সিঙ্গাপুরে নতুন জঙ্গি দল গঠনের পরিকল্পনা ফাঁস

প্রকাশিত: 6:18 AM, January 8, 2016

সিঙ্গাপুরে নতুন জঙ্গি দল গঠনের পরিকল্পনা ফাঁস

1452232811প্রান্ত ডেস্ক:নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান জসিমউদ্দিন রাহমানীর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশিদের একটি গ্রুপ নতুন একটি জঙ্গি সংগঠন গড়ার পরিকল্পনা করেছিল। নতুন এই জঙ্গি সংগঠনের নাম দেওয়া হয় ‘লা মাজহাব’।
বাংলাদেশ থেকে নতুন এই জঙ্গি সংগঠনের কলকাঠি নাড়া হচ্ছিল। তবে জঙ্গি সংগঠনটি বেশিদূর এগোনোর আগেই এ খবর চলে যায় সিঙ্গাপুর পুলিশের কাছে। পরে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ২৫ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করে দেশটির পুলিশ। তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
তাদের টাস্কফোর্স ইন্টারগেশন সেলে (টিএফআই) নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ১৪ জন বাংলাদেশিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
গোয়েন্দা পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারে নতুন জঙ্গি সংগঠন গড়ে তোলার পেছনের তথ্য। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশ এই জঙ্গি সংগঠনের পেছনের কুশীলবদের ধরতে অভিযান শুরু করেছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, সিঙ্গাপুর থেকে পাঠানো ১৪ বাংলাদেশিকে জেরা করে সিঙ্গাপুরে উগ্রবাদ চর্চা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। এসব বিষয়ে ঢাকায় অধিকতর তদন্ত চলছে।
জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতরা আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের কারাবন্দি নেতা জসিমউদ্দিন রাহমানীর মুক্তির নামে অর্থ সংগ্রহ করত। গত এক বছর ধরে চলছিল তাদের নতুন জঙ্গি সংগঠন গড়ে তোলার উদ্যোগ এবং জসিমউদ্দিন রাহমানীর নামে অর্থ সংগ্রহ।
গ্রেপ্তারকৃত বাংলাদেশিরা সিঙ্গাপুরের মোস্তফা মার্কেটের কাছে অ্যাঙ্গোলিয়া নামের মসজিদে একত্রিত হতেন প্রতি রোববার সন্ধ্যায়। সেখানে জিহাদি বক্তব্য, বয়ান ও জিহাদি ভিডিও প্রদর্শন করে উগ্রবাদ চর্চায় বাংলাদেশিদের ধাবিত করা হতো। সিঙ্গাপুর পুলিশ তাদের জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি জানার পরই গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা সিঙ্গাপুরে চাকরি করতেন। সেখানে একজনের সঙ্গে আরেকজনের পরিচয় হয়। তাদের জঙ্গিবাদে ধাবিত করতে প্রতিমাসে বাংলাদেশ থেকে দু’জন ব্যক্তি সিঙ্গাপুর যেতেন। তারা জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধমূলক নানা বক্তব্য দিয়ে আটক বাংলাদেশিদের আকৃষ্ট করতেন। ওই দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
জানা গেছে, সিঙ্গাপুর থেকে ফেরত পাঠানো ২৫ জনকে টিএফআই সেলে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে টাঙ্গাইলের আমিনুর (৩১), আবদুল আলীম (৩৩) ও শাহ আলম (২৮), কুমিল্লার গোলাম জিলানী (২৬), নুরুল আমিন (২৬) ও মাহমুদুল হাসান (৩০), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জাফর ইকবাল (২৭), ঝিনাইদহের আকরাম হোসেন (২৭), চুয়াডাঙ্গার আবদুল আলী (৪০), পাবনার আশরাফ আলী (২৭), ঢাকার সাইফুল ইসলাম (৩৬), কুড়িগ্রামের আলম মাহবুব (৩৪), চাঁপাইনবাবগঞ্জের ডলার পারভেজ (৩৫) ও মুন্সীগঞ্জের মোহাম্মদ জসিমের জঙ্গি সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। বাকিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেওয়া হয়। আর ওই ১৪ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলাও করা হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 8 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ