একনেকে যাচ্ছে সংশোধনী প্রস্তাব তেল-গ্যাস অনুসন্ধান প্রকল্পে গতি ফিরছে

প্রকাশিত: 10:19 AM, February 8, 2016

একনেকে যাচ্ছে সংশোধনী প্রস্তাব তেল-গ্যাস অনুসন্ধান প্রকল্পে গতি ফিরছে

gপ্রান্তডেস্ক:গতি ফিরছে মোবারকপুর তেল গ্যাস অনুসন্ধান প্রকল্পে। দীর্ঘদিন ধরে অগ্রগতি না হলেও এবার দ্রুত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২০০৬ সালে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার মোবারকপুরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে কূপ খনন প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। গত ১০ বছরে প্রকল্পটির অগ্রগতি সন্তোষজনক হয়নি। নানা কারণে কূপ খননের প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে। দুবার মেয়াদ বাড়ানোর পরও কাজ শেষ হয়নি। সর্বশেষ মূল ব্যয় কমিয়ে আগামী ৬ মাসের মধ্যে প্রকল্পটির সমাপ্তি টানতে চায় পেট্রোবাংলা। এ লক্ষ্যে প্রকল্পটির সংশোধনী মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উঠছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এ বিষয়ে প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য আহমদ হোসনে খান কমিশনের মতামত দিতে গিয়ে বলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভার মাধ্যমে প্রকল্পটির প্রক্রিয়াকরণ শেষ করা হয়েছে। গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে একনেক অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, এর আগে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো পেট্রোবাংলার প্রস্তাবনায় বলা হয়, ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে মোবারকপুরে কূপ খননের কাজ শুরু হয়। সাড়ে ৮ ইঞ্চি হোল সেকশনে খননকালে ৪ হাজার ১৭৫ মিটার গভীরতায় হঠাৎ করে ড্রিল পাইপ আটকে যায়। এ বিষয়ে অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও সেই পাইপের পুরোপুরি উঠিয়ে আনা যায়নি। এর মধ্যে ৩ হাজার ৬২০ মিটার উঠিয়ে আনা গেলেও ৫৫৫ মিটার এখনো মাটির নিচে রয়ে গেছে। এই অবস্থায় কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রায় কূপ খনন করতে হলে বিকল্প উপায়ে যেতে হবে। নতুন প্রস্তাবনায় সাইড ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ৪৭০০ মিটার গভীর কূপ খনন করতে চায় পেট্রোবাংলা। কিন্তু মূল প্রকল্প প্রস্তাবনায় (ডিপিপি) সাইড ড্রিলিং সংক্রান্ত কোনো কম্পনেন্ট নেই। ইতোমধ্যে প্রকল্পে দ্বিতীয় সংশোধনীর মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে। তাই প্রকল্পের মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের মোট ব্যয় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা কমানো হচ্ছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) সূত্র জানায়, ১৯৮০ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত জার্মান কোম্পানি (জিজিএজি) উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলায় গ্যাস ও তেল অনুসন্ধান ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ করে। এ সময় পাবনার সুজানগর উপজেলার মোবারকপুর গ্রামে তেল ও গ্যাসের সম্ভাব্য মজুতের সম্ভাবনা দেখা দেয়। এ ছাড়া রিগ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সময়মতো কাজ শেষ হয়নি। এখন এসব সমস্যা দূর হয়েছে। এতদিন কাজ শেষ না হলেও বর্ধিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।
মোবারকপুরের গ্যাস উত্তোলনের জন্য ২০০৪-০৫ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পে একটি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ওই সময় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে ২০০৬ সালের ৬ জুন একনেক বৈঠকে ৫৬ কোটি ৪০ লাখ টাকার ‘মোবারকপুর অনুসন্ধান কূপ খনন প্রকল্প’ নামে অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রকল্পে শর্ত অনুসারে, কূপ খননের আগে গ্যাস পাওয়ার বিষয়ে ভূ-তাত্ত্বিক দ্বিমাত্রিক (টু-ডি) জরিপের ফলাফল ভালো হলেই অনুসন্ধান করার অনুমতি পাওয়া যাবে। পরে ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সেখানে ১৬০ দশমিক ৩৮ কিলোমিটার লাইন জরিপ করা হয় এবং ডিসেম্বর মাসে এর ফলাফল প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। দ্বিমাত্রিক জরিপের তথ্যউপাত্ত থেকে বাপেক্স সেখানে গ্যাসের অস্তিত্বের ব্যাপারে আবারও আশাবাদী হয়। কিন্তু পরবর্তীকালে এই প্রকল্পটির কাজের কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।
এরপর ২০১২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে ৮৯ কোটি ২৬ লাখ টাকা অর্থায়নে ওই প্রকল্পটি আবার অনুমোদন দেয়া হয়। পরে বাপেক্স কারিগরি কারণ দেখিয়ে মোবারকপুর থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমে সাঁথিয়া উপজেলার পাগলাদহ, চণ্ডিপুর ও বিষষ্ণুবাড়ীয়া মৌজায় প্রায় নয় একর জমি ২০১০ সালে দুই বছরের জন্য ইজারা নিয়ে নতুন করে সেখানে প্রকল্পটি স্থানান্তর করে। অবকাঠামো নির্মাণের পর প্রায় দু’বছর পেরিয়ে গেলেও ‘রিগ’ না পাওয়া যাওয়ায় নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এ কূপ খনন শুরু করা যায়নি। এরপর ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রিগ বসানোর কাজ শুরু হয় এবং মে মাসে শেষ হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 10 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ