বসন্ত কবে আসবে বিএনপির?

প্রকাশিত: 7:42 AM, December 24, 2015

বসন্ত কবে আসবে বিএনপির?

police1450376982প্রান্ত ডেস্ক:ঋতু পরিবর্তনের মতোই পরিবর্তনশীল রাজনীতির গতি-প্রকৃতি। কখনও প্রখর রোদ আবার কখনও প্রবল বৃষ্টি। কনকনে শীতের পর প্রকৃতিতে বসন্তের দেখা মিলবে। কিন্তু রাজনীতিতে বিএনপির বসন্ত কবে আসবে তা নিয়ে রয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা, সংশয়। চলতি বছরে ৩৮ বছরে পা রেখেছে দলটি। আর পুরো বছরটিই ছিল সংসদের বাইরে থাকা বিএনপির জন্য সবচেয়ে দুঃসময়।
জাতীয় নির্বাচনের লক্ষ্যে বছরের শুরুতে আন্দোলন করলেও বছর শেষে পৌর নির্বাচনে অংশ নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় বিএনপিকে। স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনে প্রচারণায় অংশ নেয়ার গুঞ্জন থাকলেও রোষানলের ভয়ে শেষ অবধি মাঠে নামেননি খালেদা জিয়া। কারণ বছরের মাঝামাঝিতে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে পরপর তিন দিন হামলার শিকার হন তিনি।
খালেদা জিয়ার বছর কাটে দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দিয়ে। ৩০ নভেম্বর নাইকো দুর্নীতি মামলায় নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।
চোখ ও পায়ের চিকিৎসার জন্য বছরের বড় একটা সময় লন্ডনে কাটে খালেদা জিয়ার। লন্ডন সফর নিয়ে খালেদা জিয়া কৌশলী অবস্থানে থাকলেও বিরোধী শিবিরে ছিল সন্দেহ।
দলের প্রধানের অনুপস্থিতিতে অভিভাবকশূন্য হয়ে বিএনপিতে দেখা দেয় হতাশা। এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়ে দল ছেড়ে রাজনীতি থেকে বিদায় নেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী।
একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দলের ডাকসাইটে নেতা, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসিও হয় এই বছর। বছরে বিরতি দিয়ে দু’দফা জেল খাটেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
টানা হরতাল আর অবরোধ চলাকালে অজ্ঞাত স্থান থেকে সংবাদ সম্মেলন করে গ্রেপ্তার হন যুগ্ম সম্পাদক রুহুল কবির রিজভী। ১০ মাস ৮ দিন কারাবাসের পর বছর শেষ দিকে জামিন পান তিনি।
অজ্ঞাত স্থান থেকে বিবৃতি পাঠিয়ে ১০ মার্চ উত্তরা থেকে নিখোঁজ হন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাউদ্দিন আহমেদ। সন্ধান পাওয়ার আশা যখন প্রায় শেষ, তখন ৩ মাস পর ভারতের শিলং প্রদেশে সন্ধান মেলে নিখোঁজ এই নেতার।
৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে গণতন্ত্রের কালো দিবস দাবি করে সমাবেশের প্রস্তুতি নিলে দ্বিতীয় বছরের পরে বালুর ট্রাকের ব্যারিকেডে অবরুদ্ধ হতে হয় খালেদা জিয়াকে। সমাবেশ করতে না পেরে বছরের শুরুতে টানা হরতাল আর অবরোধে যায় বিএনপি।
টানা অবরোধের মধ্যেই ২৪ জানুয়ারি কার্যালয়ে বসে ছোট ছেলে আরাফাত রহমানের মৃত্যসংবাদ পান খালেদা জিয়া। ২৭ জানুয়ারি দেশে মরদেহ এলে চোখের জলে শেষ বিদায় জানান কনিষ্ট পুত্রকে।
টানা তিন মাস কার্যালয়ে অবস্থান শেষে জিয়া চ্যারিটেবল ও অরফানেজ ট্রাস্টের দুই মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন নিয়ে বাসায় ফেরেন খালেদা জিয়া।
‘মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে’ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার এমন বক্তব্যও নানা মহলে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ৩ বারের প্রধানমন্ত্রী, ২ বারের বিরোধীদলীয় নেতা বেগম জিয়া এত বছর পর কেন এই বক্তব্য দিলেন তা নিয়ে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের কয়েকজন বিব্রত হয়েছেন।
এ ছাড়াও জাতীয় শহীদ দিবস ও স্বাধীনতা দিবসে স্মৃতিসৌধে না যাওয়া এবং বিশ্ব ইজতেমা চলাকালে অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার না করায় প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েন খালেদা জিয়া। কার্যত খালেদা জিয়ার ঘোষিত কর্মসূচি এখনও চলছে, তবে এ কর্মসূচির কোনো ফলাফল দৃশ্যমান নয়।
চলতি বছরে দলের সার্বিক বিষয়ে মূল্যায়ন করতে গিয়ে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহাবুবুর রহমান বাংলামেইলকে বলেন, ‘চলতি বছরের আমাদের ভুলত্রুটি ছিল, পাশাপশি অর্জনও রয়েছে। বিএনপির বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র রয়েছে। তার পরও নেতারা ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন, বিভক্ত হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘পৌর নির্বাচনে আমি রংপুর বিভাগের দায়িত্বে ছিলাম। একসপ্তাহ সেখানে ছিলাম। ওইসব এলাকায় ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে। এটা আমাদের অর্জন। সামনে আরো অর্জন হবে।’ ২০১৫ সালকে বিএনপির সংগ্রামের বছর বলে মনে করেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শান্তনু মজুমদার বাংলামেইলকে বলেন, ‘রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি অনেক ক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। একটা রাজনৈতিক দল বিপর্যয়ে পড়বে আবার সুসময় আসবে। রাজনৈতিক দল রাজনৈতিক দলের মতো আচরণ করবে এটা কাঙ্ক্ষিত। কিন্তু বিভিন্ন সময় মনে হয়েছে ঝড়ে বক মেরে ফেলার মতো একটা চেষ্টা তাদের মধ্যে ছিল এবং সেটা স্বাভাবিকভাবে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। এই যেমন আচমকা একটা ঘোষণা দেয়া বা আচমকা কোনো কর্মসূচি। দীর্ঘদিন তারা অবশ্য নিষ্ক্রিয় ছিল।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপির অনেক কর্মকাণ্ড সংসদীয় গণতন্ত্রের সঙ্গে খাপ খায়নি। বিশেষ করে, বছরের শুরুতে ৩ মাসব্যাপী যে আন্দোলন তারা করেছে। দ্বিতীয়ত আমার মনে হয়, পূর্ববর্তী যে কোনো সময়ের তুলনায় এ বছরের শুরুতে তারেক রহমান ও শেষে বেগম খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধকে প্রচণ্ডভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এটা আমাদের বোধগম্য নয়, তারা কেন এসব করছেন? মুক্তিযুদ্ধের অনেকগুলো সত্যকে তারা প্রশ্নবিদ্ধ কেন করছেন?’

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 20 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ