বিচারকদের আচরণবিধি প্রয়োজন: আইনমন্ত্রী

প্রকাশিত: 5:08 AM, February 12, 2016

বিচারকদের আচরণবিধি প্রয়োজন: আইনমন্ত্রী

109524_untitled_111282প্রান্তডেস্ক:দেশে উচ্চ আদালতের বিচারকদের জন্য আচরণবিধি থাকা উচিত বলে মনে করেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। তিনি বলেন, আমরা বিচারপতিদের এত শ্রদ্ধা করি যে এ ধরনের আইনের প্রয়োজন আছে বলে কখনো মনে হয়নি। কারণ তারা বিবেক দ্বারা চালিত হবেন। তাদের এটা বলে দেয়ার প্রয়োজন নেই যে, কি আচরণ তারা করবেন? তিনি বলেন, সে জন্যই কিন্তু এতদিন কোনো রুলস (বিধি) ছিল না। কিন্তু আজ বাস্তবতায় এটা উপলব্ধি করা যাচ্ছে যে এ ব্যাপারে রুল করে দেয়া উচিত।
গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আজ বিচারপতিদের আচরণবিধি খুব প্রয়োজন হয়ে গেছে। এই আচরণবিধি করতে প্রধান বিচারপতির সঙ্গেও আলোচনা করা হবে বলে জানান তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, আমার বাবা সিরাজুল হকও একসময় আইনজীবী ছিলেন। তখন তিনি দেখেছেন, বিচারকরা যতোদিন এলপিআরে ছিলেন, ততদিন তারা কোর্টে যাননি। কিন্তু আজ তার (বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী) ব্যাপারে যেটা হলো; সেটা হচ্ছে, উনি ১২ জানুয়ারি অবসরে গেছেন। পরদিনই আদালতে এসেছেন আইনজীবী হিসাবে মামলা পরিচালনা করতে। কিন্তু তিনি সরকারি বাসা ছাড়েননি। আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারপতিদের অধিকার আছে আপিল বিভাগে মামলা পরিচালনা করার। তারা যদি আপিল বিভাগে প্র্যাকটিস করতে আসেন, তাহলে তাদের সরকারি সুবিধা ত্যাগ করে আসা উচিত। যদি ত্যাগ করতে না পারেন তাহলে ওইসব সুযোগ-সুবিধা ভোগ শেষ হলে এরপর প্র্যাকটিস করতে আসা উচিত। কারণ বিচারকরা হচ্ছেন সমাজের দৃষ্টান্ত, রোল মডেল। তারা এমন কাজ করবেন, যেটা অনুসরণীয় হবে। আমি মনে করি, এখন সময় হয়েছে এগুলো ভেবে দেখার।

মৃত্যুদণ্ড বিলোপের সম্ভাবনা নেই
বাংলাদেশে যে সব অপরাধের জন্য বর্তমানে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে, সেই দণ্ড রহিত করার সম্ভাবনা নেই বলে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একটি প্রতিনিধিদলকে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী। গতকাল ওই প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাত্ শেষে আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, মৃত্যুদণ্ড নিয়ে যখন প্রশ্ন উঠেছে, তখন আমি স্পষ্টই বলেছি, যে সব অপরাধের জন্য বর্তমানে মৃত্যুদণ্ড সাজা হিসাবে রয়েছে, সেইগুলো কোনো পরিবর্তন হবে না। ভবিষ্যতে আমরা যখন নতুন আইন করব, তখন ওইসব আইনে মৃত্যুদণ্ডের বিধান না রাখার চেষ্টা করা হবে।
তিনি বলেন, আজকের বাস্তবতা হচ্ছে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কেউ যদি কোনোমতে বাংলাদেশে বর্ডার ক্রস করতে পারেন এবং কোনো পশ্চিমা দেশে যান, তাহলে আর কোনোদিন তাকে ফিরিয়ে আনতে পারব না। কারণ তিনি কেবল যুক্তি দেখাবেন, বাংলাদেশে ফাঁসির আইন আছে, ফিরিয়ে দিলে ফাঁসি দিয়ে দেবে। তিনি বলেন, ফরমালিন অপব্যবহারের আইনে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড না রেখে যাবজ্জীবন দণ্ড রাখা ভালো। তবে অপরাধের গুরুত্ব বুঝে যদি আমরা মনে করি, মৃত্যুদণ্ড রাখাটাই অপরাধ দমনের সবচেয়ে ভালো অস্ত্র, তাহলে (নতুন আইনেও) মৃত্যুদণ্ড থাকবে।
আইনমন্ত্রী জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রতিনিধি দলকে বলেছি সরকার নতুন ‘ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট’ করে ৫৭ ধারার ‘বিভ্রান্তিগুলো’ দূর করার ব্যবস্থা করছে।

সাগর-রুনি হত্যার তদন্ত নিয়ে নিরাশ হবেন না
আইনমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনি হত্যার পর ৪৮ মাস চলে গেছে বলে বিচার বা তদন্ত শেষ গেছে তা নয়। যতক্ষণ অপরাধীরা ধরা না পড়বে ততক্ষণ তদন্ত চলবে। কিছু অপরাধ আছে খুব তাড়াতাড়ি বের করা যায়, কিছু অপরাধ আছে যায় না। তবে আপনাদের প্রতি আহ্বান আশা ছাড়বেন না। গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, এ খুনের বিষয়ে যদি আইনজীবী হিসাবে আমার কাছে জানতে চান তাহলে আমি বলব তদন্ত জিনিসটা খুব কঠিন। কারণ ‘ক্লুলেস’ খুন হলে তার সমাধান করা তদন্তকারীদের জন্য কঠিন হয়ে যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 6 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ