কিশোরদের কেন টানছে আইএস?

প্রকাশিত: 6:52 AM, December 15, 2015

110227Atok-11প্রান্ত ডেস্ক:অস্ট্রেলিয়ায় সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে ১৫ বছরের এক কিশোর।
গত মাসে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত খবরে জানা গেছে, অস্ট্রিয়ায় দুই কিশোরী বাড়ি থেকে পালিয়ে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গি দলে যোগ দিতে যায়। তাদের একজনকে পালানোর চেষ্টার অপরাধে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়। আরেকজন সংঘর্ষে নিহত হয়।
এসব ঘটনা চমকে ওঠার মতো। প্রশ্ন জাগে, যে বয়সে কিশোর-কিশোরীদের হেসেখেলে জীবন কাটানোর কথা, নতুন স্বপ্ন দেখার কথা, সে বয়সে কেন তারা হাতে অস্ত্র তুলে নিচ্ছে? কেন অবলীলায় মেরে ফেলছে মানুষ? কেনইবা মেতে উঠছে ধ্বংসের খেলায়?
বিশ্বজুড়ে গবেষণা ও জরিপে দেখা যাচ্ছে, উগ্রবাদী দলে কিশোর-কিশোরীদের যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। যুক্তরাজ্যের এক জরিপে জানা যায়, ২০১৩-১৪ সালের তুলনায় ২০১৪-২০১৫ সালে কিশোর-কিশোরীদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রবণতা দ্বিগুণ হয়েছে। এ সময় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অপরাধে গ্রেপ্তার হয়েছে ৩১৫ জন কিশোর-কিশোরী।
যুক্তরাষ্ট্রের জঙ্গিবাদ বিশেষজ্ঞ শার্লি উইন্টার বলেন, আইএস জঙ্গি দলে কিশোর-কিশোরীদের যোগ দেয়ার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। আইএস টানছে কিশোর-কিশোরীদের। তাদের হাতছানি তারা উপেক্ষা করতে পারছে না। আইএসের প্রধান লক্ষ্য ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের দলের সদস্য করা।
জার্মান ইনস্টিটিউট অন র‌্যাডিকালাইজেশন অ্যান্ড ডির‌্যাডিকালাইজেশন স্টাডিজের (জিআইআরডিএস) পরিচালক ড্যানিয়েল কোয়েলার বলেন, আইএস কিশোর-কিশোরীদের সহজেই প্রভাবিত করতে পারে। তাদের দলে নিয়ে আসাটাও আইএসের জন্য লাভজনক। কিশোরদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ হামলা বা অভিযান চালানো কঠিন হলেও আদর্শ ছড়াতে বা দলের প্রচার বাড়াতে তাদের কাজে লাগানো সহজ। কিশোর-কিশোরীরা অনেক বেশি অনুগত থাকে। এ ছাড়া তারা নিহত হলেও দলে খুব বেশি প্রভাব পড়ে না।
গবেষণায় দেখা গেছে, আইএস অনলাইনের মাধ্যমেই কিশোর-কিশোরীদের দলে টানার কাজটি করে থাকে।
কোয়েলার বলেন, সদস্য বাড়াতে ইন্টারনেট আইএসের অন্যতম অস্ত্র। প্রতিদিন ইন্টারনেটের মাধ্যমে আইএস ৩০ থেকে ৪০টি ভিডিও ছাড়ে। বিভিন্ন ভাষায় এগুলো প্রচার হতে থাকে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম টুইটারেও আইএসের নেটওয়ার্ক বিশাল। টুইটারে আইএসের ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার অ্যাকাউন্ট রয়েছে। সেখানে তাদের ভাবাদর্শ প্রচার হয়। আইএসে যোগ দেয়ার পথও বাতলে দেয়া হয়। মূলত কিশোর-কিশোরীরা সামাজিক এসব যোগাযোগের মাধ্যমেই আইএসের ভাবাদর্শের সঙ্গে পরিচিত এবং প্রভাবিত হয়। বলা যেতে পারে, এরা আইএসের ফাঁদে পা দেয়।
জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির সিনিয়র গবেষণা সহকারী উইন্টার বলেন, আইএস নিজেদের ভাবমূর্তি এমনভাবে তুলে ধরে যেন তারা একটা বড় শক্তি। চাইলে আইএস পৃথিবীটা উল্টোপাল্টা করে দিতে পারে। এ ব্যাপারটিই টানে কিশোর-কিশোরীদের। প্রচলিত সমাজের ধ্যানধারণা নিয়ে কিশোর-কিশোরীরা হতাশ থাকে। তাই নতুন কিছু তাদের টানে। তারা ভাবতে শুরু করে আইএস বদলে দিতে পারে সব। আইএসের নেটওয়ার্ক অনেক বিশাল। তারা অনেক বেশি জোটবদ্ধ। কিশোর-কিশোরীরা অনেক সময় বন্ধুদের মাধ্যমেও প্রভাবিত হয়ে থাকে।
কোয়েলার বলেন, কিশোর-কিশোরীরা ভুল নিয়ে বেশি কিছু ভাবতে চায় না। তারা নতুনের পূজারি। সাধারণত বয়সের কারণে সহিংসতা বা ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে তাদের বেশি আকৃষ্ট করে।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, টিভিতে সহিংসতার দৃশ্য শিশু, কিশোরদের ওপর বেশি প্রভাব ফেলে। আইএস সেই সহিংসতাকে জিহাদ হিসেবে পরিচিত করে। এতে কিশোর-কিশোরীরা অনেকটা রোমাঞ্চের টানেই সেদিকে ঝোঁকে।
উইন্টার বলেন, দুর্বল অবস্থায় মানুষ যেমন খড়কুটো আঁকড়ে ধরে, তেমনি সমাজ ও সংস্কার নিয়ে হতাশ কিশোর-কিশোরীরাও একসময় আইএসকে সমাধান হিসেবে ভাবতে থাকে। এ ক্ষেত্রে পরিবার বা সামাজিক অবস্থা কিশোর-কিশোরীদের ওপর প্রভাব ফেলে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 7 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ