শিক্ষার্থীরা যেন বিভ্রান্তির পথে না যায় :প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: 6:05 AM, February 5, 2016

শিক্ষার্থীরা যেন বিভ্রান্তির পথে না যায় :প্রধানমন্ত্রী

109524_untitled_111282প্রান্তডেস্ক:প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীরা যাতে জঙ্গিবাদের মতো বিভ্রান্তির পথে না যায় সেজন্য শিক্ষক-অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলাম ধর্ম কখনোই সুইসাইড করতে বলেনি। যে সুইসাইড করবে, সে দোজখে যাবে। ইসলাম ধর্মের নামে সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদী কার্যক্রম- এটা কারো কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। কেউ যেন ইসলামের নামে সন্ত্রাস সৃষ্টি করতে না পারে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ-২০১৬ উদ্বোধন ও পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন। তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ এবং মাদকের সঙ্গে যেন কোনোভাবেই শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ না ঘটে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সদা সতর্ক থাকতে হবে। মাদ্রাসা, মসজিদ ও সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও এ বিষয়ে শিক্ষা প্রদান করতে হবে। আমাদের ছেলেমেদের যেন কেউ বিভ্রান্ত করতে না পারে।
স্কুলের শিক্ষার্থীদের ঝরেপড়া রোধে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজ দায়িত্বে নিজ নিজ এলাকার শিক্ষা কার্যক্রম উন্নত করার জন্য শিশুদের মিড ডে মিল কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, সমাজের সামর্থ্যবান বিদ্যানুরাগী ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদ, শিক্ষক-অভিভাবকরা এগিয়ে এলে আর কারও মুখাপেক্ষী হতে হবে না। আমরা কারো মুখাপেক্ষী হতে চাই না।
শেখ হাসিনা শিশুদের স্কুলে চলমান মিডডে’ টিফিনের মানোন্নয়নেরও প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবনের লালিত স্বপ্ন ছিল ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্যে তিনি যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন গঠন করেন। তিনি বলেন, কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু ৩৬ হাজার ১৬৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ এবং ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭২৪ জন শিক্ষকের পদ সরকারিকরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একদিকে তিনি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন করেন, অন্যদিকে একটি পূর্ণাঙ্গ সংবিধান রচনা করে প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করে নারীদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অবৈতনিক করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করার ৪০ বছর পর আমি ২০১৩ সালে দেশের ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেছি। সেদিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ লাখ ৩ হাজার ৮৪৫ জন শিক্ষকের চাকরি সরকারিকরণের ঘোষণা দিয়েছিলাম। আমরা ঘোষিত পদের চেয়ে ৫ হাজার বাড়িয়ে ১ লাখ ৮ হাজার ২০০ শিক্ষকের চাকরি সরকারি করেছি।
প্রধানমন্ত্রী বিগত ৭ বছরে শিক্ষা-স্বাস্থ্য উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে বলেন, আমরা গত ৭ বছরে মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে ১৯৩ কোটি বই বিতরণ করেছি। পৃথিবীতে বিনামূল্যে এত বিপুল পরিমাণ বই সরবরাহের আর কোন নজীর আছে কি না আমার জানা নেই। তিনি বলেন, এবারও পহেলা জানুয়ারী ২০১৬ তারিখে দেশব্যাপী ‘বই উত্সব’ হয়েছে এবং মাধ্যমিক পর্যন্ত ৪ কোটি ৪৪ লক্ষ ১৬ হাজার ৭২৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে ৩৩ কোটি ৩৭ লক্ষ ৬২ হাজার ৭৭২টি নতুন পাঠ্যবই বিতরণ করা হয়েছে। এ বছর শুধু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে ১০ কোটি ৮৭ লক্ষ ১৯ হাজার ৯৯৭টি বই বিতরণ করা হয়েছে।
৪৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘বাংলাদেশ স্বাক্ষরতা কর্মসূচি’ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ ২০১৪ সালে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করি। সহকারী শিক্ষকের বেতন একধাপ বাড়ানোর প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, শিক্ষকতা মহান পেশা। তাদের সম্মান অনেক উপরে। এখনও আমি আমার শিক্ষকদের যেখানে পাই সম্মান জানাই। তিনি বলেন, জাতির পিতা প্রায়ই বলতেন ‘সোনার বাংলা গড়ার জন্য সোনার মানুষ চাই’। আপনারা হচ্ছেন সেই মানুষ গড়ার কারিগর। আপনারা পারেন-নীতি ও মূল্যবোধের চর্চা শিখিয়ে দেশের প্রতিটি শিশুকে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে।
পদক প্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্জিত পদক আগামী দিনে ‘সোনার মানুষ’ হিসেবে গড়ে ওঠার উত্সাহ ও প্রেরণা যোগাবে। প্রধানমন্ত্রী সারাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা, ক্রীড়া এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১০৬ জনকে ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০১৫’ তে ভূষিত করেন। বিজয়ীদের হাতে প্রধানমন্ত্রী ক্রেস্ট, সনদপত্র এবং উপহারের চেক তুলে দেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান। বক্তৃতা করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি মোতাহার হোসেন, মন্ত্রণালয়ের সচিব হুমায়ুন খালেদ ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আলমগীর। প্রধানমন্ত্রীর হাতে ক্রেষ্ট তুলে দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 6 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ