নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ৩১৫৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

প্রকাশিত: 11:45 AM, December 27, 2015

নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ৩১৫৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

fat-bike-2প্রান্ত ডেস্ক:২০২০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ৩ হাজার ১৫৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে মহাপরিকল্পনা হালনাগাদ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মনোয়ারুল ইসলাম।
রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে রবিবার সকালে ছাদের উপর সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে টেকসই নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) এক কর্মশালায় তিনি এ তথ্য জানান।
বিদ্যুৎ সচিব জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালায় ২০১৫ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৫ শতাংশ এবং ২০২০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ১০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ২০১৫-১৬ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ৯৪৬ মেগাওয়াট এবং ২০২০ সালের মধ্যে ৩ হাজার ১৫৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে মহাপরিকল্পনা হালনাগাদ করা হয়েছে।
এর আগে ২০০৮ সালের নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা অনুযায়ী ২০১৫ সালের মধ্যে দেশের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ৫ শতাংশ হারে ৮০০ মেগাওয়াট এবং ১০ শতাংশ হারে ২০২০ সালে দুই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মহাপরিকল্পনা নেয় বিদ্যুৎ বিভাগ। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকও নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারেনি সরকার। তাই আগের অবস্থান থেকে সরে এসে নতুন নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের মহাপরিকল্পনা হালনাগাদ করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান সরকার গ্যাসের ওপর অধিকমাত্রায় নির্ভরশীলতা কমিয়ে কয়লা, ডুয়েল ফুয়েল ও নিউক্লিয়ার এনার্জির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ইতোপূর্বে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা ২০০৮ প্রণয়ন করা হয়। বর্তমানে নীতিমালাটি সংশোধনের কাজ চলমান রয়েছে। নীতিমালায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির মূল উৎস হিসেবে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, বায়োমাস, হাইড্রো, বায়ো ফুয়েল, জিও থার্মাল, নদীর স্রোত, সমুদ্রের ঢেউ ইত্যাদিকে শনাক্ত করা হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, বর্তমানে দেশে ৪১১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদিত হচ্ছে। প্রায় ২৮০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিভিন্ন প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন এবং ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রকল্প পরিকল্পনাধীন রয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব এ সময় গত ৫ বছরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের অর্জনগুলো তুলে ধরে বলেন, দেশে মোট ৪০ লাখ সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। ২৬২টি সোলার ইরিগেশন পাম্প স্থাপন করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে ডিজেলচালিত সেচ পাম্পকে সোলার সেচ পাম্পে রূপান্তরের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে ১৬০ মেগাওয়াট বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে। ১৩টি স্থানে উইন্ড ম্যাপিংয়ের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। এছাড়া বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারাও উপস্থিত রয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 12 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ