খুলনা আওয়ামী লীগে যুদ্ধাপরাধী!

প্রকাশিত: 7:03 AM, January 6, 2016

খুলনা আওয়ামী লীগে যুদ্ধাপরাধী!

00ফসিহ উদ্দীন মাহতাব: একজন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের নেতা হয়েছেন। নতুন নেতাদের তালিকায় খুনের মামলার দুই আসামি এবং দুই সরকারি কর্মকর্তার নামও আছে। এ নিয়ে খুলনা আওয়ামী লীগে তুলকালাম চলছে। ত্যাগী নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট। প্রতিকার চেয়ে তারা এ ব্যাপারে দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। বিষয়টি এখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় তদন্ত করছে।
ক্ষুব্ধ নেতারা বলেছেন, দাকোপ উপজেলার আনন্দনগর গ্রামের মুনছুর খান তালিকাভুক্ত একজন যুদ্ধাপরাধী। ২০১০ সালের ২৫ অক্টোবর স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আতিয়ুর রহমান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন এবং প্রসিডিংস মামলা প্রস্তুতির জন্য যে তথ্য সরবরাহ করেছেন, সে তালিকায় তার নাম রয়েছে ১৪ নম্বরে। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ দাকোপ থানা কমান্ড ১ নম্বর পানখালি ইউনিয়নের রাজাকারের একটি তালিকা করেছে। সেখানেও মুনছুরের নাম রয়েছে। অথচ তাকেই জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির ১৮ নম্বর সদস্য করা হয়েছে।
মুনছুর খানের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালি এলাকার ইয়াছিন স্কুলের সামনে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুুনালের তদন্ত তালিকায় যুদ্ধাপরাধী হিসেবে নাম আসা প্রসঙ্গে মুনছুর খান সমকালকে বলেছেন, তিনি কখনোই রাজাকার (যুদ্ধাপরাধী) ছিলেন না। এমনকি এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তিনি আওয়ামী লীগ খুলনা জেলা কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য হওয়ার আগে দাকোপ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলেও দাবি করেন।
খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়েছে ২০১৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি। ওই সম্মেলনে শেখ হারুনুর রশিদ সভাপতি এবং এসএম মোস্তফা রশিদী সুজা সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। সম্মেলনের প্রায় ১১ মাস পর গত মাসে জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেয় দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ। ওই কমিটিতেই তালিকাভুক্ত যুদ্ধাপরাধী মুনছুর খানের স্থান হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হারুনুর রশিদ বলেছেন, কমিটি গঠনের বেলায় ব্যক্তিস্বার্থ দেখা হয়নি। ত্যাগী ও পরীক্ষিতরাই কমিটিতে এসেছেন। আর এ কমিটিতে তালিকাভুক্ত যুদ্ধাপরাধী রয়েছে কি-না সেটা কাগজপত্র দেখার পর বলা যাবে।
জেলা সাধারণ সম্পাদক এএসএম মোস্তফা রশিদী সুজা বলেছেন, দলীয় সভাপতির কাছে প্রস্তাব আকারে জমা দেওয়া কমিটির তালিকায় তার স্বাক্ষর ছিল না। এ কারণে কমিটিতে কাকে রাখা হয়েছে, সেটা তার জানা নেই। প্রস্তাবিত কমিটিতে জেলা সভাপতির সই রয়েছে। তিনিই সবকিছু বলতে পারবেন। এ ব্যাপারে জেলা সভাপতি বলেছেন, সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর না থাকলে কেন্দ্রীয় সভাপতি কীভাবে ওই কমিটি অনুমোদন করলেন।
কমিটিতে দুই সরকারি কর্মকর্তা!
খুলনা সদর হাসপাতালের ডা. তারিৎ ঘোষ সরকারি কর্মকর্তা। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. শেখ শহিদুল ইসলামকে জেলা কমিটির স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে ডা. শেখ শহিদুল ইসলাম বলেছেন, রাজনীতি করবেন বলেই তিনি সরকারি চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। সেটা হয়তো এখনও কার্যকর হয়নি; তবে হবে। এতে দোষের কিছু নেই। সরকারি চাকরিজীবী হওয়ার পরেও রাজনৈতিক দলের নেতা হওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডা. তারিৎ ঘোষ কোনো মন্তব্য করেননি।
এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) এহতেশামুল হক চৌধুরী বলেছেন, সরকারি চাকরিজীবীদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে সরকারি চাকরিজীবীদের সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।
খুনের মামলার দুই আসামি!
২০১১ সালে ১৭ মার্চ তেরখাদা ঈদগাহ মাঠে নির্বাচনী সংঘর্ষে নিহত হন স্থানীয় উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা ইমরান ফকির। ওই খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে তেরখাদা থানায় মামলা হয় শেখ শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অথচ তাকে জেলার উপ-প্রচার সম্পাদক করা হয়েছে। শেখ শহিদুল ইসলাম বলেছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
২০০৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর তেরখাদার কাটেংগা এলাকায় রবিউল মোল্লা খুন হন। এ ব্যাপারে হত্যা মামলার আসামি হয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান (কালু মোল্লা)। তাকেও জেলা কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য করা হয়েছে। মোস্তাফিজুর রহমান (কালু মোল্লা) বলেছেন, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। তাকে অন্যায়ভাবে হত্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে।
(দৈিনক সমকােলরসৈজন্যে)

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 11 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ