জানুয়ারিতে দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন: শিশুসহ হতাহত ২৫৯

প্রকাশিত: 7:40 AM, February 2, 2016

প্রান্তডেস্ক: নতুন দিনের স্বপ্ন নিয়ে নতুন বছরকে বরণ করেছে মানুষ। কিন্তু বছরের প্রথম মাসেই দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় আহত ও নিহত হয়েছে শিশুসহ ২৫৯২ জন নারী-পুরুষ।
বেড়ে গেছে শিশু অপহরণ,যৌতুকের কারণে নারী নির্যাতন, হত্যা ও আত্মহ্ত্যার ঘটনাও। রাজনৈতিক ও সামাজিক কোন্দলের কারণে বেড়েছে এ হতাহতের সংখ্যা। দেশের সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয় বলে মনে করে দেশের অন্যতম মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা। সংস্থার সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানুয়ারির পুরো মাস জুড়েই ছিল পারিবারিক কোন্দলে আহত ও নিহতের নানা ন্যক্কারজনক ঘটনা। গৃহকর্মী নির্যাতন ও খুন, নারী নির্যাতন, পারিবারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সহিংসতা, অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার, ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর কর্তৃক নিরীহ মানুষ হত্যা। দেশের রাজনৈতিক অবক্ষয়ের সঙ্গে মানুষের সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়েরও স্খলন ঘটেছে মারাত্বক। বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার জানুয়ারি মাসের মনিটরিং-এ পাওয়া তথ্য-উপাত্ত থেকে দেখা যায়, গত মাসে যৌতুকের জন্য প্রাণ দিতে হয়েছে ৫ জন নারীকে এবং মারাত্মক আহত হয় ৯ জন নারী। মুন্সিগঞ্জে যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে বোতল দিয়ে পিটিয়ে জখম করে এক স্বামী। এর মধ্যে যৌতুকের জন্য আহত ও নিহতের সংখ্যা বেশী ঘটে ঢাকায়, মোট ৬ জন, আহত (৩) নিহত (৩)। তাছাড়া রাজশাহীতে নিহত হয় ২ জন। পারিবারিক কলহে চলতি মাসে নিহত হয় ২৫ জন ও আহত হয় ১২ জন।পারিবারিক কলহের জের ধরে ইকবাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি নিজের ভাই বোনের তিন সন্তানকে পুড়িয়ে মারে।নারায়ণগঞ্জে পারিবারিক কলহের কারণে একই পরিবারের পাঁচ জনকে গলা কেটে হত্যা করে এক ব্যাক্তি।
গত মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৮ জন নারী,গণধর্ষণের শিকার হয় ৪ জন ও ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ১ জনকে। এই মাসে ১ জন শিশুধর্ষিত হয়। নোয়াখালীতে একই সঙ্গে ২ বোন গণ ধর্ষণের শিকার হয়। নান্দাইলে বাসে চালক দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয় এক নারী। এছাড়া, গত মাসে কথিত ক্রস ফায়ারের নামে মৃত্যু হয় ৬ জনের, এর মধ্যে পুলিশের ক্রস ফায়ারে নিহত হয় ৪ জন , র‌্যাব কর্তৃক ১ জন ও অন্যান্য বাহিনী কর্তৃক ১ জন। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যু হয় ১ জনের। আর আত্মহত্যা করেছে ৭জন পুরুষ ও ২৬ জন নারী। এর মধ্যে ঢাকাতেই আত্মহত্যা করে ১৪ জন নারী। বাকী ঘটনাগুলো ঘটে বরিশাল, রাজশাহী, খুলনা ও রংপুরে।পারিবারিক দ্বন্ধ, প্রেমে ব্যর্থতা ও যৌন হয়রানীর কারণে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়।
আর সারা দেশে সন্ত্রাসী কর্তৃক নিহত ৬৭ জন ও আহত হয় ৭৩ জন। তুচ্ছ ঘটনায় খুনের ঘটনা বেড়ে গেছে অনেক। ১১ জানুয়ারি প্রাইভেটকার ভাড়া করে গ্রামের বাড়ি গিয়ে টাকা না দিয়ে চালককে হত্যা করে পালায় তিন যুবক। কেরানীগঞ্জে হিন্দুদের এক মেলায় সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে ঝনাটুদাস নামে এক যুবক নিহত হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রামে সন্ত্রাসী কর্তৃক হতাহতের সংখ্যা বেশী। সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অবনতি, অদক্ষ চালক, পরিবহন ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনা এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে ১৬৪ জনের মৃত্যু ঘটেছে,অহত হয়েছে ৫৬৮ জন।
গত ১০ জানুয়ারি ঘন কুয়াশার কারণে বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর পৃথক সড়ক দূর্ঘটনায় ভুমিমন্ত্রীর ছেলে সহ নিহত হয় সাত জন। আহত হয় সাংবাদিক সহ ৪৬ জন। তাছাড়া মাদকের প্রভাবে বিভিন্নভাবে আহত হয়েছে ১২ জন ও নিহতের সংখ্যা ৯ জন। তাছাড়া পানিতে ডুবে, অসাবধানবসত, বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে ৫৪ জন। এ মাসেও চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু হয় ২জনের। চলতি মাসে বিরোধী রাজনৈতিক দলকে নিয়ন্ত্রনের জন্য রাজনৈতিক অজুহাতে গণগ্রেফতার হয়েছে ৬৩২ জনেরও বেশী। বিদ্যমান মানবাধিকার লংঘন অব্যাহত থাকলে একদিকে যেমন দেশের অগ্রগতি ব্যাহত হবে অন্যদিকে সুশাসন প্রতিষ্ঠার যে অঙ্গিকার তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও দেশের ভাবমর্যাদা ক্ষুণœ হবে। সংস্থা আরো মনে করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারা সবচেয়ে বেশী মানবাধিকার লংঘন হয়। আইন শৃংখলা বাহিনীকে আরো মানবিক আচরণ করার অনুরোধ জানানো হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 7 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ