পণ্যের বাজার খুুঁজুন, ব্যবসা সম্প্রসারণে এগিয়ে আসুন

প্রকাশিত: 5:43 AM, January 31, 2016

পণ্যের বাজার খুুঁজুন, ব্যবসা সম্প্রসারণে এগিয়ে আসুন

109524_untitled_111282প্রান্ত ডেস্ক:প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ ব্যবসাবান্ধব সরকার। এ সরকার ব্যবসা করার সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছে। ব্যবসায়ীদের পণ্যের বাজার খুঁজতে হবে। ব্যবসা সম্প্রসারণে এগিয়ে আসতে হবে। দেশের সমুদ্র সম্পদ উদ্ধার করে, প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানির ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি বলেন, চট্টগ্রামে দেশের প্রথম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে ব্যবসা চট্টগ্রামে চলে আসবে।
গতকাল শনিবার বিকালে চট্টগ্রামে দেশের প্রথম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উদ্বোধন ও চট্টগ্রাম চেম্বারের শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম চেম্বারের উদ্যোগে নির্মিত ২৫তলা বিশিষ্ট ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমদ, শতবর্ষ উদ্যাপন কমিটির চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি এমএ লতিফ এবং চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বের অনেক বড় বড় শহরের ন্যায় চট্টগ্রামেও ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার নির্মিত হওয়ায় উন্নত দেশগুলোর কাতারে সামিল হওয়ার ক্ষেত্রে একধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, কদমতলী ফ্লাইওভার ও বাইপাস এবং রিং রোড নির্মাণের কাজও উদ্বোধন করা হলো। একইসাথে লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলো।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের সাথে আমার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। ছোট বেলা থেকে চট্টগ্রামের সাথে নিবিড় সম্পর্ক। চট্টগ্রাম আমার দ্বিতীয় বাড়ি হিসেবে পরিচিত।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ করছি এতে কর্ণফুলীর দুই পাড়ে সাংহাইয়ের আদলে ওয়ান সিটি টু টাউন হিসেবে গড়ে উঠবে। গত সাত বছরে চট্টগ্রামে নতুন নতুন সড়ক ও ফ্লাইওভার নির্মাণসহ এ নগরীর যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত খাতে ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ের চার লেন কাজ শেষ হয়েছে। এটি ৮ লেনও করা হবে। চট্টগ্রাম বন্দর এ বছর ২০ লক্ষ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করেছে। বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ বে-টার্মিনাল নির্মাণের কাজ শুরু করতে যাচ্ছি। চট্টগ্রামের গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি করতে মহেষখালীতে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু করেছি। মহেষখালীতে ১৩ শত ২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপন করছি। বন্দর সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে শিল্পায়নের লক্ষ্যে মিরসরাইয়ে ১টি এবং আনোয়ারায় ২টি স্পেশাল ইকোনমিক জোন স্থাপনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, শুধু চট্টগ্রামে নয়, আমরা গত সাত বছরে দেশব্যাপী যে উন্নয়ন করেছি তা ইতিপূর্বে কোন সরকার করতে পারেনি। বাংলাদেশ আজ তলাবিহীন ঝুঁড়ি নয়। আমাদের আজ অন্যের কাছে হাত পাততে হয় না। নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই পরিবর্তন করছি। বর্তমানে আমরা ৭২৯টি পণ্য বিশ্বের ১৯২টি দেশে রপ্তানি করছি।
তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নের কাজ শতকরা ৯০ ভাগ নিজেদের অর্থে করা হচ্ছে। আমরা অন্যের ওপর নির্ভর করতে চাই না। এজন্য ব্যবসায়ীদের যথাসময়ে ট্যাক্স দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার যেকোন দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির প্রতীক। এ সেন্টারে দেশের সকল রপ্তানি পণ্য এক ছাতার নিচে প্রদর্শনের ব্যবস্থা রয়েছে। যা এক অসাধারণ কাজ। এটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। এর জন্য চট্টগ্রাম চেম্বার নেতৃবৃন্দকে প্রধানমন্ত্রী ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে শতশত বছরের ঐতিহ্যের অধিকারী। আরব, চীন, পর্তুগিজ, স্প্যানিশ ও ব্রিটিশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বণিকরা চট্টগ্রামে এসে ব্যবসা-বাণিজ্য করেছে। ১৯০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম চেম্বার এই শহরের ঐতিহ্যের অন্যতম অংশীদার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সারাবিশ্ব হাতের মুঠোয়। আওয়ামী লীগ সরকার এটা সম্ভব করেছে। আমার একটি লক্ষ্য বাংলাদেশের উন্নয়ন করা। তিনি বলেন, গ্রামের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতি করার জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়লে ব্যবসায়ীরা নিজেদের পণ্য অভ্যন্তরীণ বাজারে বিক্রি করতে পারবে। বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমার নিয়ে ইকোনমিক করিডোর করা হয়েছে। নেপাল, ভারত, ভুটান ও বাংলাদেশ নিয়ে যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিগত সময় বিএনপি জামায়াত জ্বালাও-পোড়াও ও অবরোধের নামে দেশের অর্থনীতির চাকা বন্ধ করতে পারেনি। আমরা প্রতিরোধ করেছি। দেশের অর্থনীতি সচল রেখেছি। সরকারের ধারাবাহিকতা না থাকলে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়।
তিনি বলেন, এই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার চট্টগ্রামসহ দেশের সার্বিক ব্যবসা-বাণিজ্য তথা অর্থনৈতিক উন্নয়নে তাত্পর্য ভূমিকা রাখবে।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, চট্টগ্রাম দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আগামীতেও সকল উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমদ বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চট্টগ্রামে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। যা পূর্বে দেখা যায়নি।
প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম পৌঁছে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে অনুষ্ঠান শেষে সিডিএ কর্তৃক গৃহীত কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প এবং কুয়াইশ এলাকায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর বৃহত্ একটি ম্যুরাল উদ্বোধন করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 13 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ