর আগেও একাধিকবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, যোগাযোগ মন্ত্রণালয় ও প্রধামন্ত্রীর কার্যালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে উভয় সংস্থার বাজেট বক্তৃতায় এ টাকা আদায়ের প্রস্তাব করা হয়।
এছাড়া নগরবাসীর কাছে সেবা বিক্রি প্রতিষ্ঠান ডেসা, ওয়াসা, ডিপিডিসি, বিটিসিএল, মোবাইল ফোন অপারেটর কোম্পানি, তিতাস গ্যাস এবং কেবল লাইন অপারেটরদের কাছ থেকেও নির্দিষ্ট হারে কর দাবি করা হয়েছে।
ডিসিসির বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়েছে, নগরবাসীর সহজ ও নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করতে ডিসিসি উত্তর-দক্ষিণ নিজস্ব অর্থ ব্যয়ে এর আওতাধীন সব ছোট-বড় রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কার করে থাকে। কিন্তু এসব রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহনসমূহ এজন্য সিটি করপোরেশনকে কোনোরকম কর দেয় না।
এই অবস্থায় ওই অর্থবছরে বিআরটিএর কাছ থেকে ঢাকা মেট্রো নম্বর প্লেট সম্বলিত যানবাহনসমূহ থেকে রাজস্বের ৭৫ ভাগ ঢাকা ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তহবিলে হস্তান্তর করার যৌক্তিক প্রস্তাব করা হচ্ছে।
এ ছাড়া মেট্রোপলিটন এলাকায় চলাচলকারী অন্যান্য জেলার নম্বর প্লেটধারী সব যানবাহনের জন্য ব্যবহারিক একহাজার টাকা মূল্যের ‘ট্যাক্স টোকেন’ ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও করা হয়েছে।
বাজেট বক্তৃতায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিএম এনামুল হক বলেছিলেন, ‘আমরা চাই নগরবাসীর পর্যাপ্ত সেবা নিশ্চিত হোক। এজন্য ‘অকট্রয়’ প্রথা চালু করা দরকার। এটা চালু হলে আমাদের রাজস্বা আয় বাড়বে। এজন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। ইতিবাচক সাড়া পেলেই এ কার্যক্রমটি শুরু করা হবে। এর মধ্যে আমরা সব প্রস্তুতি শেষ করে রেখেছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিআরটিএ চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ডিসিসির প্রশাসক থাকাকালে তিনিই বিআরটিএর কাছ থেকে এ ন্যায়সংগত প্রস্তাব করেছিলেন। তিনি আজ বিআরটিএর চেয়ারম্যান। আপনারা তাকে জিজ্ঞেস করেন এ টাকা ডিসিসি প্রাপ্য কি না।’
জানা গেছে, ৮০ দশকে অকট্রয় (নগর শুল্ক) প্রথা চালু ছিলো। পরে সেটি বন্ধ করে দেয়া হয়। সেময় এর পরিবর্তে সরকারের পক্ষ থেকে সিটি করপোরেশনকে কিছু থোক বরাদ্দ দেয়া হতো। বর্তমানে এটি চালু থাকলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন শত কোটি টাকা রাজস্ব আয় করতে পারবে। তাছাড়া বিভিন্ন শিল্প কারখানা, গার্মেন্টসের পণ্য পরিবহনের জন্য ভারী কার্গোসহ সারা দেশের অধিকাংশ যানবাহন সিটি করপোরেশনের সড়ক দিয়েই চলাচল করে।
ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সিটি করপোরেশনের সড়কগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়। অথচ সড়ক ব্যবহার ও রেজিস্ট্রেশনের জন্য ট্যাক্স আদায় করে বিআরটিএ। কিন্তু সিটি করপোরেশনকে কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়া হচ্ছে না। তাই এ দাবিকে ন্যায়সঙ্গত দাবি বলে মনে করছে দুই সিটি করপোরেশন।
এ ব্যাপারে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাংলামেইলকে বলেন, ‘এটা আমাদের ন্যায়সংগত দাবি। রাজধানীর সড়কগুলো ভালো রাখতে বিআরটিএর উচিত সিটি করপোরেশনকে এর ক্ষতিপূরণ দেয়া। কারণ সড়কে চলাচলকারী যানবাহন থেকে রুট ট্যাক্স আদায় করে বিআরটিএ। তারা সিটি করপোরেশনকে কোনো ট্যাক্স দেয় না।’
বেশ কিছুদিন আগে এসব বিষয়ে এক সেমিনারে বিআরটিএর চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেছিলেন, ‘এটা অবশ্যই ডিসিসির যোক্তিক দাবি। সরকার চাইলে তাদের রাজস্ব আয়ের কিছু অংশ ডিসিসিকে দেয়া যেতে পারে। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পেলে সিদ্ধান্ত নেব।’
নজরুল ইসলাম এক সময় ডিএনসিসির প্রশাসক পদে দায়িত্বে ছিলেন। সে সময় তিনিই বিআরটিএ থেকে ডিসিসিকে রাজস্ব আয়ের অংশ দেয়ার দাবি তোলেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 10 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ