রাষ্ট্রায়ত্ত বড় বড় ব্যাংকগুলোতে সমস্যা রয়েছে : অর্থমন্ত্রী

প্রকাশিত: 6:52 AM, February 9, 2016

রাষ্ট্রায়ত্ত বড় বড় ব্যাংকগুলোতে সমস্যা রয়েছে : অর্থমন্ত্রী

gপ্রান্তডেস্ক:: দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত বড় বড় ব্যাংকগুলোতে সমস্যা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
সোমবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল) কর্তৃক সরকারি কোষাগারে প্রদত্ত লভ্যাংশের চেক গ্রহণকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার বিভিন্ন সূত্রে বহু পয়সা আয় করে, কিন্তু সরকার মালিকানাধীন ব্যাংক যখন ডিভিডেন্ড (লভ্যাংশ) দেয় সেটা একটু ব্যতিক্রম-ই মনে হয়। কারণ, আমাদের ব্যাংকগুলোর অবস্থা খুব ভালো নয়। বিশেষ করে বড় বড় ব্যাংকগুলোতে সমস্যা আছে। মূলধন ও প্রভিশন ঘাটতির কারণে ওইসব ব্যাংককে সরকারের পয়সা দিতে হয়। তবে এর মধ্যে জনতা ব্যাংকের রেকর্ডটা ভালো।’
কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সরকারি ব্যাংক আমরা রেখেছি কেন? বহু আগে বলা হতো— কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠান থাকা দরকার আদর্শ প্রতিষ্ঠান হিসেবে, যাদের রীতিনীতি, কর্মকাণ্ড, দক্ষতা, নিয়ম-নীতি-বিধিমালা, প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব ইত্যাদি অন্যরা অনুসরণ করবে। এ ধরনের স্বপ্ন যারা দেখেছিলেন, আমি তাদের একজন। কিন্তু এ উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়েছে।’
অনুষ্ঠানে বিডিবিএল-এর ২০১৪ সালের পঞ্জিকা বছরের লভ্যাংশ বাবদ ১০ কোটি টাকার চেক অর্থমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. ইয়াছিন আলী এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জিল্লুর রহমান। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ড. এম আসলাম আলম এবং বিডিবিএল-এর পরিচালনা পর্ষদের অন্য সদস্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বিডিবিএল প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিডিবিএল একটি ছোট্ট ব্যাংক হলেও যতগুলো সরকারি ব্যাংক আছে এদের মধ্যে তার রেকর্ডটা সবচেয়ে ভালো। এ ব্যাংকটি বর্তমান সরকারই প্রতিষ্ঠা করেছে বলা যেতে পারে। ‘বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক’ ও ‘বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা’ এ দুটো প্রতিষ্ঠানকে একীভূত করে বিডিবিএল স্থাপন করা হয়।’
ডিভিডেন্ড প্রদানের জন্য বিডিবিএল-এর ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা পর্ষদকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি ভাবছি, কবে সবগুলো সরকারি ব্যাংক এমন অবস্থানে পৌঁছুুবে।’
প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, ‘উল্লেখিত প্রতিষ্ঠান দুটি (‘বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক’ ও ‘বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা’) স্থাপন করা হয়েছিল বিশ্বব্যাংকের উদ্যোগে। এর উদ্দেশ্য ছিল বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন গড়ে তোলা। কারণ, তখন সংস্থাটির চার্টার অনুযায়ী বেসরকারি খাতে অবদান রাখার সুযোগ ছিল না। কিন্তু বিশ্বব্যাংক উপলদ্ধি করেছিল যে, সরকারি অর্থে বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন হয় না। তাই এ ধরনের প্রতিষ্ঠান তারা গড়ে তুলেছিল। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের জন্য এসব প্রতিষ্ঠানকে বিশ্বব্যাংক ঋণ দিত। এ ধরনের প্রতিষ্ঠান তারা ভারতেও স্থাপন করেছিল। এখন অনেক উন্নত দেশেও এ ধরনের বিনিয়োগ ব্যাংক আছে।’
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ড. এম আসলাম আলম বলেন, ‘আমাদের একটা বড় প্রাপ্তি হচ্ছে বিডিবিএল-কে কোনো ভর্তুকি দিতে হচ্ছে না। এটা একটা বড় অর্জন। ১০ কোটি টাকা ডিভিডেন্ড প্রদান ছাড়াও আলোচ্য বছরে ব্যাংকটি সরকারকে ৪০ কোটি টাকা কর দিয়েছে।’
বিডিবিএল-এর চেয়ারম্যান মো. ইয়াছিন আলী বলেন, “অতীতের ‘বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক’ ও ‘বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা’ কোন ব্যাংকিং করত না, এ দুটি ছিল আর্থিক প্রতিষ্ঠান। দেশের শিল্পায়নে এ প্রতিষ্ঠান দুটোর অনেক অবদান আছে।”
‘এখান থেকে অর্থ নিয়ে অনেকে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়েছেন, ব্যাংকের মালিক হয়েছেন, ধনী হয়েছেন কিন্তু সরকারি প্রতিষ্ঠানের টাকা ফেরত দেননি’ বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 10 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ