নিজামির মৃত্যুদণ্ড বহাল

প্রকাশিত: 5:31 AM, January 6, 2016

নিজামির মৃত্যুদণ্ড বহাল

00প্রান্তডেস্ক: মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। বুদ্ধিজীবীদের হত্যা (ষোল নম্বর অভিযাগে), পাবনার রূপসী, বাউশগাড়ী ও ডেমরা গ্রামের প্রায় ৫০ জনকে হত্যা ও ৩০-৪০ জন নারীকে ধর্ষণ (২ নম্বর অভিযোগ) এবং ধুলাউড়া গ্রামে ৩০ জনকে হত্যায় নেতৃত্ব ও সম্পৃক্ততা (৬ষ্ঠ অভিযোগ) অপরাধে নিজামীকে এ দণ্ড দেয়া হয়।
বুধবার সকাল নয়টা ৬ মিনিটে দেশের এই শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার সংক্ষিপ্ত আকারে চূড়ান্ত এ রায় দেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ।
রায়ে আপিল বিভাগ বলেছেন, নিজামীর আপিল আংশিক মঞ্জুর করেছে আদালত। এর আগে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বধীন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ নিজামীকে চারটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। ওই চারটি অভিযোগের মধ্যে চতুর্থ অভিযোগ (পাবনার করমজা গ্রামে হত্যা, ধর্ষণ ও লুট) খালাস দিয়েছে আপিল বিভাগ।
প্রথম অভিযোগ (শিক্ষক কছিমুদ্দিনকে অপহরণ ও নির্যাতন), তৃতীয় অভিযোগ (মোহাম্মদপুরের শারীরিক শিক্ষা কলেজে পাকবাহিনীর সঙ্গে হত্যা, নির্যাতন ও ধর্ষণে সহযোগিতা) দুইটি অভিযোগে যাবতজ্জীন কারাদণ্ডদিলেও আপিল বিভাগ তাকে খালাশ দিয়েছে। তবে অষ্টম অভিযোগ (পুরাতন এমপি হোস্টেলে আটক গেরিলাযোদ্ধা রুমী, বদি, জালাল, জুয়েল ও আজাদকে হত্যার প্ররোচনা) এবং সপ্তম অভিযোগ (নিজামীর দেয়া তথ্য অনুসারে বৃশালিকা গ্রামের সোহরাব আলীকে তার স্ত্রী-পুত্রের সামনে পাকিস্তানি সেনারা আটক ও হত্যা) অভিযোগে ট্রাইবুনালে দেয়া যাবতজ্জীন বহাল রাখা হয়েছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম বলেছেন, দেশবাসীর মত আমিও চাই নিজামীর মৃত্যুদণ্ড যেন বহাল থাকে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে প্রথমেই মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। নিজামীর প্রধান কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, নিজামীর বিরুদ্ধে কোনো ঘটনার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। আশা করি আপিলে তিনি ন্যায়বিচার পাবেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আনীত ১৬টি অভিযোগের মধ্যে তার বিরুদ্ধে বুদ্ধিজীবী হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, দেশত্যাগে বাধ্য করাসহ আটটি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয় বলে ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়েছে। এর মধ্যে ২য় অভিযোগ (পাবনার রূপসী, বাউশগাড়ী ও ডেমরা গ্রামের প্রায় ৪৫০ জনকে হত্যা ও ৩০-৪০ জন নারীকে ধর্ষণ), চতুর্থ অভিযোগ (পাবনার করমজা গ্রামে হত্যা, ধর্ষণ ও লুট), ৬ষ্ঠ অভিযোগ (ধুলাউড়া গ্রামে ৩০ জনকে হত্যায় নেতৃত্ব ও সম্পৃক্ততা) ও ১৬ নম্বর অভিযোগ (বুদ্ধিজীবীদের ওপর আল-বদর বাহিনীর গণহত্যা চালায়। ছাত্র সংঘ ও আল-বদর বাহিনীর প্রধান হিসেবে ওই হত্যাকাণ্ডের দায় নিজামীর মর্মে ট্রাইব্যুনালের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে)। এছাড়া প্রথম অভিযোগ (শিক্ষক কছিমুদ্দিনকে অপহরণ ও নির্যাতন), তৃতীয় অভিযোগ (মোহাম্মদপুরের শারীরিক শিক্ষা কলেজে পাকবাহিনীর সঙ্গে হত্যা, নির্যাতন ও ধর্ষণে সহযোগিতা), অষ্টম অভিযোগ (পুরাতন এমপি হোস্টেলে আটক গেরিলাযোদ্ধা রুমী, বদি, জালাল, জুয়েল ও আজাদকে হত্যার প্ররোচনা) এবং সপ্তম অভিযোগ (নিজামীর দেয়া তথ্য অনুসারে বৃশালিকা গ্রামের সোহরাব আলীকে তার স্ত্রী-পুত্রের সামনে পাকিস্তানি সেনারা আটক ও হত্যা) । তবে ৫, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪, এবং ১৫ নম্বর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আনা গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় নিজামীকে অব্যাহতি দেয় ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালের রায় বাতিল করে বেকসুর খালাস দেয়ার আবেদন জানিয়ে ওই বছরের ২৩ নভেম্বর মাসে আপিল করেন নিজামী। আজ প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করবে। বেঞ্চের অপর বিচারকরা হলেন: বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
উল্লেখ্য, মানবতাবিরোধী অপরাধীদের দায়েরকৃত পাঁচটি আপিলের ওপর চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেছে আপিল বিভাগ। আপিল বিভাগের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াতের শীর্ষ নেতা আলী আহসান মো. মুজাহিদ, আব্দুল কাদের মোল্লা ও এম কামারুজ্জামান এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসির রায় ইতিমধ্যে কার্যকর করেছে সরকার। এছাড়া ট্রাইব্যুনাল জামায়াতের নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দিলেও আপিলে তা সাজা পরিবর্তন করে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয় আপিল বিভাগ। আপিল বিচারাধীন থাকাবস্থায় মারা গেছেন জামায়াত নেতা গোলাম আযম ও বিএনপির সাবেক মন্ত্রী আবদুল আলীম। পরে এসব আপিল অকার্যকর ঘোষণা করে আদালত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 18 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ