বাংলাদেশে জিকা ভাইরাস নির্ণয়ে পুরনো রক্তের নমুনা পরীক্ষা

প্রকাশিত: 5:57 AM, February 5, 2016

বাংলাদেশে জিকা ভাইরাস নির্ণয়ে পুরনো রক্তের নমুনা পরীক্ষা

109524_untitled_111282প্রান্তডেস্ক: বাংলাদেশে কখনও জিকা ভাইরাস ছিল কি না তা খতিয়ে দেখতে জাতীয় রোগ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইইডিসিআর-এ সংরক্ষিত রক্তের নমুনা ফের পরীক্ষার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাংলাদেশে জিকা ভাইরাস ঠেকাতে করণীয় নিয়ে বৃহস্পতিবার একটি টেকনিক্যাল কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি এই ভাইরাস যাতে দেশে ঢুকতে না পারে সেজন্য বিমানবন্দরে পরীক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক একেএম শামসুজ্জামান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এর আগে আইইডিসিআর-এর রক্তের নমুনা পরীক্ষায় ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ক্ষেত্রে ‘নেগেটিভ’ এসেছিল। তবে এডিস এজিপ্টি মশাবাহিত এই ‍দুই রোগ বাংলাদেশে রয়েছে। একই প্রজাতির মশা জিকা ভাইরাস ছড়ানোয় এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ বিষয়ে জরুরি অবস্থায় ঘোষণা করায় বৈঠকে ওই সব রক্তের নমুনা ফের জিকা ভাইরাসের জন্য পরীক্ষার সিদ্ধান্ত হয়। “জিকা পরীক্ষার ব্যবস্থা আমাদের রয়েছে,” বলেন অধ্যাপক শামসুজ্জামান। জিকা ভাইরাস প্রতিরোধের সব দিক নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয় বলে জানান তিনি। মশা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্বের কথা তুলে ধরে এক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করা হয়েছে। জিকা ভাইরাসের কারণে ব্রাজিলে হাজারো শিশুর ত্রুটি নিয়ে জন্ম হয়েছে। এই ভাইরাস ঠেকাতে নজরদারি জোরদারের পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ব্রাজিলে এই ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দেওয়ার পর দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়েছে। গত এক বছরে তিন থেকে চার কোটি মানুষ এতে আক্রান্ত হয়েছেন বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে। ১৯৪৭ সালে উগান্ডায় প্রথম জিকা ভাইরাস ধরা পড়ে। এতে সাধারণত হালকা জ্বর, চোখে লাল হওয়া বা কালশিটে দাগ পড়া, মাথা ব্যথা, হাড়ের গিঁটে ব্যথা ও চর্মরোগের লক্ষণ দেখা যায়। এই ভাইরাস সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হয়ে এসেছে নবজাতকদের নিয়ে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, গর্ভবতী মা জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তার অনাগত শিশুর মাথা স্বাভাবিকের চেয়ে ছোট হতে পারে, মস্তিষ্কের গঠন থাকতে পারে অপূর্ণ। এ রোগকে বলে মাইক্রোসেফালি। এর ফলে আক্রান্ত শিশু ‘বুদ্ধি প্রতিবন্ধী’ হতে পারে; কোনো কোনো ক্ষেত্রে অবিকশিত মস্তিষ্ক শিশুর মৃত্যুরও কারণ হতে পারে। তবে জিকা ভাইরাস ঠিক কীভাবে গর্ভের শিশুর এই ক্ষতি ঘটায় তা এখনো উদ্ঘাটন করা যায়নি। এই রোগের কোনো ওষুধ বা প্রতিষেধক নেই। এটা আমেরিকান দেশগুলোতে এমন আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে যে, কলাম্বিয়া, ইকুয়েডরসহ বেশ কয়েকটি দেশে দম্পতিদের ‘গর্ভধারণ’ পেছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অতীতে থাইল্যান্ড ও মালদ্বীপে এই ভাইরাস আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে জানিয়ে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ড. পুনম ক্ষেত্রপাল সিং। রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের লাইন ডিরেক্টর বলেন, “জিকার পোষক মশা আমাদের এখানে থাকায় কেউ এই ভাইরাস নিয়ে এখানে এলে তা ছড়িয়ে পড়তে পারে।” এটা ঠেকাতে বিমানবন্দরে রক্তের নমুনা পরীক্ষার কথা ভাবা হচ্ছে বলে জানান তিনি। এডিস মশা বাড়ি-ঘর ও এর আশপাশের পানিতে বংশবিস্তার করায় তা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি প্রধানত জনসাধারণের ওপর নির্ভর করবে। মশা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনে মানুষের বাড়ি-ঘরের ভিতরে গিয়ে কীটনাশক ব্যবহারের সুযোগ দিতে ব্রাজিলে একটি আইন পাশ হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 6 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ