ইউপি নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হলেই বহিষ্কার

প্রকাশিত: 7:25 AM, January 31, 2016

ইউপি নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হলেই বহিষ্কার

109524_untitled_111282প্রান্ত ডেস্ক:আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলেই তাকে দল থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় ও ইউপি চেয়ারম্যান পদে মাঠে একক প্রার্থী রাখতে এমন কঠোর অবস্থান নিয়েছে দলটি।
জানা গেছে, যোগ্যপ্রার্থী বাছাইয়ে সারাদেশে আওয়ামী লীগের জরিপ চলছে। ইতিমধ্যে উপকূলীয় এলাকায় দলের সাংগঠনিক জরিপ সম্পন্ন হয়েছে। জরিপে বের হয়ে এসেছে, ইউপি এলাকায় গড়ে ৭/৮ জন করে দলীয় নেতা চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী। তবে অধিকাংশই দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে একক প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে চান।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, পৌর নির্বাচনের মতো আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনেও দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। বিদ্রোহীদের ঠাঁই আওয়ামী লীগে হবে না। দলীয় রাজনীতি করলে দলের সিদ্ধান্ত সবাইকে মানতে হবে।
সূত্র জানায়, যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে তৃণমূলে চলছে তিন স্তরের জরিপ। তফসিল ঘোষণার পর তৃণমূল আওয়ামী লীগ একক প্রার্থীর নাম পাঠাবে কেন্দ্রে। এরপর তিন স্তরের জরিপ ও তৃণমূলের প্রস্তাব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে একক প্রার্থী ঘোষণা করবে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্ট মনোনয়ন বোর্ড। এ বোর্ডের প্রধান থাকবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। গত ১৯ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই কমিটিতে থাকবেন জেলা, উপজেলা ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকেরা। পৌরসভার নির্বাচনের অভিজ্ঞতার আলোকে এবং জাতীয় নির্বাচনে নিজেদের মধ্য দ্বন্দ্ব যাতে সৃষ্টি না হয় সেজন্য প্রার্থী বাছাই কমিটিতে সংসদ সদস্যদের রাখা হয়নি।
এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সিনিয়র একজন নেতা জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অনেকেই প্রার্থী হতে চান। সংসদ সদস্যরা কোনো একজনের পক্ষ নিলে অন্যরা জাতীয় নির্বাচনে তাদের বিরোধিতা করতে পারেন। তাছাড়া পৌরসভা নির্বাচনে ৬৯ জন বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে থাকার পেছনে সংসদ সদস্যদের সম্পৃক্ততা ছিল বলেও মনে করে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। প্রসঙ্গত, উল্লিখিত ৬৯ বিদ্রোহীকে নির্বাচনের আগেই সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছিল। এরমধ্যে ১৯ জন পৌর মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তারপরও জয়ী-পরাজিত সব বিদ্রোহীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার কেন করা হবে না এই মর্মে গত সপ্তাহে শোকজ পাঠানো হয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব পাওয়া না গেলে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার হবেন বিদ্রোহীরা।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী সংগঠন। ফলে এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও বেশি হয়। ইউপি নির্বাচনেও তার ব্যত্যয় ঘটবে না। তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাবেন না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 15 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ