ছেলের গলিত শবের সঙ্গে দুই মাস!

প্রকাশিত: 9:25 AM, January 10, 2016

ছেলের গলিত শবের সঙ্গে দুই মাস!

109524_untitled_111282সাত বছর বয়সী ছেলের গলিত শবের সঙ্গে দীর্ঘ দু মাস কাটিয়েছেন এক দম্পতি। ছেলে যে মারা গেছে এই সত্যটাই তারা উপলব্ধি করার মত অবস্থায় ছিলেন না। তারা ভেবেছিলেন সে জীবিত আছে এবং একসময় জেগে ওঠবে। সম্প্রতি উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় স্পেপের গিরোনা এলাকার এক অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ওই ছেলের লাশ উদ্ধার করার পর ঘটনাটি জানাজানি হয়।
ব্রুস-শেরেল হপকিন্স দম্পতির ছেলে কালেব হাঁপানি রোগে আক্রান্ত ছিলেন। কিন্তু তার কুসংস্কারে আচ্ছন্ন বাবা-মা তাকে কোনো চিকিৎসকের কাছেও নিয়ে যাননি। ফলে বিনা চিকিৎসায় মারা যায় কালেব। কিন্তু মারা যাওয়ার পর সমাহিত করার বদলে ছেলেটিকে ঘরেই রেখে দেন ওই দম্পতি। লাশের সঙ্গেই তারা তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চালিয়ে যেতে থাকেন।
ছেলেটি যে আর বেঁচে নেই এটি বোঝার মত মানসিক অবস্থায় ছিলেন না ব্রুস ও শেরেল হপকিন্স। তারা মনে করেছিলেন, হয়ত সে অজ্ঞান হয়ে গেছে, একসময় ওঠে দাঁড়াবে। এজন্য তারা তার জ্ঞান ফিরিয়ে আনতে বুকে নিয়মিত মালিশ করে গেছেন। এমনকি তারা লাশের মুখে মুখ দিয়ে শ্বাস দিয়ে তাকে পুনরুজ্জীবিত করারও চেষ্টা করেছিলেন বলে ‘দা ইন্ডিপেনডেন্ট’ পত্রিকাটি জানিয়েছে।
ইতিমধ্যে ছেলের মৃতদেহ পচে গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। তাতেও তাদের হুঁশ হয়নি। দু মাসের ভাড়া বাকি পরায় সম্প্রতি বাড়িওয়ালা ভাড়া আদায়ের জন্য তাদের অ্যাপার্টমেন্টে গেলে বিষয়টি তার নজরে আসে। তখন তিনি পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে কালেবের গলিত লাশ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় ওই মার্কিন দম্পতির বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। ব্রুস-শেরেল হপকিন্সের আসল বাড়ি যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েট শহরে।
তাৎক্ষণিকভাবে ওই শিশুর মৃত্যুর সঠিক তারিখ জানা যায়নি। ময়নাতদন্তের পর সে কবে মারা গেছে জানা যাবে। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গত ১৫ নভেম্বর তাকে শেষবারের মত দেখা গেছে। সেদিন সে তার বাবা মায়ের সঙ্গে এক পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগদিয়েছিল।
কালেব ছাড়াও ওই দম্পতির ১২ বছরের আরো একটি ছেলে এবং ১৪ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 13 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ