সোনালী ব্যাংকে ১৩০৪ চেক জালিয়াতি

প্রকাশিত: 5:59 AM, February 11, 2016

সোনালী ব্যাংকে ১৩০৪ চেক জালিয়াতি

109524_untitled_111282প্রান্তডেস্ক:রাষ্ট্রায়ত্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান সোনালী ব্যাংক ইতিমধ্যে দুর্নীতি, লুটপাট, জালিয়াতির আখড়া হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। গ্রাহকের গচ্ছিত অর্থ এখানে নিরাপদ নয়। ব্যাংকটির এক শ্রণির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী চেক জালিয়াতির মাধ্যমে গ্রাহকের গচ্ছিত অর্থ আত্মসাত করছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট কর্পোরেট শাখায় ১ হাজার ৩০৪ টি চেক জালিয়াতি করে অর্থ লুট পাটের প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে সোনালী ব্যাংকের অন্যান্য শাখায়ও একই কায়দায় অর্থ লুটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ অর্থ লুটের বিষয়টি নিয়ে অধিকতর তদন্ত করছে বলে জানা যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা জানায়, সরকারি ব্যাংকগুলো লুটের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে সোনালী ব্যাংকের গ্রাহকের অর্থ নানাভাবে জালিয়াতি করে হাতিয়ে নিচ্ছে কর্মকর্তারা। শুধু ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট কর্পোরেট শাখার চেক জালিয়াতি নয়। এ ধরনের ঘটনার অভিযোগ আসছে সোনালী ব্যাংকের অন্যান্য শাখা থেকেও।
ব্যাংক কোম্পানি আইন লংঘন করে অদাবীকৃত ১ হাজার ৩০৪ টি সঞ্চয়ী হিসাব হতে বিভিন্ন তারিখে সর্বমোট ৫০ লাখ ৭২ হাজার ৫৯ টাকা ডেবিট করা হয়। গত ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর ২২ লাখ ৪৪ হাজার ৯৮৮ টাকা ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট কর্পোরেট শাখার আয়খাতে স্থানান্তর করে এবং ৬৭ টি টিওডি (চলতি) হিসাবে মোট ২৮ লাখ ২৭ হাজার টাকা জমা করে। হিসাবগুলো সমন্বয়ও অর্থ আতœসাত এবং অশনাক্ত, অদাবীকৃত হিসাবে ডেবিট করে ৩১ টি ডিওডি (চলতি) হিসাবে মোট ৩ লাখ ৯১ হাজার টাকা বিধি বহির্ভূতভাবে জমা করে। এ টাকা দীর্ঘদিন যাবৎ অসমন্বিত হিসাব সমূহে সমন্বয় করা হয়েছে। জাতিয়াতিমূলক লেনদেনে সর্বমোট ৪৫ লাখ ৬৩ হাজার টাকাই অদাবীকূত আমানতের টাকা যা ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১ এর ৩৫ ধারার বিধিবিধান পরিপালন সাপেক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে।
প্রতারণা ও জাল জালিয়াতি সংঘটনে সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট কর্পোরেট শাখার কর্মকর্তা কে এম নজরুল ইসলাম (এজিএম), আই এ এম খলিল উল্লাহ অপারেশন ম্যানেজার, আব্দুল সাত্তার মজুমদার সহকারী অপারেশন ম্যানেজার (বর্তমানে ওয়েজ আর্নাস কর্পোরেট শাখায় কর্মরত), মিসেস নাসিমা আহম্মেদ আফিসার (পিআরএল) এবং মো. সালাহ উদ্দিন সিনিয়র অফিসারসহ এরা সবাই লুটপাট ও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতারণা ও জাল জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় শুধুমাত্র ব্যাংকের ভাবমূর্তিই ক্ষুন্ন হয়নি, আমানাতকারীরাও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যাবশ্যক। অন্যথায় এ ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা কোনক্রমেই সম্ভব হবে না। পরিদর্শন তারিখ পর্যন্ত শুধুমাত্র এজিএম কেএম নজরুল ইসলাম ব্যতীত কারোর বিরুদ্ধেই প্রশাসনিক কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 13 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ