ডব্লিউটিও সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রাপ্তি হতাশাজনক: সিপিডি

প্রকাশিত: 11:18 AM, December 23, 2015

ডব্লিউটিও সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রাপ্তি হতাশাজনক: সিপিডি

police1450376982প্রান্ত ডেস্ক:কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মন্ত্রী পর্যায়ের ১০ম সম্মেলনে অন্তর্ভুক্তিমূলক আলোচনা হয়নি। তাই সম্মেলন থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি হতাশাজনক বলে মনে করে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
সিপিডির মতে, এবারের ডব্লিউটিও সম্মেলনে উন্নত বিশ্বের দেশগুলো নিজেদের মধ্যে বাজার উদারীকরণের আলোচনায় ব্যস্ত ছিল। আন্তর্জাতিক বিশ্ব বাণিজ্যে শক্তিশালী তিনটি দেশ (ভারত, চীন ও ব্রাজিল) ও উন্নত বিশ্বের দেশগুলো পুরো আলোচনা নিয়ন্ত্রণ করেছে। এ সভা থেকে স্বল্পোন্নত দেশগুলো বাড়তি কিছু পায়নি। এসব আলোচনায় স্বল্পোন্নত দেশের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ছিল খুবই নগণ্য। ক্ষেত্রবিশেষে আলোচনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় বাংলাদেশসহ অন্যান্য স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে। তাই সম্মেলন থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি হতাশাজনক বলে মনে করে সিপিডি।
অবশ্য সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছিলেন, যে চার উদ্দেশ্য নিয়ে বাংলাদেশ ডব্লিউটিও সম্মেলনে গিয়েছে সেগুলো সফল হয়েছে। বুধবার রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে প্যারিসে অনুষ্ঠিত ২১তম জলবায়ু সম্মেলন এবং নাইরোবিতে ডব্লিউটিও’র ১০ম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন দুটিতে বাংলাদেশের প্রাপ্তি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সিপিডি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিপিডির ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান, গবেষণা পরিচালক ফাহমিদা খন্দকার, অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ও রিসার্চ ফেলো তৌফিক ইসলাম খান প্রমুখ।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান ডব্লিউটিও সম্মেলন এবং গবেষণা পরিচালক ফাহমিদা খন্দকার জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রাপ্তি নিয়ে পৃথক দুটি মূল্যায়ন প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
প্রবন্ধ উপস্থাপনের শুরুতে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নাইরোবিতে অনুষ্ঠেয় ডব্লিউটিও সম্মেলনে বেসরকারিভাবে সিপিডির তিনজন প্রতিনিধি অংশ নেয়। বেশ কয়েকটি সেশনে আলোচনায় অংশ নেয় সিপিডি প্রতিনিধিরা। ডব্লিউটিও সম্মেলনের সব আলোচনা বিচার-বিশ্লেষণ করে এই প্রবন্ধ তৈরি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ডব্লিউটিও সম্মেলনে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে বির্তক হতে পারে। এবারের সম্মেলনে উন্নত বিশ্বের দেশগুলো ডব্লিউটিওকে পাশ কাটিয়ে নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য উদারীকরণের আলোচনায় ব্যস্ত ছিল। সেখানে অনেক স্বল্পোন্নত দেশ অংশ নিতে পারেনি।
তার মতে, উন্নত বিশ্বের দেশগুলো নিজেদের বাণিজ্য উদারীকরণ করলে ডব্লিউটিওতে অন্তর্ভুক্ত স্বল্পোন্নত দেশগুলোকেও বাজার সুবিধা দিতে হবে। এক্ষেত্রে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর সমন্বয়ক হিসেবে বাংলাদেশকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ডব্লিউটিও’র সুবিধা ভোগ করতে হলে আফ্রিকান স্বল্পোন্নত দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা শক্তিশালী করতে হবে। কারণ আফ্রিকান স্বল্পোন্নত দেশগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবার তুলা উৎপাদনে ভর্তুকি ও রফতানিতে প্রণোদনা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে উন্নত বিশ্ব। এতে বাংলাদেশে তুলার দাম বাড়তে পারে।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, এবারের সম্মেলনে ভূ-অর্থনীতি নতুন দিকে মোড় নিয়েছে। উন্নত বিশ্ব নিজেদের মধ্যে আলোচনায় ব্যস্ত ছিল। দেশগুলো ডব্লিউটিও’র বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চাচ্ছে। আগামীতে বিশ্ব বাণিজ্যে এর প্রভাব পড়বে। ফলে বাংলাদেশকে নতুন করে বিশ্ব বাণিজ্য অবস্থান নিয়ে ভাবতে হবে। এ সংকট থেকে উত্তরণে স্বচ্ছতা, গবেষণা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে কৌশল নির্ধারণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এই নতুন সংকট থেকে উত্তরণে আঞ্চলিক জোটগুলো যেমন- সাফটা, বিমসটেকে সক্রিয় করতে হবে। পাশাপাশি দক্ষিণ-দক্ষিণ আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 15 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ