দেশে জেএমবির ১০৪৩ আত্মঘাতী সদস্য সক্রিয়

প্রকাশিত: 11:29 AM, December 27, 2015

দেশে জেএমবির ১০৪৩ আত্মঘাতী সদস্য সক্রিয়

fat-bike-2প্রান্ত ডেস্ক: জেএমবির ১০৪৩ জন আত্মঘাতী সদস্য সক্রিয় আছে। এদেরকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছে- সুযোগ বুঝে হামলার চালাবে।একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে রোববার এ তথ্য জানানো হয়েছে।
দৈনিকটির প্রতিবেদনে বলা হয়, জেএমবির পাশাপাশি জামা’আতুল মুজাহিদীন ও হরকাতুল জিহাদের ৯০১ জন সদস্য পুলিশ সদর দপ্তরে আসামির তালিকা রয়েছে। এদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক এবং আদালত থেকে জামিন পাওয়া অন্তত ৭৩ জন আসামি রয়েছে, যারা পলাতক থেকেই জঙ্গি থাবা বিস্তৃত করছে সারাদেশে।
দৈনিকটি আরো জানায়, পাকিস্তানের দুর্ধষ জঙ্গিদের আদলেই বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনা ঘটছে। বগুড়া ও রাজশাহীর বাগমারায় মসজিদে বোমা হামলাও একই সূত্রে গাঁথা। এই দুটি ঘটনার সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত জেএমবি জড়িত বলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো নিশ্চিত হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার ঢাকার মিরপুরে জঙ্গি আস্তানায় ১৬ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযানের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বোমা বিস্ফোরকসহ আটকদের এবং আগে আটক অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদে দেশের বিভিন্ন স্থানে সক্রিয় আত্মঘাতী জঙ্গিদের ব্যাপারে অনেক তথ্য পেয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীরা। ইতিমধ্যে তাঁরা এই আত্মঘাতী সক্রিয় জঙ্গিদের তালিকা তৈরি করেছেন বলে জানা গেছে। এই তালিকায় ১০৪৩ জনের নাম রয়েছে।
এই তালিকায় যাদের নাম আছে, তাদের মধ্যে কয়েকজন হলেন- সেলিম হাওলাদার, আবু নাইম, গোপালগঞ্জের মাওলানা আমিরুল ইসলাম, আনিছুর রহমান খোকন, ইউনুছ আলী সরদার, জুলফিকার আলী, রাঙামাটির আবদুল হালিম, সিলেটের আরিফ, আহম্মেদ, নারায়ণগঞ্জের আবদুল আজিজ সৈকত, রবিউল ইসলাম সোহাগ, লক্ষীপুরের নজরুল ইসলাম সুমন, লিয়াকত শেখ, আবদুল আহাদ খান, আমির খান, মাওলানা ওবাইদুর রহমান, আবু নোমান আমানউল্লাহ, রুহুল আমিন, গিয়াস উদ্দিন, মৌলভীবাজারের মারুফ মোহাম্মদ ইউসুফ, ময়মনসিংহের আবদুস সামাদ, মুক্তাগাছার হাতেম আলী, আমিনুল ইসলাম, মাওলানা আমিরুল ইসলাম, আনিরুল ইসলাম ওরফে আনিস, এইচ এম শফিকুল ইসলাম ওরফে শাকির, নুর সাঈদী, টাঙ্গাইলের আবু তাহের প্রমুখ।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম ঐ দৈনিকটিকে বলেন, সম্প্রতি যেসব জঙ্গি ধরা হয়েছে তাদের কাছ থেকে আত্মঘাতী জঙ্গিদের ব্যাপারে নানা রকমের তথ্য পাওয়া গেছে। মিরপুরের বাসা থেকে যাদের ধরা হয়েছে তারা জেএমবির সঙ্গে সম্পৃক্ত। জঙ্গিরা বড় ধরনের নাশকতার চেষ্টা চালাচ্ছে। তারা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও সুধীসমাজের লোকজনকেও টার্গেট করে আছে।
তিনি বলেন, জঙ্গিদের প্রতিরোধ করতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার পাশাপাশি বিশেষ অভিযান শুরু হবে। ইতিমধ্যে র‌্যাব-পুলিশের বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মিরপুর থেকে গ্রেপ্তার হওয়া জেএমবির ঢাকা অঞ্চলের সামরিক শাখার সেকেন্ড ইন কমান্ড সোহেল রানা ওরফে হিরন ওরফে কামাল ওরফে রায়হান, আবু সাঈদ ওরফে রাসেল ওরফে সালমান, ইলিয়াস ওরফে ওমর ফারুক, মহসিন আলী ওরফে রুবেল ও মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক ওরফে শাকিল ওরফে নজরুল ইসলামকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তারা গোয়েন্দাদের জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে জেএমবিসহ অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের অনেক আত্মঘাতী সদস্য রয়েছে। তারা নানা বেশে চলাফেরা করে, সাংকেতিক ভাষায় কথাবার্তা বলে। তারা বড় ধরনের হামলা চালিয়ে শক্তি জানান দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা গেছে, আত্মঘাতী জঙ্গিরা বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। জেএমবির মহিলা ইউনিটও সক্রিয় আছে।
ডিবির এক কর্মকর্তা বলেছেন, আটক জঙ্গিদের কাছ থেকে যেসব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে তা শুনলে গা শিউরে ওঠে। মিরপুরের আস্তানা থেকে আটক ওই পাঁচ জঙ্গির মধ্যে দুজন আছে আত্মঘাতী সদস্য। তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ আছে। যেসব আত্মঘাতী জঙ্গি আত্মগোপনে আছে তাদের ধরার চেষ্টা চলছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘সম্প্রতি দেশে যে কয়টি বোমা বা গ্রেনেড হামলা হয়েছে তাতে আমরা আতঙ্কিত। ইসলামকে বিভাজনের চেষ্টা চলছে। সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হচ্ছে। জঙ্গিরা এখন সুরক্ষিত স্থানে আক্রমণ করছে। কৌশলে তারা বেপরোয়া হয়ে ওঠার চেষ্টা চালাচ্ছে। জঙ্গিদের কঠোর হস্তে দমন করতে না পারলে সামনের দিনগুলোতে বড় বিপদ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
তিনি বলেন, কোনো ঘটনা ঘটলেই রাজনৈতিকভাবে দোষারোপ করা হচ্ছে। এতে করে অপরাধীরা বেশি লাভবান হচ্ছে। রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে হবে। যেসব আন্তর্জাতিক চক্র বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠনগুলোকে ব্যবহার করছে তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে জঙ্গি কার্যক্রমসহ অন্যান্য অপরাধ রোধ করা যাবে না। বগুড়া ও রাজশাহীতে দুটি মসজিদে যেভাবে হামলা হয়েছে তাতে মনে হচ্ছে, এতে পাকিস্তান বা আন্তর্জাতিক জঙ্গিদের হাত আছে। এসব বিষয় দ্রুত তদন্ত করতে হবে। আত্মঘাতী জঙ্গিদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের আওতায় আনতেই হবে। তা না হলে জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, ‘জঙ্গিদের নিধন করতে যা যা প্রয়োজন তাই করা হবে। কৌশলে জঙ্গিরা নড়াচড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। আন্তর্জাতিক চক্র বাংলাদেশের জঙ্গিদের ব্যবহার করছে এমন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তবে এখনো আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি। রাজশাহীর বাগমারায় আহমদিয়া মসজিদে বোমা হামলা আত্মঘাতী কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ওই ঘটনায় দুজন অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে একজন মারা গেছে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 11 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ