অনেক প্রশ্ন রেখে আইনি বাধা পার

প্রকাশিত: 7:05 AM, December 11, 2015

অনেক প্রশ্ন রেখে আইনি বাধা পার

NBপ্রান্ত ডেস্ক:অনেক প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই আইনি বাধা পেরিয়েছে সরকারি চাকুরেদের জন্য অষ্টম বেতন কাঠামো। এতে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সবার জন্য টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড রাখা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে সব সরকারি চাকুরের ২০১৫ সালের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট)। তবে আগামী বছরের ১ জুলাই থেকে প্রতিবছর এই ইনক্রিমেন্ট মিলবে। সরকারি বাড়িতে থাকা চাকুরেদের বাড়িভাড়া ভাতার পাশাপাশি মূল বেতন থেকে যে সাড়ে ৭ শতাংশ অর্থ কাটা হতো, তা আর কাটবে না সরকার। অবসরোত্তর ছুটিকালীন (পিআরএল) সুবিধা আরো ছয় মাস বাড়িয়ে দেড় বছর করা হয়েছে। পেনশন সুবিধা বাড়িয়ে করা হয়েছে মূল বেতনের ৯০ শতাংশ। অর্থ মন্ত্রণালয় ও আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
দুই মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই কাঠামোর মাধ্যমে নতুন করে বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের মধ্যে। চাকরিতে যোগদানের ক্ষেত্রে ক্যাডার কর্মকর্তাদের আগের মতো অষ্টম গ্রেডে রাখা হলেও নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের নামিয়ে দেওয়া হয়েছে নবম গ্রেডে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দাবি পূরণ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) পদ সৃষ্টি করতে বলা হয়েছে। সরকারি কলেজের শিক্ষকদের চতুর্থ গ্রেডের ওপরে ওঠার দাবি সুরাহা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে। আর এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের আয়ের অর্থ সরকারি কোষাগারে নেওয়ার প্রক্রিয়া বের করার পর এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নতুন কাঠামোতে বেতন দেওয়া হবে।
নানা সুবিধাসহ প্রায় শতভাগ বেতন বৃদ্ধির এই কাঠামোর কিছু বিষয় নিয়ে আপত্তি ছিল বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষকদের। এসব অপত্তির অনেকগুলোরই স্পষ্টত কোনো সুরাহা ছাড়াই আইন মন্ত্রণালয় থেকে গত বুধবার সন্ধ্যায় ভেটিং সম্পন্ন করে ফাইল (নথি) পাঠানো হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ে। জানা যায়, ‘পুরনো জটিলতায় নতুন বেতন কাঠামো’ শিরোনামে দৈনিক কালের কণ্ঠে গত বুধবার সংবাদ প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে বেতন কাঠামোর ভেটিং সম্পন্ন করে আইন মন্ত্রণালয়। গেজেট জারি করার জন্য বুধবার রাতেই একটি সারসংক্ষেপ তৈরি করে তাতে গতকাল বৃহস্পতিবার অনুমোদন নেওয়া হয়েছে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের। এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সই করার পর আগামী সপ্তাহের প্রথম দিকেই এর গেজেট হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি ডিসেম্বর মাসের বেতন আগামী জানুয়ারিতে নতুন কাঠামোতে পাবেন চাকুরেরা। ওই সময়ই একসঙ্গে পাবেন গত জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসের বকেয়া বর্ধিত বেতন। তবে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য সব ভাতার বর্ধিতাংশ মিলবে আগামী বছরের ১ জুলাই থেকে। এর মধ্য দিয়ে নতুন কাঠামোয় বেতন পাওয়ার দীর্ঘদিনের অপেক্ষা শেষ হতে যাচ্ছে সরকারি চাকরিজীবীদের।
টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড থাকবে ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত : সূত্র মতে, আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে চূড়ান্ত বেতন কাঠামোতে। গত ৩০ জুনের পর থেকে প্রশাসন, স্বাস্থ্য, তথ্য ও গণপূর্তসহ মোট আটটি ক্যাডারের কর্মকর্তারা এসব সুবিধা পেয়েছেন। অন্য ক্যাডার ও নন-ক্যাডার অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী তা পাননি, তবে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে পাবেন। যেহেতু বেতন কাঠামোটি ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর, তাই ওই সময়ের পরে এ সুবিধা কাউকেই দেওয়া সম্ভব নয় বলে মত দিয়েছিল আইন মন্ত্রণালয়। তাই যাঁরা এরই মধ্যে এ সুবিধায় বর্ধিত বেতন নিয়েছেন, নতুন বেতন স্কেলের গেজেট হওয়ার পর বর্ধিত ওই অর্থ ফেরত দিতে হবে বলে মত ছিল আইন মন্ত্রণালয়ের। তবে সুবিধাপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাতে রাজি ছিলেন না। এ অবস্থায় অর্থমন্ত্রীও সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যাঁরা গেজেট জারির আগ পর্যন্ত টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড সুবিধা পাবেন, তাঁদের কাছ থেকে অর্থ ফেরত নেওয়া হবে না। তাতেও সমাধান হয়নি। কারণ গেজেট জারির পর অনেকেরই এ সুবিধা পাওয়ার কথা। একই বছরে কেউ সুবিধা পাবেন, আবার কেউ পাবেন না—এটি মনে নিচ্ছিলেন না ভবিষ্যতে পাবেন এমন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পাওয়া না-পাওয়া সবাইকে খুশি করতে গিয়ে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এ সুবিধা বহাল রাখার সিদ্ধান্তে ভেটিং করেছে আইন মন্ত্রণালয়। ২০১৬ সালের ১ জুলাই থেকে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড স্থায়ীভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
চলতি অর্থবছরের ইনক্রিমেন্ট বাদ : প্রতিবছর ১ জুলাই থেকে ইনক্রিমেন্ট দিতে গিয়ে সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর চলতি অর্থবছরের ইনক্রিমেন্ট বাতিল করা হয়েছে। এত দিন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যেদিন চাকরিতে যোগদান করতেন, প্রতিবছর ওই দিন তাঁরা ইনক্রিমেন্ট পেতেন। এতে সারা বছরই ইনক্রিমেন্ট-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কাজ করতে হতো সরকারকে। ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কমিশনের সুপারিশ ছিল, যে যেদিনই যোগদান করুক না কেন, প্রতিবছর ১ জুলাই ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হবে। এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করবে সরকার। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা বিধিমালা ১৯৮৫ অনুযায়ী একজন কর্মচারীর শাস্তি হিসেবে বেতন বৃদ্ধি স্থগিত রাখা হয়। তাই এভাবে ইনক্রিমেন্ট বাতিল করা আইনানুগ হয়নি। তাঁদের মতে, এ ক্ষেত্রে চলতি বছরের জন্য প্রত্যেককে ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার পর আগামী ১ জুলাই বর্ধিত একটি করে ইনক্রিমেন্ট দিয়ে তা কার্যকর করা যেত। এতে সরকারের খরচ হতো বাড়তি ৯০ কোটি টাকা।
বাড়িভাড়া বাবদ মূল বেতনের ৭.৫% কর্তন রহিত : সরকারি কিংবা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীদের মধ্যে যাঁরা সরকারি বাসায় থাকেন, তাঁদের বাড়িভাড়া ভাতার পুরোটা এবং মূল বেতনের ৭.৫ শতাংশ অর্থ বাড়িভাড়া ও রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ কেটে নেয় সরকার। ভেটিং হওয়া নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে ওই সব বাড়ির ভাড়া বাবদ শুধু চাকরিজীবীদের বাড়ি ভাড়া ভাতা কেটে নেওয়া হবে। মূল বেতনের ৭.৫ শতাংশ নেবে না সরকার। ফলে সরকারি বাড়িতে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাশ্রয় হবে।
পিআরএল সুবিধা ১৮ মাস : বিদ্যমান বেতন কাঠামোতে পিআরএল সুবিধা এক বছর রয়েছে। অর্থাৎ অবসরে যাওয়ার আগের এক বছর ছুটিতে থেকেও চাকরির সময়ের মতোই সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা এক বছর ভোগ করতে পারেন চাকরিজীবীরা। নতুন বেতন কাঠামোতে এটি বাড়িয়ে দেড় বছর বা ১৮ মাস করা হয়েছে। ফলে এখন থেকে অবসরে যাওয়ার দেড় বছর আগে থেকে ছুটিতে থেকে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন তাঁরা।
পেনশন বেড়ে মূল বেতনের ৯০% : নতুন বেতন কাঠামোতে অবসরে যাওয়ার পর কর্মকর্তা-কর্মচারী কিংবা তাঁদের সন্তানদের পাওয়া পেনশন সুবিধা বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ অবসরে যাওয়ার আগে তিনি যে গ্রেডে ছিলেন, ওই গ্রেডের মূল বেতনের ৯০ শতাংশ অর্থ প্রতি মাসে পেনশন হিসেবে পাবেন। বিদ্যমান কাঠামোতে এটি ছিল মূল বেতনের ৮০ শতাংশ।
ক্যাডার অষ্টম, নন-ক্যাডার নবম গ্রেড : প্রথমবারের মতো নতুন বেতন কাঠামোতে চাকরিতে যোগদান পর্বে ক্যাডার ও প্রথম শ্রেণির নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যবধান সৃষ্টি করা হয়েছে। এত দিন উভয় ধরনের প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তারাই বেতন স্কেলের অষ্টম গ্রেডে যোগদান করতেন। নতুন বেতন কাঠামোতে বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাদের জন্য অষ্টম গ্রেডে এবং নন-ক্যাডার প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের নবম গ্রেডে যোগদানের কথা বলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আগে থেকেই সরকারের বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত গবেষক ও বিজ্ঞানী এবং নন-ক্যাডার প্রথম শ্রেণির প্রায় ৩০ হাজার কর্মকর্তার মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাঁদের ধারণা, এই বৈষম্যের ফলে গবেষণা কিংবা বৈজ্ঞানিক কাজে মেধাবীরা আর আসবেন না।
১০ ও ১৬ বছরে অটো আপগ্রেডেশন : টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড না থাকায় তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের উচ্চতর গ্রেডে পৌঁছানোর সুবিধা বাতিল হয়ে যাচ্ছিল। এ অবস্থায় তাঁদের জন্য চাকরি শুরুর প্রথম ১০ বছরে কোনো পদোন্নতি না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে উচ্চতর গ্রেডে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পরে আরো ছয় বছর চাকরি শেষেও একইভাবে উচ্চতর গ্রেডে যেতে পারবেন তাঁরা। তবে ব্লকড পদে কর্মরত ক্যাডার ও নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের পদোন্নতি কিংবা উচ্চতর গ্রেডে যাওয়ার পদ্ধতি কী হবে, সে সম্পর্কে নতুন বেতন কাঠামোতে কিছু বলা নেই বলে জানা গেছে। সাধারণত, প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা নিয়মিত পদোন্নতি পান। অন্যান্য ক্যাডার কিংবা ব্লকড পদে কর্মরত চাকুরেদের পদোন্নতির সুযোগ কম। এত দিন তাঁরা টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পেয়ে উচ্চতর গ্রেডে বেতন পেতেন। তাঁদের জন্য করণীয় নির্ধারণ করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় নীতিমালা প্রণয়ন করবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সমস্যার সমাধান দেবে ইউজিসি : সিলেকশন গ্রেড তুলে দেওয়ার পর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে আশঙ্কা করছেন। এ ক্ষতি পুষিয়ে দিতে এবং সিনিয়র অধ্যাপকদের সিনিয়র সচিবের পদমর্যাদার দাবি পূরণ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইউজিসিকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন পদ সৃষ্টি বা বিকল্প উপায়ে এ সমস্যার সমাধান করবে তারা। তবে এ কাজ ইউজিসির নয় বলে কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামো প্রস্তাবের পর থেকে গ্রেড অবনমনসহ কয়েকটি বিষয়ে নিজেদের আপত্তি তুলে আন্দোলন করে আসছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা। সপ্তম বেতন কাঠামোর চেয়ে অষ্টম বেতন কাঠামোতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের দুই ধাপ নিচে নামানো হয়েছে। পদের অবনমনের সঙ্গে বৈষম্য ও অমর্যাদাও করা হয়েছে বলে অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের। তাদের আন্দোলন যখন তুঙ্গে তখনই মন্ত্রিসভা অষ্টম বেতন কাঠামো অনুমোদন করে। মন্ত্রিসভা অনুমোদিত বেতন কাঠামোতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা নিজেদের দাবির প্রতিফলন না পেয়ে কর্মবিরতিতে যান। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁদের আন্দোলন সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করার পর মাঝপথে আন্দোলন কার্যত থেমে যায়।
কলেজ শিক্ষকদের দাবি দেখবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় : বিসিএস (শিক্ষা) কর্মকর্তা তথা সরকারি কলেজের শিক্ষকরা পদোন্নতি পেয়ে চতুর্থ গ্রেড পর্যন্ত যেতে পারেন। চতুর্থ গ্রেডের শতকরা ৫০ ভাগ সিলেকশন গ্রেড পেয়ে তৃতীয় গ্রেডে যান। এই সিলেকশন না থাকলে তাঁদের চতুর্থ গ্রেড থেকেই অবসরে যেতে হবে। আগামী বছর থেকে সিলেকশন গ্রেড বাদ দেওয়া হলে শিক্ষকদের অবস্থান কী হবে, জানতে চাইলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, নতুন পে স্কেলে তাঁদের বিষয়টি সমাধান করার দায়িত্ব শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দেওয়া হয়েছে। তারা একটা রাস্তা বের করবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে একজন বিসিএস (শিক্ষা) কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা সব সময়ই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে। নতুন করে পে স্কেলে আমাদের সমস্যার সমাধান শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দেওয়ার কোনো অর্থ নেই। শিক্ষা মন্ত্রণালয় আমাদের দাবি পূরণ করেনি। পে স্কেলে বলা হলেও তারা করবে না। কার্যত কোনো সমাধান ছাড়াই পে স্কেল চূড়ান্ত হলো। এতে করে সমস্যা বাড়বে।’
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য কমিটি : এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা শতভাগ বেতন পেয়ে থাকেন সরকারের কাছ থেকে। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আয়ের অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হয় না। এ বিষয়ে জাতীয় বেতন ও চাকুরি কমিশনের সুপারিশ ছিল, এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয়ের অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা নেওয়ার ব্যবস্থা করে ছয় মাস পর থেকে নতুন কাঠামোয় বেতন দেওয়ার। তবে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, গত ১ জুলাই থেকেই এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করা হবে। তবে অন্য সরকারি চাকুরেদের মতো গেজেট জারি হলেই নতুন কাঠামোয় বেতন পাবেন না তাঁরা। এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আয়-ব্যয় পর্যালোচনা করা এবং আয়ের অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা নেওয়ার পথ বের করতে সরকার একটি কমিটি গঠন করবে। ওই কমিটির সুপারিশ কার্যকর করে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকদের নতুন বেতন কাঠামোতে বেতন দেওয়া হবে। গত ১ জুলাই থেকে তত দিন পর্যন্ত বর্ধিত বেতন বকেয়া হিসেবে পাবেন তাঁরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 7 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ