প্রেষণে নিয়োগ বন্ধের প্রতিশ্রুতি

প্রকাশিত: 8:37 AM, January 29, 2016

প্রেষণে নিয়োগ বন্ধের প্রতিশ্রুতি

1452232811প্রান্ত ডেস্ক:প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ২৬ ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রেষণে নিয়োগ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এখন থেকে কোনো ক্যাডারের নিজস্ব পদে অন্য ক্যাডারের কোনো কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে না মর্মে তারা প্রতিশ্রুদত দেন। ক্যাডার-সংশ্লিষ্ট পদগুলোতে কেবল নিজ নিজ ক্যাডারের কর্মকর্তাদেরই পদায়ন করা হবে। বর্তমানে যারা প্রেষণে আছেন, তাদের অনেককে প্রত্যাহার করা হবে। যাদের মেয়াদ এখনও শেষ হয়নি, মেয়াদপূর্তিতে তাদের নিজ ক্যাডারে ফিরিয়ে আনা হবে। ফলে হাসপাতাল, শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, কৃষি, প্রকৌশলসহ ২৬ ক্যাডারের গুরুত্বপূর্ণ পদে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নিয়োগের দরজা খুলে যাবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার বেতন নিরসনে গঠিত কোর কমিটির বৈঠকে এ প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হেলাল উদ্দিন অংশ নেন। সভায় প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি, সদস্য সচিব মো. ফিরোজ খান, সদস্য অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হাসান, অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান, প্রকৌশলী কবির আহমেদ ভূঁইয়া, প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর, মো. মোবারক আলী, স ম গোলাম কিবরিয়া, অধ্যাপক নাসরীন বেগম, আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার, খায়রুল আলম প্রিন্স উপস্থিত ছিলেন।
এই বৈঠকে মূলত টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড তুলে দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ক্যাডারদের পদোন্নতি নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে তার সমাধান নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিকল্প উপায়ে কীভাবে তাদের পদোন্নতির বিষয়টি স্পষ্ট করা হবে তা বৈঠকে জানানো হয়। নেতারা নিজ নিজ ক্যাডারে প্রেষণে নিয়োগ বাতিলের পরামর্শ দেন। বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, নিজস্ব কিছু পদ ছাড়া অন্য ক্যাডার পদে প্রেষণে নিয়োগ বাতিল করা হবে। নতুন পদ সৃষ্টি না করেই পুরনো পদ সমন্বয় করে উদ্ভূত সংকট দূর করা হবে। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি ক্যাডারে পদের বিপরীতে জনবল অনুযায়ী গ্রেড নির্ধারণ করা হবে। যে ক্যাডারে গ্রেড-১ পদের সংখ্যা বেশি প্রয়োজন সে ক্যাডারে গ্রেড-১ পদ বাড়ানো হবে। তবে যাদের গ্রেড-১ বাড়ানো হবে তাদের যে গ্রেডে কর্মকর্তা কম কিন্তু পদ বেশি, সেই গ্রেডে পদ কমানো হবে। যে গ্রেডে কর্মকর্তা বেশি সেই গ্রেডে পদ বাড়ানো হবে। যে গ্রেডে কর্মকর্তা কম সেখানে কমানো হবে। পাশাপাশি ক্যাডার-ননক্যাডারদের এন্ট্রি পদের বেতন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংগঠনের নেতাদের আশ্বাস দেওয়া হয়। তাদের বেতন বৈষম্য নিরসন-সংক্রান্ত একটি সুপারিশ নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার বিষয়েও তাগাদা দেওয়া হয়। তাদের কাছ থেকে সুপারিশ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কমিটি প্রতিটি ক্যাডারের সঙ্গে বৈঠক করবে। পরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় তাদের সুপারিশ পর্যালোচনা করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠাবে। প্রতিবেদনটি সরকার গঠিত টাস্কফোর্স পর্যালোচনা করার পর পদোন্নতির সুযোগ সৃষ্টি-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। এরপরও যদি কোনো ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদোন্নতিতে কোনো বিষয়ে অন্তরায় দেখা দেয়, তারও সমাধান করা হবে। বৈঠকে আর্থিক-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ইউএনওদের ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা পরিপত্র বাতিলের দাবি মেনে নিয়ে তা বাতিল করে নতুন পরিপত্র জারি করা হবে বলে জানানো হয়। বৈঠকে উপজেলা পরিষদ আইনের ৩৩(খ) ধারাটিও সংশোধনের বিষয়ে দাবি জানানো হয়।
বর্তমানে প্রেষণে প্রায় দেড় হাজার কর্মকর্তা কাজ করছেন। এর মধ্যে বেশিরভাগ পদই সরকারের, বাকিগুলো স্বায়ত্তশাসিত। বিভিন্ন সেক্টর, করপোরেশন, হাসপাতাল, শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রশাসনের বাইরের কর্মকর্তাদের প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া হয়। এতে সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও পদায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পেও সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের বাইরের অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে এসব ক্যাডারের পদে সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রেষণে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ক্যাডার কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের কোন্দল সৃষ্টি হয়। এর প্রভাব পড়ে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কাজের ওপর। ফলে এ নিয়োগ বন্ধ করে নিজ নিজ ক্যাডার-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রেষণে নিয়োগের কারণে শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পদে বর্তমানে শতাধিক পদ শিক্ষা ক্যাডারের বাইরের কর্মকর্তারা দখলে রেখেছেন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ), বাংলাদেশ জাতীয় ইউনেস্কো কমিশন, ব্যানবেইস, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) বিভিন্ন প্রকল্পে প্রশাসন ক্যাডারের শতাধিক কর্মকর্তা কাজ করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের নিয়ে পৃথক বৈঠক :প্রকৃচির সঙ্গে বৈঠকের পর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের নিয়ে গতকাল পৃথক বৈঠক করে কোর কমিটি। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সহসভাপতি অধ্যাপক ইমদাদুল হক ও বুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ এহসান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরত অধ্যাপকদের মধ্য থেকে ২৫ শতাংশের জন্য জনপ্রশাসন সচিবের সমান বেতন স্কেল (গ্রেড-১) এবং ওই বেতন স্কেলে কর্মরত ১২ শতাংশের জন্য নির্দিষ্ট শর্ত পূরণসাপেক্ষে জ্যেষ্ঠ সচিবের সমান বেতন স্কেল (সুপার গ্রেড) চালুর জন্য শিক্ষকদের প্রস্তাব নিয়ে সচিবদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এ সময় সুপার গ্রেডের অধ্যাপকদের ‘ডিস্টিংগুইস্ট প্রফেসর’ আর গ্রেড-১ এর অধ্যাপকদের সিনিয়র অধ্যাপক পদ দেওয়ার ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
আন্দোলনকারী একজন শিক্ষক নেতা এই বৈঠকের ফলাফল প্রসঙ্গে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে তারা লাগাতার কর্মবিরতি স্থগিত করে শ্রেণীকক্ষে ফিরে গেছেন। বেতন কাঠামো নিয়ে তারা একটা গ্রহণযোগ্য ও সম্মানজনক সমাধান চান। সমস্যা নিরূপণে যে রূপকাঠামো দেওয়া হয়েছে তার কিছু বিষয় নিয়ে এখনও সমস্যা আছে। সেগুলো নিরসন করতেই এই আলোচনা। তিনি জানান, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যদি সম্মানজনক সমাধান না হয় তবে ফেডারেশন পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী জাতির সামনে ফেডারেশনের পর্যালোচনা তুলে ধরবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 11 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ