প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে ক্লাসে ফেরার ইঙ্গিত শিক্ষকদের

প্রকাশিত: 5:49 AM, January 19, 2016

প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে ক্লাসে ফেরার ইঙ্গিত শিক্ষকদের

109524_untitled_111282প্রান্ত ডেস্ক:প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের দাবি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন বলে বৈঠক শেষে জানিয়েছেন শিক্ষক নেতারা। প্রধানমন্ত্রীর কথায় আশ্বস্ত হয়ে শিক্ষকরা তাঁদের চলমান আন্দোলন থেকে সরে আসারও ইঙ্গিত দিয়েছেন। শিক্ষক নেতারা জানান, বৈঠকে দ্রুতই সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। চলমান আন্দোলন কর্মসূচির ব্যাপারে আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত জানাবেন শিক্ষক নেতারা। গতকাল সোমবার বিকেলে গণভবনে শীতকালীন পিঠা উৎসব ও চা-চক্র শেষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নেতারা। ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ও মহাসচিব অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামালসহ আট শিক্ষক নেতা ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, জনপ্রশাসনসচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম গণভবনের প্রধান ফটকে সাংবাদিকদের বলেন, ‘শিক্ষকদের ৩ নম্বর থেকে ১ নম্বর গ্রেডে উন্নীতের জন্য পদোন্নতির সোপান তৈরির কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ১ নম্বর গ্রেডে যেতে অন্যান্য দাবিও বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। বৈঠকে শিক্ষকরা বলেছেন, তাঁরা তাঁদের ফোরামে কথা বলে দ্রুত ক্লাসে ফিরে যাওয়ার উদ্যোগ নেবেন।’ বৈঠক শেষে শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। তিনি আমাদের সব সমস্যা শুনতে চেয়েছেন। আমরা মনে করছি আলোচনা সফলতার দিকে যাচ্ছে। তবে কাল (আজ) ফেডারেশনের সভা ডাকা হয়েছে। ওই সভাতেই চলমান কর্মসূচির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ তবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত একজন শিক্ষক নেতা নাম না প্রকাশের শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। গ্রেড-১-এ যাওয়ার সোপান তৈরির কথা বলেছেন। কিন্তু স্পেসিফিক আশ্বাস পাইনি। আর আমরা অধ্যাপকদের ২৫ শতাংশকে গ্রেড-১-এ নেওয়ার কথা বলেছি। কিন্তু এ অনুপাতটা কত হবে সে ব্যাপারেও প্রধানমন্ত্রী আমাদের পরিষ্কারভাবে কিছু জানাননি। তবে যদি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে তাদের সঙ্গে আলোচনায় একটা ফয়সালা হবে বলে মনে করছি। আর মন্ত্রণালয় যদি এই ২৫ শতাংশকে নেওয়ার ক্ষেত্রে আরো কিছু ক্রাইটেরিয়া ঠিক করে, তাহলে আমার মনে হয় এ সংখ্যা ৫০ জনের বেশি হবে না। আর কর্মবিরতির সিদ্ধান্তটা যেহেতু ফেডারেশনের সাধারণ সভা করে নেওয়া হয়েছিল, তাই কাল (আজ) আবারও সাধারণ সভা করে কর্মসূচির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন শিক্ষক নেতা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। চা-চক্র শেষে আমাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তিনি আমাদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন। তাই তিনি যতটুকু আশ্বাসই দেন না কেন, তাঁর সম্মানে হলেও আমাদের কর্মসূচি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তই আসতে পারে। তবে এ সিদ্ধান্ত সাধারণ সভা করেই নিতে হবে।’ গতকাল দুপুরে গণভবনে যাওয়ার আগে শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণের মাধ্যমে একটি ইতিবাচক প্রক্রিয়া শুরু হলো। আমাদের প্রত্যাশা আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান হবে। আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যে দুটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছি, আশা করি সেগুলোর ভিত্তিতেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।’ গত রবিবার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা গ্রেড বৈষম্য নিরসনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দুটি প্রস্তাব দেন। প্রথমটি হচ্ছে সপ্তম বেতন কাঠামোতে একজন শিক্ষক যেভাবে গ্রেড-১-এ যেতেন সেভাবেই যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে আগের মতো সব ধরনের সুবিধা ও সম্মান অব্যাহত রাখতে হবে। দ্বিতীয় প্রস্তাবে সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল না থাকলে বিকল্প উপায়ে গ্রেড-১-এ যাওয়ার পথ বের করে দেওয়া হয়েছে। বিকল্প উপায়ে তৃতীয় গ্রেড থেকে দ্বিতীয় গ্রেডে যেতে হলে তিন ধরনের শর্ত পূরণ করতে হবে। এগুলো হলো—চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে ২০ বছরের, যথাযথ প্রকাশনা ও গবেষণা থাকতে হবে এবং এক্সিলেন্স ক্যারিয়ার থাকতে হবে। দ্বিতীয় গ্রেডে এক বছর সফলভাবে চাকরির পর তাকে গ্রেড-১-এ নিতে হবে। মোট অধ্যাপকের ২৫ শতাংশকে প্রথম গ্রেডে নিতে হবে। যেহেতু সপ্তম বেতন কাঠামোতে শিক্ষকরা সিনিয়র সচিব ও সচিবদের সঙ্গেই গ্রেড-১-এ ছিলেন তাই এখন সিনিয়র সচিবদের বিশেষ গ্রেডে নেওয়ায় গ্রেড-১-এ থাকা শিক্ষকদের একাংশকেও বিশেষ গ্রেডে নিতে হবে। দুটি প্রস্তাবেই গ্রেড-৩ থেকে গ্রেড-১-এ ২৫ শতাংশ শিক্ষককে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আর গ্রেড-১ পাওয়া সিনিয়র অধ্যাপকদের মধ্য থেকে ৫ শতাংশকে সিনিয়র সচিবের সমান মর্যাদায় বিশেষ গ্রেডে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। গত ১২ জানুয়ারি শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের নেতাদের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হয়। ওই দিনই তিনি শিক্ষকদের কাছে প্রস্তাব চান। এর পরিপ্রেক্ষিতে ফেডারেশন লিখিতভাবে তাঁদের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে জমা দেন। শিক্ষকদের লাগাতার গত আট দিনের কর্মবিরতিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। প্রসঙ্গত, অষ্টম বেতন কাঠামোর প্রস্তাব আসার পর পদমর্যাদা অবনমন এবং গ্রেড বৈষম্য দূরীকরণের দাবিতে ৯ মাস আগে আন্দোলন শুরু করেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা। পরে শিক্ষকদের দাবি পর্যালোচনায় একটি কমিটি গঠন করে সরকার। কমিটির সভাপতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত শিক্ষকদের নিয়ে বৈঠকও করেন। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী শিক্ষকদের তিনটি দাবি মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও ১০ দিন পর প্রকাশিত গেজেটে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেন শিক্ষকরা। দাবি আদায়ে ১১ জানুয়ারি থেকে সারা দেশের ৩৭ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করেন শিক্ষকরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 5 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ