রান্না বাংলাদেশে, খাওয়া দাওয়া ভারতে

প্রকাশিত: 12:11 PM, December 30, 2015

রান্না বাংলাদেশে, খাওয়া দাওয়া ভারতে

47019প্রান্ত ডেস্ক:রান্না হয় বাংলাদেশে আর খেতে বসেন ভারতে। সকাল সাতটায় বাংলাদেশে মাছ ধরে সাড়ে সাতটায় বাজার করেন ভারতে। এই হচ্ছে রেজাউল মণ্ডলের অদ্ভুত বাড়ির ঠিকানা।
বাংলাদেশের যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলার স্বরূপদাহ ইউনিয়নের গদাধরপুর গ্রামের বাসিন্দা রেজাউল মণ্ডল। আর ওপারে কলকাতা থেকে ঘণ্টা তিনেকের পথ। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বাগদা ব্লকের বয়রা গ্রাম। রেজাউল মণ্ডল দুই দেশের বাসিন্দা। ৬৫ বছরের রেজউল সীমান্তের এপার-ওপারের ভারসাম্য বজায় চলেছেন প্রায় শত বছর ধরে। তাঁর দুটো ঠিকানা। ভারতের কাছে বাগদা ব্লকের বয়রা গ্রাম আর বাংলাদেশের গদাধরপুর গ্রাম।
দু’পারের সীমান্তরক্ষীদের কাছে অবশ্য মণ্ডল পরিবারের পরিচিতি ৩৯/১১ পিলারের বাসিন্দা হিসেবে।
দেশ ভাগের সময়ে বাড়ির উঠোনের মাঝ-বরাবর চলে গিয়েছে বিভক্তি রেখা। ফলে বসতবাড়িও দেশ ভাগের মতো ভাগ হয়ে অর্ধেক পড়ে থাকে ভারতে। বাকি অর্ধেক বাংলাদেশের মধ্যে। কাঁটাতারের বেড়া বসেনি। তবে দিনরাত চলে বিএসএফ আর বিজিবি-র নজরদারি।
এক সময়ের ধনী ও সম্ভ্রান্ত মণ্ডল পরিবারকে দেশ ভাগের সময় বাংলাদেশে থাকায় বিষয় সম্পত্তি খোয়াতে হয়ছে। এখন সম্বল বলতে সীমান্ত মধ্যবর্তী ১৬ বিঘা জমি। যার ৭ বিঘা বাংলাদেশে আর ৯ বিঘা ভারতে। চাষের জমিরও অর্ধেক ভারতে, অর্ধেক বাংলাদেশে। চাষের পর আগে দু’দেশের অনুমতি নিয়ে সাড়ে দশ মন ধান ভারতে নিয়ে যেতে পারেন।
সীমান্তরক্ষীদের অনুমতির সেই কাগজপত্র আজও সযত্নে রেখেছেন তিনি। কিন্তু নিয়মানুযায়ী বাংলাদেশের ফসল বাংলাদেশের বাজারেই বেচতে হয়।
বাংলাদেশের ৯নং স্বরূপদাহ ইউনিয়ন পরিষদে নিয়মিত ট্যাক্স দেন রেজাউল মণ্ডল। ভারতেও ট্যাক্স দিতে হয়। উত্তর বয়রা গ্রামে প্রায় ৬০ ঘর বাসিন্দা। সব বাড়িই সীমান্তের পিলার ঘেঁষা। কিন্তু অর্ধেক ভারতে, অর্ধেক বাংলাদেশে এমন বাসিন্দা কেবল মণ্ডল পরিবারই। সংসারও ছড়িয়ে পড়ছে দুই দেশে। রেজউল মণ্ডল মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন যশোরে। এক ছেলে হাফিজুর কাজ করেন কলকাতা পুলিশে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 9 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ