যুক্তরাষ্ট্রের আভাস: মধ্যবর্তী নির্বাচন হচ্ছে না,খালেদা জিয়া যাচ্ছেন কারাগারে

প্রকাশিত: 11:42 AM, January 27, 2016

যুক্তরাষ্ট্রের আভাস: মধ্যবর্তী নির্বাচন হচ্ছে না,খালেদা জিয়া যাচ্ছেন কারাগারে

khaleda-bernicatপ্রান্তডেস্ক:বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আদালতে দণ্ডিত হয়ে কারাগারে যেতে পারেন বলে আভাস দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এ অবস্থায় খালেদা জিয়া কারাগারে গেলে বিএনপি কে নেতৃত্ব দেবে তা জানতে চেয়েছে দেশটি।
এ ছাড়া ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের কারণে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে ব্যাপক গুঞ্জন থাকলেও তা না হওয়ার বার্তাও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।। বরং শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে বিএনপির মনোভাব জানতে চেয়েছে দেশটি।
গত সোমবার সকালে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়ের করে আওয়ামী লীগপন্থী একজন আইনজীবী।
এরপর সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসায় গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া স্টিফেন ব্লুম বার্নিকাট। এ সময় তার সঙ্গে আরো দুজন সহকর্মী ছিল।
অন্যদিকে বিএনপি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান, ড. সাবিহ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।
বার্নিকাট খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেড় ঘণ্টাব্যাপী দীর্ঘ বৈঠক করেন। এতে দলটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব, পরবর্তী নির্বাচন, বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তরণে দলটির ভাবনা সম্পর্কে জানতে চান বার্নিকাট।
বৈঠক সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট জানতে চেয়েছেন, আইনি জটিলতার মধ্যে থাকা দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আদালত কোন ধরনের শাস্তির রায় দিলে বিএনপি কিভাবে পরিচালিত হবে? খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে কে দলের হাল ধরবেন? কার নেতৃত্বে দল পরিচালিত হবে?
তিনি জানতে চেয়েছেন- লন্ডনে অবস্থানরত দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে কিভাবে দেশের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করবে বিএনপি। কারণ তিনিও আইনি জটিলতায় এবং বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন। ফলে তারেক রহমানকে নিয়ে বিএনপির পরিকল্পনা কি? তবে বার্নিকাটের এমন জিজ্ঞাসার জবাবে বিএনপির তরফে কি বলা হয়েছে- তা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চলমান জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাষ্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট মামলা এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অন্যদিকে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে চলমান ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলার মামলাটিও চলতি বছরের জুলাইয়ের মধ্যে শেষ হতে পারে।
বর্তমানে ঢাকা আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতে চলমান জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাষ্ট মামলাটির সর্বশেষ সাক্ষীর জেরা করছে আসামী পক্ষ। এই সাক্ষীর জেরা শেষ হলেই মামলার সাক্ষ্য গ্রহনের পালা সমাপ্তি হবে। শুধু বাকী থাকবে দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক। এতে আর সময় খুব একটা ক্ষেপনের সুযোগ নেই। সরকার চাইলে আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যেই জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাষ্ট মামলার নিষ্পত্তি করতে পারবে।
এছাড়া জরুরি আইনের সরকারের সময় দায়ের করা আরেকটি মামলা সচল করা হয়েছে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে। তেল গ্যাস অনুসন্ধান কোম্পানী নাইকোকে একটি গ্যাসক্ষেত্রে বাড়তি কাজ অনুমোদনে দুর্নীতির অভিযোগে জরুরী আইনের সরকার মামলাটি দায়ের করেছিল। সুপ্রিমোকর্টের হাইকোর্ট বিভাগের স্থগিতাদেশের ফলে মামলাটি এতদিন স্থগিত ছিল।
সরকার সম্প্রতি হাইকোর্ট বিভাগ এবং আপিল বিভাগ থেকে তাদের পক্ষে আদেশ নিতে সক্ষম হয়। সুপ্রিমকোর্ট ইতোমধ্যে রায় দিয়ে বলেছে মামলাটি নিম্ন আদালতে চলতে পারে। এই রায়ের পর মামলাটির কার্যক্রম বিচারিক আদালতে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। খালেদা জিয়া নতুন করে হাজিরা দিয়ে এই মামলায় জামিন নিয়েছেন।
খোজ নিয়ে দেখা গেছে, তারেক রহমানে বিরুদ্ধে চলা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় ইতোমধ্যে ২০৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহন শেষ হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ জন সাক্ষী তারেক রহমানের নাম জড়িয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন। যে কোন সময় সাক্ষ্য গ্রহন সমাপ্ত করার আবেদন জানাতে পারে সরকার পক্ষ। তখন যুক্তিতর্ক উপস্থপনের পর রায় হবে।
এদিকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে বিএনপির ভাবনা জানতে চেয়েছেন। তিনি পরিষ্কার জানতে চান, বিএনপি পরবর্তী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কিনা। যদি সে নির্বাচন বর্তমান পদ্ধতিতে বা বর্তমান সরকারের অধীনেই হয়। পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে বিএনপির ভাবনাগুলোও তিনি আগ্রহ ভরে জানতে চেয়েছেন দলটির শীর্ষ নেতার কাছে।
তবে মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে বৈঠকে কোন ধরনের আলাপ হয়নি। এর মধ্য দিয়ে পরিষ্কার হয়ে গেছে যে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসলেও শেখ হাসিনার তৃতীয় সরকারকে মেনে নিয়েছে দেশটি।
সূত্র জানায়, বৈঠকে বার্নিকাট বলেছেন, বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে নিরাপত্তা। এই ইস্যুতে বিএনপির পরিকল্পনাগুলো কি এবং কিভাবে এ পরিস্থিতি মোকাবিলার কথা চিন্তা করছে দলটি। বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের জন্য সবাইকে অতীতচারিতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। রাজনীতির দৃষ্টিভঙ্গি হতে হবে ভবিষ্যৎমুখী। এ বিষয়ে বিএনপি কি ভাবছে এবং তাদের ভবিষ্যৎ পথচলার রূপরেখা কেমন হবে?
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ বিষয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে বিএনপির তরফে জানানো হয়েছে- তারা অতীত নয়, সবসময় ভবিষ্যৎমুখী রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। কিন্তু দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অনেক সময় অতীত ইস্যু সামনে চলে আসে। যদিও বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গি সবসময় ভবিষ্যৎমুখী।
বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে বলেছেন, বাংলাদেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তারা ওয়াকিবহাল। কিন্তু বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির ভাবনাগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জানা প্রয়োজন। তিনি জানতে চান বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য বিএনপি কি ভাবছে।
সূত্র জানায়, বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পরিষ্কার বলেছেন- বিএনপি এখন সংসদে নেই। ফলে তারা আনুষ্ঠানিক বিরোধী দল নয়। কিন্তু বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ সফররত মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি টমাস শ্যাননসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা বিএনপি নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
বৈঠকে বার্নিকাট বলেছেন, বাংলাদেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ওয়াকিবহাল। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতির বিষয়টিও তাদের অজানা নয়। তারা সবসময় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
তিনি বলেছেন, কূটনীতিক রীতি-নীতির কারণে দেশে যে সরকারই থাকুক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সঙ্গে কাজ করতে হয়। তাই প্রকাশ্যে অনেক বিষয়ে কথা বলা সম্ভব নয়। কিন্তু বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ভিত মজবুত ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সবসময় কাজ করে যাচ্ছে। তারই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতির উল্লেখ ও প্রতিফলন ঘটছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হিউম্যান রাইটসের প্রতিবেদনে।

সূত্র:অনলাইন বাংলা.কম.বিডি

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 14 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ