জাপার দুই পক্ষই সরকারের পক্ষে!

প্রকাশিত: 7:19 AM, February 2, 2016

জাপার দুই পক্ষই সরকারের পক্ষে!

109524_untitled_111282প্রান্তডেস্ক:জাতীয় পার্টির (জাপা) বিবদমান দু’পক্ষই সরকারের পক্ষে। দু’পক্ষই সরকারের ‘সহায়তায়’ দলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে। জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অনুসারীরা মন্ত্রিসভা ছাড়ার কথা বললেও, সরকারের জন্য ক্ষতিকর এমন কিছু করবেন না তারা। দু’পক্ষই সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে। উভয় পক্ষের নেতারা সমকালকে এসব তথ্য জানান।
গত সংসদ নির্বাচনের আগে থেকেই জাপা এরশাদ ও রওশন দুই শিবিরে বিভক্ত। এর মধ্যে গত ১৭ জানুয়ারি জিএম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান করেন এরশাদ। এ নিয়োগ নিয়ে বিরোধ চরমে। এমনকি মহাসচিব পদে রদবদল করেছেন এরশাদ। রওশনপন্থিরা সরকারের সমালোচক জিএম কাদেরের নিয়োগের ঘোর বিরোধী। তারা আওয়ামী লীগপন্থি জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুকে সরিয়ে এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদারকে মহাসচিব পদে ফিরে আনারও বিরোধী। রওশন শিবিরের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আওয়ামী লীগপন্থি নেতারা। এরশাদ শিবিরের নেতৃত্ব দিচ্ছেন নির্বাচন বর্জনকারীরা।
নির্বাচন বর্জনকারী জিএম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান করার পর জাপার সরকারপন্থি বলয় থেকে বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছিল। তবে এরশাদ নিজেই এ সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনিও এখন নমনীয় সুরে কথা বলছেন। সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে মন্ত্রিসভা ছাড়ার কথা বলছেন। জানিয়েছেন, সহসাই সরকার ছাড়বে না জাপা। মন্ত্রিসভা ছাড়লেও তার দল সংসদ বর্জন করবে না। মধ্যবর্তী নির্বাচনেরও দাবি জানাবে না।
তিনি চান, বর্তমান সরকার মেয়াদ পূর্ণ করুক। প্রধানমন্ত্রীকে পুরো বিষয়টি অবহিত করেই বিশেষ দূতের পদ ছাড়তে চান এরশাদ। এসব বক্তব্য তুলে ধরতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চেয়েছেন। গত ১৯ জানুয়ারি এরশাদ নিজেই জানান, প্রধানমন্ত্রীর সময় চেয়েছেন।
এরশাদ সাক্ষাৎ না পেলেও রওশন এরশাদ গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর দেখা পান। দু’জন একান্তে বৈঠক করেন। তবে রওশনের অনুসারীদের দাবি, বিরোধীদলীয় নেতাও প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেছেন, সরকারের জন্য ক্ষতিকর হয় এমন কিছু করবে না জাপা।
তবে রওশনপন্থিদের শঙ্কা, মন্ত্রিসভা ছাড়ার পর এরশাদ ধীরে ধীরে সরকারবিরোধী অবস্থানে চলে যেতে পারেন। জাপার ৪০ সদস্যের সংসদীয় দলের প্রায় ৩০ জনের বেশি রওশনের পক্ষে। তাদের অভিমত, সরকারবিরোধী অবস্থান নিলে এমপিদের ‘ক্ষতি’ হবে। সরকারের পক্ষে থাকায় বিরোধী দলের আসনে বসেও সরকারি দলের এমপিদের সমান ‘সুযোগ-সুবিধা’ পাচ্ছেন তারা। ‘সত্যিকারের’ বিরোধী দল হতে চাইলে এসব ‘সুযোগ-সুবিধা’ থাকবে না।
আবার এরশাদ সরকারের সঙ্গে বেশি ঘনিষ্ঠ হলে রওশনের অনুসারীদেরও মূল্যায়ন থাকবে না সরকারের কাছে। ঢাকার রওশনপন্থি এক এমপি এসব কথা বলেন।
গত রোববার জাপার প্রেসিডিয়ামের সভা বর্জন করেন রওশনপন্থিরা। সভায় উপস্থিত এরশাদপন্থি নেতাদের সবাই জাপাকে ‘সত্যিকারের’ বিরোধী দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সরকার ছাড়ার পক্ষে মত দেন। তবে সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নেরও তাগিদ দেন তারা। একাধিক নেতা এ তথ্য জানান।
সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি সভায় বলেন, মন্ত্রিসভায় থেকে দলের লাভ হচ্ছে না। এমপিরাও এলাকার জন্য বিশেষ কোনো সুবিধা পাচ্ছেন না। তাই সরকারের সঙ্গে কথা বলে মন্ত্রিসভা থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। অন্য প্রেসিডিয়াম সদস্যরাও সরকারের সঙ্গে কথা বলে মন্ত্রিসভা ছাড়ার অভিমত দেন।
জাপার মহাসচিব রুহুল আমীন হাওলাদার স্পষ্ট করেন, সরকারের সঙ্গে বিরোধে যেতে চান না। তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়ন, অগ্রগতি, কল্যাণের সঙ্গে থাকবে জাপা। সরকারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয় এমন কিছু করবে না। বর্তমান সরকার ও সংসদের কড়া সমালোচক ছিলেন জিএম কাদের। চলতি মাসের শুরুতেও পঞ্চগড় জেলা সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, দশম সংসদ অবৈধ। এর আগে বলেছিলেন, জাপার বিরোধী দলের আসনে বসে সরকারে থাকা অসাংবিধানিক।
তবে রোববারের প্রেসিডিয়াম সভায় সরকারের প্রশ্নে একেবারেই নমনীয় ছিলেন জাপার ভবিষ্যৎ নেতা জিএম কাদের। উপস্থিত নেতারা জানান, সভায় এরশাদের ভাই বলেন, ‘জাপার বর্তমান যে শক্তি-সামর্থ্য তাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি করে লাভ নেই।’ বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে জিএম কাদের বলেন, ‘অন্যদের লাভ হবে এমন কিছু করব না।’ এতে সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির আশঙ্কাও করেন তিনি।
জিএম কাদের বলেন, ‘আমরা সরকারের পতন চাচ্ছি না। বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন করতে চাচ্ছি। সরকারে থেকে এ দায়িত্ব পালন করা যায় না। এ কারণে জাপা সরকারি না বিরোধী দল, তা সাধারণ মানুষের কাছে অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে।’ মন্ত্রিসভা ছাড়ার পর সংসদ বর্জনের পরিকল্পনা নেই বলে জানান জিএম কাদের। তিনি বলেন, ‘আমাদের এমপিরা সংসদে সরকারকে জবাবদিহিতার মধ্যে আনবে। সংসদ বর্জন করবে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 4 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ