বর্ষবরণে যৌন হয়রানি : স্বীকারোক্তি দেননি কামাল

প্রকাশিত: 8:38 AM, February 1, 2016

বর্ষবরণে যৌন হয়রানি : স্বীকারোক্তি দেননি কামাল

109524_untitled_111282প্রান্ত ডেস্ক:গত বছরের পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মোড়ে তরুণীকে যৌন হয়রানির ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়ে রিমান্ডে থাকা নিপীড়ক কামাল হোসেন (৩৪) শেষ পর্যন্ত স্বীকারোক্তি দেননি। নারী লাঞ্ছনার ঘটনার পর সিসিটিভি ক্যামেরায় শনাক্তকৃত আটজনের মধ্যে সে একজন। দুই দিনের রিমান্ড শেষে আজ রবিবার ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-পরিদর্শক দীপক কুমার দাস আসামি কামাল হোসেনকে ঢাকার মহানগর হাকিম নুরু মিয়ার আদালতে হাজির করে এক প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, আসামি রিমান্ডে থাকাকালীন সময়ে ওই ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার বিষয়ে স্বীকার করেছে। সে আদালতে স্বীকারোক্তি দিতে ইচ্ছুক বিধায় আসামির স্বীকারোক্তি রেকর্ড করা হোক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আসামি কামাল জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। গত ২৭ জানুয়ারি রাতে পুরান ঢাকার চকবাজারে খাজী দেওয়ান প্রথম লেনের ৭৭ নম্বর বাড়ি থেকে কামালকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাঁকে ৫৪ ধারার মামলায় মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে ডিবি পুলিশ। আবেদনে বলা হয়, তথ্য-প্রযুক্তির সহযোগিতা নিয়ে কামালকে শনাক্ত করা হয়েছে। ক্লোজ সার্কিট টিভি ক্যামেরা (সিসিটিভি) ধারণ করা ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা আটজনের মধ্যেই রয়েছেন এই কামাল। সে নিজ এলাকায় কাঁচামালের ব্যবসা করেন। ঘটনার দিন বিকেলে টিএসসি এলাকায় আসেন বলে দাবি করেন। ঘটনার সময় কামাল একটি সাদা রঙের (মাঝে কালো চেক) পাঞ্জাবি পরে ছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে ঘটনাটি পরিকল্পিত নয় বলে দাবি করেছেন কামাল। কামাল বলছেন, কৌতূহলে বা হুজুগে তিনি অপকর্মটি করেছেন। নিপীড়নে অংশ নেওয়া অন্য যুবকদের চেনেন না। শুনানি শেষে তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। গত বছরের ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের উৎসবের দিন সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় ভিড়ের মধ্যে একদল যুবক নারীদের ওপর চড়াও হয়। প্রথমে পুলিশ ঘটনাটি এড়াতে চাইলেও বিভিন্ন ছাত্র ও নাগরিক সংগঠনের দাবির মুখে এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ১০ ধারা মোতাবেক মামলাটি দায়ের করেন শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ। মামলা নম্বর-২৫। এরপরে ১৭ মে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ছবি দেখে আট নিপীড়ককে চিহ্নিত করার কথা জানান পুলিশ প্রধান এ কে এম শহীদুল হক। তাঁদের ধরিয়ে দিতে এক লাখ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করেন তিনি। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির এসআই দীপক কুমার দাস গত ১৩ ডিসেম্বর ঢাকার আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে বলেন, পুলিশ অপরাধী কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি। এ ব্যাপারে তদন্ত কর্মকর্তা দীপক কুমার দাস কালের কণ্ঠকে বলেন, মামলাটি দায়ের হওয়ার পর তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর দীর্ঘ আট মাস তদন্ত করেও আসামি শনাক্ত করা যায়নি। সিসিটিভি ক্যামেরায় শনাক্ত আটজনের ছবি গণমাধ্যমে প্রচারের পরও কোনো সাড়া মেলেনি। এ কারণে মামলাটিতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। তবে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ভবিষ্যতে যদি কোনো তথ্য পাওয়া যায় বা আসামি ধরা পড়ে তখন আদালতের অনুমতিসাপেক্ষ মামলাটি পুনরায় তদন্ত করবে ডিবি। এরই মধ্যে গোপন সূত্রের খবর এবং তথ্য-প্রযুক্তির বিশ্লেষণ করে কামালের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। পরে তাকে ৫৪ ধারায় আটক করা হয়। প্রসঙ্গত, বর্তমানে আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় ফের মামলাটির তদন্তকাজ চালু করার আবেদন করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। আগামি ২৩ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 9 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ