চীনে রবীন্দ্র রচনার ‘কুরুচিপূর্ণ’ অনুবাদে বিতর্ক

প্রকাশিত: 6:31 AM, December 22, 2015

চীনে রবীন্দ্র রচনার ‘কুরুচিপূর্ণ’ অনুবাদে বিতর্ক

police1450376982প্রান্ত ডেস্ক:কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার ‘কুরুচিপূর্ণ’ অনুবাদ করে সমালোচিত হচ্ছেন এক চীনা লেখক। খোদ চীনের রবীন্দ্রনাথ-অনুগামীরা এটিকে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার মনোবৃত্তি বলে উল্লেখ করেছেন।
সম্প্রতি, কবিগুরুর কয়েকটি কবিতাকে চীনা ভাষায় অনুবাদ করেছেন ফেং ট্যাং নামের এক ব্যক্তি। অভিযোগ, সেখানে তিনি বেশ কিছু ‘যৌন উদ্দীপক’ উক্তি ঢুকিয়ে গোটা বিষয়টিকে ‘কুরুচিপূর্ণ’ করে তুলেছেন। চীনের সরকারি সংবাদপত্র ‘চায়না ডেইলি’-র সম্পাদকীয়তে এই নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন রেমন্ড ঝোউ। তিনি লিখেছেন, স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে কোনও সৃজনশীল লেখাকে অনুবাদ করা আর দৃষ্টি আকর্ষণ করার মধ্যকার তফাত খুবই নগণ্য। ফেং সেটাই অতিক্রম করেছেন।
তিনি যোগ করেন, রবীন্দ্রনাথ হলেন এশিয়ার প্রথম সারির সাহিত্য-সম্রাটদের অন্যতম। বিশ্বব্যাপী তাঁর লেখাকে অন্য মর্যাদা যেমন দেওয়া হয়, তেমনই চীনে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয়। তাঁর বহু কবিতাকে আগেও চীনাভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে, ভবিষ্যতেও হবে। কিন্তু, অনুবাদকারী যেভাবে কবিগুরুর কবিতার ‘কুরুচিপূর্ণ’ অনুবাদ করেছেন, তার জন্যই সেটি সংবাদের শিরোনামে এসেছে।
রেমন্ড আরও জানিয়েছেন, ফেং-এর মনে রাখা উচিৎ ছিল যে, তিনি আরেক জনের কথাকে অনুবাদ করছেন। সেখানে নিজের ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে কবিতায় ঢোকানোর কোনও প্রয়োজন নেই। বস্তুত, এর আগে ১৯২০ সালে রবীন্দ্রনাথের কবিতার যে চীনা ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছিল, তাকে ‘নিরস’ বলে উল্লেখ করেন ফেং। সেই মন্তব্যের জন্যও তাঁকে কটাক্ষ করেন রেমন্ড। ফেং মেডিক্যাল নিয়ে পড়াশোনা করেছেন, পরে এমবিএ করেছেন।
এশীয়দের মধ্যে প্রথম নোবেলজয়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চীনে তিনবার সফর করেছিলেন এবং সেখানে তার অগুনতি ভক্ত রয়েছে। অনেক চীনা তাদের জীবন নিবেদিত করে বাংলা ও ইংরেজি শিখেছে তার সাহিত্যকর্ম চীনা ভাষায় অনুবাদ করতে। গণচীনের ৬০ বছর পূর্তিতে ২০০৯ সালে পরিচালিত একটি জনমত জরিপে চীনের আধুনিক উন্নয়নে শীর্ষ ৫০ বিদেশির তালিকায় ছিলেন কবিগুরু।

সূত্র: এনডিটিভি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 17 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ