অনিয়ম হলে ভোট কেন্দ্র বন্ধের নির্দেশ

প্রকাশিত: 6:19 AM, December 20, 2015

অনিয়ম হলে ভোট কেন্দ্র বন্ধের নির্দেশ

police1450376982প্রান্ত ডেস্ক:আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে কোন ধরনের অনিয়ম হলে তাত্ক্ষণিকভাবে ভোটকেন্দ্র বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রিটার্নিং অফিসার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাজে ক্ষুব্ধ হয়ে কমিশন বলেছে, সবাই চেষ্টা করলে এবং মনোবল নিয়ে মাঠে নামলে অল্প সংখ্যক সদস্য নিয়েও সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব। বেশি বেশি বাহিনীর সদস্য নিয়েও কেন্দ্র দখল করে ব্যালটে সিল মারার ঘটনা অতীতে ঘটেছে। কেউ যাতে কেন্দ্র দখল করতে না পারে সে জন্য মোবাইল কোর্টকে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যেতে হবে। কেন্দ্র দখল করে সিল মারা শেষে ঘটনাস্থলে হাজির হলে মোবাইল কোর্ট রেখে লাভ নেই। নির্বাচনে পর্যাপ্ত ফোর্স আছে কমান্ড নেই— এই অবস্থা চলতে পারে না। মোবাইল কোর্ট অপরাধীদের শাস্তি দিলে অন্যরাও সতর্ক হয়।
শনিবার রাজধানীর বিয়ামে পৌর নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে ইসির বৈঠকে এসব কথা বলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্য কমিশনাররা। তারা বলছেন, নির্বাচনে আচরণ বিধি লঙ্ঘন হচ্ছে এবং কোথাও কোথাও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। কিন্তু মাঠ প্রশাসন সক্রিয়ভাবে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। সভায় উপস্থিত মাঠ কর্মকর্তা ও কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে নির্বাচন কমিশনারগণ, সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, পুলিশ প্রধান, বিজিবি প্রধান, আনসার, এনএসআই, ডিজিএফআই, ডিবি ও কোস্টগার্ড প্রতিনিধি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত রিটার্নিং অফিসাররা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, সভায় উপস্থিত সবাই নির্বাচনের পরিস্থিতি ভালো বলে মত দেন। সভায় উপস্থিত বেশির ভাগ কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার দাবি জানান। সভায় পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, নির্বাচন কমিশন আমাদের কাছে ২০১১ সালের মতই পুলিশ চেয়েছে। কিন্তু ২০১১ সালে ২৬৯টি পৌরসভায় কয়েকভাগে নির্বাচন হয়েছে। এবার ২৩৪টিতে একসাথেই নির্বাচন হচ্ছে। এই অবস্থায় গতবারের মত পুলিশ সদস্য দেয়া আমাদের জন্য কঠিন হয়ে যাবে। সভায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনে প্রতিকেন্দ্রে ৩ থেকে ৪ জনের বেশি পুলিশ সদস্য দেয়া সম্ভব নয়। যদিও কমিশনের প্রস্তাবনায় রয়েছে ৫ থেকে ৬ জন পুলিশ সদস্য। পুলিশের দাবির বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করে ইসি সচিবালয়ের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ ও অপেক্ষমাণ বাহিনীর সংখ্যা কমিয়ে দিতে পারেন। কিন্তু কেন্দ্রে ৫ জন করে দিতেই হবে। অতীতেও সব ধরনের নির্বাচনে এই হারে বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশের শীর্ষ এক কর্মকর্তা বলেন, ভোট কেন্দ্রে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হয়। কিন্তু ব্যবস্থা গ্রহণের আগেই তা লাইভ আকারে প্রচার করা হয়। এতে নির্বাচন নিয়ে দেশে-বিদেশে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ জন্য ভোট কেন্দ্রে সাংবাদিক প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করতে হবে। পুলিশের আরেক কর্মকর্তা বলেন, মাঠের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো। জঙ্গি তত্পরতার বিষয়ে বাড়তি ব্যবস্থা নিতে হবে। গণামাধ্যম কর্মীদের দায়িত্ব পালন করার বিষয়ে নীতিমালা তৈরি করা দরকার। তাদের কারণে অতীতে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়েছে। এবারও সেই রকম ঘটনা ঘটতে পারে।
সভায় র্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশের উত্তরাঞ্চলে জঙ্গিদের তত্পরতা আছে। সে বিষয় মাথায় রেখে পরিকল্পনা করতে হবে। র্যাবের হেলিকপ্টার রয়েছে। কমিশন মনে করলে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত র্যাব।
প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়, ভোটের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে দলগুলোর মধ্যে অন্তর্কোন্দল বেড়ে যেতে পারে। কালো টাকার ব্যবহার বাড়তে পারে। দাগি আসামিরা এই সুযোগে ছাড়া পেতে পারে।
একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি জানান, গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে মনে হচ্ছে। তবে বেশকিছু মিডিয়া অতিরঞ্জিত সংবাদ পরিবেশন করছে বলে মত দেন তিনি।
একজন জেলা প্রশাসক নির্বাচনে অনিয়ম প্রতিরোধে প্রতিকেন্দ্রে সিসি টিভি স্থাপনের দাবি জানান। ওই ডিসি বলেন, অস্থায়ী সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা গেলে নির্বাচনের পরও অনেক অনিয়মের তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া যাবে।

ক্ষুব্ধ নির্বাচন কমিশন
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও মাঠ প্রশাসনের তথ্যে আশ্বস্ত হতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। সভায় এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ বলেন, আপনারা বলছেন মাঠ পরিস্থিতি ভালো। গণমাধ্যম বলছে প্রার্থী-সমর্থকরা আচরণবিধি মানছেন না। কোনটা সত্য? গণমাধ্যম কি সবই মিথ্যা লেখে? অর্ধেকও যদি সত্য হয় তবে আপনারা কী ব্যবস্থা নিয়েছেন? ব্যবস্থা যদি নিয়ে থাকেন সেটা কমিশনকে জানাচ্ছেন না কেন। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ছেলেখেলা নয়। কেউ দায়িত্বে অবহেলা করলে তাকে শাস্তি পেতে হবে। প্রয়োজনে নির্বাচনের পর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। গণমাধ্যমে কোনো খবর প্রকাশ হলে দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নিয়ে কমিশনকে জানাবেন।
নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবু হাফিজ বলেন, বাইরে গেলে আমরা নির্বাচন নিয়ে প্রবাসীদের প্রশ্নের জবাব দিতে পারি না। তারা বলেন, আফ্রিকার মতো দেশগুলো এত সুন্দর নির্বাচন করে— আপনারা কেন পারেন না? তিনি বলেন, রিটার্নিং অফিসার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কঠোর হতে হবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ডিসি ও এসপি একসঙ্গে বের হলে কেউ বেআইনি কাজ করতে পারে না। সন্ত্রাসী পাকড়াও ও অস্ত্র উদ্ধার করে গণমাধ্যমে প্রচার করলে তাতে জনমনে আস্থা সৃষ্টি হবে। কেউ আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে কমিশন ও গণমাধ্যমকে জানাতে হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালত কী কাজে লাগে? তারা অপরাধীদের ছোটখাটো শাস্তি দিলে তো দিতে পারে। এভাবে চলতে পারে না। সবাইকে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। অনিয়ম হলে ভোটকেন্দ্র বন্ধ করবেন।

ভোটকেন্দ্রেই থাকবে সাংবাদিকরা
সভায় উপস্থিত অধিকাংশ আইন-শৃঙ্খলা ও মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিক প্রবেশের কড়াকড়ি আরোপের দাবি জানালেও সিইসি তা নাকচ করে দেন। সিইসি বলেন, সাংবাদিকরা ভোট কেন্দ্রে থাকবে। তারা সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের সহায়ক শক্তি। তবে তারা কীভাবে দায়িত্ব পালন করবে সেটা রিটার্নিং কর্মকর্তা ঠিক করবেন। তারা ভোট কেন্দ্র থেকে লাইভ প্রচার করলে তাতে কারও সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তাতে আপনাদের আমাদের সবারই সুবিধা। সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে জানা যাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 12 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ