বিশ্বে মোবাইলে সাইবার ঝুঁকিতে শীর্ষে বাংলাদেশ

প্রকাশিত: 8:05 AM, February 8, 2016

বিশ্বে মোবাইলে সাইবার ঝুঁকিতে শীর্ষে বাংলাদেশ

109524_untitled_111282প্রান্তডেস্ক:বিশ্বের ২১৩ দেশে সাইবার সিকিউরিটি কোম্পানি ক্যাসপারস্কির ২০১৫ সালের তৃতীয় এবং চূড়ান্ত ল্যাব রিপোর্ট ‘আইটি থ্রেট ইভোলিউশন ইন কিউ থ্রি টু থাউজেন্ড ফিফটিন’ অনুযায়ী মোবাইলে সাইবার ঝুঁকিতে সবার শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ (প্রতি ৪টি ডিভাইসের অন্তত ১টি এখানে ভাইরাসাক্রান্ত)। প্রতিবেদন অনুযায়ী ২১৩টি দেশের মধ্যে কম্পিউটারে ভাইরাসের আক্রমণের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৯তম। আর এসব ভাইরাসের ৬৪.৪৪ শতাংশই স্থানীয় এবং আঞ্চলিক ভাইরাস। সে হিসেবে আঞ্চলিক ভাইরাস সংক্রমণের দিক থেকেও সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান সময়ের সিকিউরিটি থ্রেটের বেশিরভাগই মোবাইল ফোনকেন্দ্রিক আর মোবাইল মেলওয়্যারের সবচেয়ে বেশি হার নিয়ে প্রথম সাইবার ঝুঁকির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের নাম উঠে এসেছে। এ ব্যাপারে ক্যাস্পারস্কি ল্যাবের মেলওয়্যার-বিশেষজ্ঞ টিম আর্মস্ট্রং বলেন, মোবাইল ফোনে মেলওয়্যার ভাইরাস ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে হ্যাকাররা। তিনি বলেন, গত বছরের (২০১৪ সাল) তুলনায় এ বছর (২০১৫ সাল) মোবাইল ফোনে মেলওয়্যার ভাইরাস ছড়িয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সর্বশেষ (ডিসেম্বর ২০১৫) প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৩ কোটি ৩৭ লাখ ২০ হাজার। এর মধ্যে মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫ কোটি ১৪ লাখ ৫৩ হাজার। বাংলাদেশে বড় একটি অংশ মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করার কারণে বিশ্বের সাইবার ক্রিমিনালরা বাংলাদেশের প্রতি বেশি নজর দিচ্ছে। এদিকে থ্রিজির মাধ্যমে দ্রুতগতিতে ব্রাউজিং সেবা পাওয়া ও স্মার্টফোনের মূল্য সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে আসায় সাধারণ মানুষ ভুলে মোবাইল মেলওয়্যারে আক্রান্ত হচ্ছে। মূলত মোবাইল কনটেন্টে সংযুক্ত ভাইরাসই মোবাইল মেলওয়্যার। সাধারণত মোবাইল থেকে কোন ওয়েবসাইট ব্রাউজ করার সময় ‘নিষিদ্ধ’ বিজ্ঞাপন, সিস্টেম স্লো বা এধরণের সতর্কবার্তা প্রদর্শন, কোন গান বা ভিডিও খুঁজতে গেলে ভিন্ন ফরম্যাটের ফাইল দেখানো বা তা নিজ থেকে ডাউনলোড হতে শুরু হওয়া ইত্যাদি মোবাইল মেলওয়্যারের কারণেই হয়ে থাকে। নিরাপত্তা বিষেশজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্ত হ্যান্ডসেটের অবস্থা স্প্যাম ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত কম্পিউটারের মতোই হচ্ছে। বাজারে যেসব অ্যান্টিভাইরাস পাওয়া যাচ্ছে, তা বর্তমানে প্রেরিত স্প্যামগুলোর ভাইরাস থেকে হ্যান্ডসেটকে মুক্ত রাখতে ততোটা সক্ষম নয় বলেও জানান বিষেশজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি ইনফরমেশন সিকিউরিটি সেন্টার (জিটিআইএসসি) থেকে প্রকাশিত বার্ষিক উত্থানশীল সাইবার হুমকি শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, যতবেশি সংখ্যক ব্যবহারকারী স্মার্টফোন ব্যবহার করবেন, ততবেশি অ্যাপ্লিকেশনই আর্থিক লেনদেন ও অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত হতে থাকবে, যার মাধ্যমে সাইবার অপরাধীরা অপরাধ সংঘটনের সুযোগ পাবে আরও বেশি। মোবাইলে অ্যাড সংক্রান্ত মেলওয়্যারের বাইরেও অনেকভাবে ভাইরাস ছড়ানো হচ্ছে। প্রথমদিকে কম্পিউটার ভাইরাসের মতোই একজিকিউটেবল ফাইলরূপে স্প্যামগুলো আসতো যার কারণে সে স্প্যামগুলো শনাক্ত ও ব্লক করা খুবই সহজ ছিল। কিন্তু বর্তমানে এ ঝুঁকিপূর্ণ স্প্যাম বা মেলওয়্যারগুলো আসছে এমপি থ্রি ফাইল, পিকচার বা এ জাতীয় মিডিয়া ফাইলের ছদ্মবেশে, যার কারণে ব্যবহারকারীর জন্য কোনটি স্প্যাম আর কোনটি স্প্যাম নয়, তা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। মেলওয়্যার ট্র্যাক করা ও নিরাপত্তার জন্য সফটওয়্যার তৈরি ও সরবরাহ করা একটি কোম্পানি অ্যাডাপটিভ মোবাইলের কর্মকর্তা কনি জানান, অ্যাডাপটিভ মোবাইল একটি বিশেষ ভাইরাস চিহ্নিত করেছে যার নাম বিসেলো। এটি দুভাবে ছড়াতে পারে। প্রথমত এটি এমএমএস-এর ছদ্মবেশে আক্রমণ করতে পারে। কিংবা ফোনের ব্লুটুথ ওয়্যারলেস প্রযুক্তি ব্যবহার করে সার্চ করলে তখন এটি মোবাইলে প্রবেশ করতে পারে। অ্যাডাপটিভ মোবাইল এ ভাইরাসটিকে বলছে এয়ারবোর্ন ভাইরাস বা বাতাসবাহী ভাইরাস। কনি বলছেন, সাধারণ ব্যবহারকারীদের উচিত হবে কম্পিউটারে ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকার জন্য যে রকম সতর্ক থাকতে হয়, একই সতর্কতা যেন মোবাইল ব্যবহারেও অবলম্বন করা হয়। তিনি বলেন, বর্তমানে কম্পিউটারের নিরাপত্তার জন্য আমরা যা যা করি, মোবাইলের নিরাপত্তার জন্য একইভাবে তার সবই করা উচিত। বিশেষ করে অপরিচিত কারও থেকে আসা অ্যাটাচমেন্ট ফাইল ওপেন করার আগে ভালো করে চিন্তা করে নিন। এছাড়া নিশ্চিত থাকুন যে, আপনার মোবাইলের ব্লুটুথ প্রযুক্তিটি আনডিসকভারেবল (ব্লুটুথ ভিজিবিলিটি অফ) করা আছে। মোবাইলে ভাইরাস ছাড়ানোর দ্রুততম ও আশঙ্কাজনক মাধ্যম হলো অ্যাটাচমেন্ট ফাইল ও ব্লুটুথ ওয়্যারলেস প্রযুক্তি। তবে এফ-সিকিউর নামক ভিন্ন একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান গবেষক বলছেন, মোবাইলে ভাইরাসে ক্রমবৃদ্ধি দিনে দিনে কমে আসছে। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন বর্তমানে মোবাইল ফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো যথেষ্ট সতর্ক এবং তারা প্রতিনিয়ত তাদের নতুন মডেলের হ্যান্ডসেটগুলোর জন্য বিল-ইন সিকিউরিটি সিস্টেম তৈরি করে যাচ্ছে। তবে তিনি বলেন, মোবাইল মেলওয়্যার দ্বারা আক্রান্ত হওয়া না হওয়া সম্পূর্ণটাই নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীর সতর্কতার ওপর। গবেষকদের মতে, এ আশঙ্কা থেকে উদ্ধার ও মোবাইল সিকিউরিটি জোরদার করার জন্য সব মোবাইল ফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান, অপারেটর ও অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপারদের একত্রে কাজ করতে হবে। গড়ে প্রতিটি মোবাইল ডিভাইসের জীবনচক্র মাত্র দুই বছরের, যেখানে প্রতিটি কম্পিউটারের জীবনচক্র প্রায় দশ বছরের। তাই দুই বছরের স্বল্প সময়ে মোবাইল ফোনটিকে নিরাপদ রাখতে মোবাইল ফোনের সিকিউরিটি আরো শক্তিশালী করা জরুরি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 3 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ