ড্রোন দিয়ে টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ

প্রকাশিত: 11:53 AM, February 8, 2016

ড্রোন দিয়ে টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ

109524_untitled_111282প্রান্তডেস্ক ;ক্ষতিগ্রস্ত সুনামগঞ্জের টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ড এলাকায় অত্যাধুনিক ড্রোন ব্যবহার করে বিপজ্জনক স্থানের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো কোনো বিপজ্জনক স্থানের তথ্য-উপাত্ত ড্রোন ব্যবহার করে সংগ্রহ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ড এলাকা ও টেংরাগ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকে বিদেশি দুজন প্রযুক্তিবিদ মাটি থেকে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে ড্রোনটি আকাশে ওড়াচ্ছেন। এই ড্রোন প্রতিবার ১৫ থেকে ২০ মিনিট ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০০ থেকে ৩০০ ফুট উচ্চতায় পরিভ্রমণ করে মাটিতে নেমে আসে।
রোববার বিকেল থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দোয়ারাবাজার উপজেলার টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডের সিপেজ ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় চালানো হবে। যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক কাউন্সিল প্রতিষ্ঠান ফলি হগ এলএলপির প্রযুক্তিবিদ ডায়না ও ক্রিস্টিনা বিহারীর নেতৃত্বে ১৩ সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধিদল ড্রোনপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত গ্যাসফিল্ড ও আশপাশের এলাকার ত্রিমাত্রিক ছবি ও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করবে।
Adrian charters Director chartered Geologist uav pailot জার্মানির তৈরি আট প্রপেলার বিশিষ্ট অক্টোকপ্টার জিইও-এক্স ওই ড্রোন পরিচালনা করছে। ড্রোনটি একাধিকবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে উড্ডয়ন করে তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করেছে।
বিদেশি প্রযুক্তিবিদ ক্রিস্টিনা বিহারী জানান, ড্রোন দিয়ে বাতাসে কী পরিমাণ গ্যাস ভেসে বেড়ায় ও কী পরিমাণ ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি রয়েছে, তা নির্ণয় করা হচ্ছে। এ ছাড়া পরিবেশসংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত ও ছবি সংগ্রহ করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আবুল হোসেন রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম অত্যাধুনিক ড্রোন দিয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের কাজ করা হচ্ছে।’
ড্রোন উড্ডয়নের সময় উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় উৎসুক শত শত জনতা আকাশে ড্রোন ওড়ানোর দৃশ্য উপভোগ করতে গ্যাসফিল্ডের আশপাশে ভিড় জমান।
উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি রাত ১০টায় টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডে প্রথম দুর্ঘটনা ঘটেছিল। আগুনের তাপে ওই দিন গভীর রাতেই গ্যাসফিল্ডের প্রডাকশন কূপের রিগ ভেঙে আগুন ২০০ থেকে ৩০০ ফুট ওঠানামা করছিল। পরে এক মাসেরও বেশি সময় জ্বলার পর নিজে নিজেই নিভে আগুন।
এরপর দ্বিতীয় দফা বিস্ফোরণ ঘটেছিল একই বছরের ২৪ জুন রাত ২টায়। এ দুদফা অগ্নিকাণ্ডে গ্যাসফিল্ডের তিন বিসিক গ্যাস পুড়ে যায় এবং ৫.৮৯ থেকে কমপক্ষে ৫২ বিসিক গ্যাসের রিজার্ভ ধ্বংস হওয়াসহ আশপাশের টেংরাটিলা, আজবপুর, গিরিশনগর, কৈয়াজুরি, টেংরাবাজার এবং শান্তিপুরের মানুষের ঘরবাড়ি, গাছগাছালি ও হাওরের ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 10 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ