বছরে পাচার হচ্ছে ৪৪ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশিত: 5:37 AM, December 10, 2015

বছরে পাচার হচ্ছে ৪৪ হাজার কোটি টাকা

110227Atok-11প্রান্ত ডেস্ক:বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর গড়ে ৫৫৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার পাচার হয়ে যাচ্ছে। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ৪৪ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা। কালো টাকার এ উত্স হচ্ছে কর ফাঁকি, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ। কালো টাকা পাচারের তালিকায় বাংলাদেশের নাম এসেছে ২৬তম অবস্থানে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত রয়েছে ৪র্থ স্থানে, শীর্ষে রয়েছে চীন। ২০০৪ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ করে এ তালিকা প্রস্তুত করেছে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফাইনান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি (জিএফআই)। এক বছর আগেও বাংলাদেশ এ তালিকায় ৪৮তম অবস্থানে ছিল। মঙ্গলবার এ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিবছর গড়ে বাংলাদেশ থেকে আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে পাচার করা হচ্ছে ৪৯১ কোটি ৩০ লাখ ডলার; যা দেশীয় মুদ্রায় ৩৮ হাজার ৮শ কোটি টাকার সমান। হট মানির মাধ্যমে (দ্রুততম সময়ে লাভ নিয়ে মূলধন গুটিয়ে নেয়া) পাচার হয়েছে বছরে সাড়ে ৬৭ কোটি ডলার। ২০০৪ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি অবৈধ অর্থ পাচার হয়েছে ২০১৩ সালে, প্রায় ৯৬৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার বা ৭৬ হাজার ৩শ কোটি টাকা।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, প্রতিবেদন অনুযায়ী গত তিন বছরে মুদ্রা পাচার বেড়েছে প্রায় ৮০ গুণ, এটি উদ্বেগজনক। বাংলাদেশ থেকে মুদ্রা পাচারের সম্ভাব্য তিনটি কারণ থাকতে পারে বলে মনে করেন তিনি। যার প্রথমটি হলো দুর্নীতি। দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত বড় অঙ্কের অর্থ পাচার হয়ে যায়, কারণ দেশে এ অর্থ বিনিয়োগ করা নিরাপদ নয়। দ্বিতীয় বড় কারণ হতে পারে, দেশে সুষ্ঠু বিনিয়োগ পরিবেশ না থাকা। অবকাঠামোর অভাবসহ প্রচলিত নিয়মে বিদেশে বিনিয়োগ করাও অনেক কঠিন। তাই অনেকেই বিদেশে বিনিয়োগ করার জন্য মুদ্রা পাচার করে থাকেন। তৃতীয় বড় কারণ হতে পারে রাজনৈতিক অস্থিরতা। এর কারণেও কালো টাকা দেশে না রেখে পাচার করা হয়। ২০১৩ সালের অর্থ পাচারের চিত্র ও সে সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলেই এটি স্পস্ট হয়ে যায়।
আগের বছরের প্রতিবেদনগুলোর চেয়ে এ বছরের প্রতিবেদনে মুদ্রা পাচারের আকার কিছুটা বেড়েছে। আমদানি-রফতানির তথ্য হালনাগাদ করার কারণে এবার মুদ্রা পাচারের তথ্য আরো সুনির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৩ সাথে উদীয়মান অর্থনীতির দেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলো হতে ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার কালো টাকা অন্য দেশে পাচার হয়েছে।
এ তালিকায় শীষে রয়েছে চীন। দেশটি থেকে বছরে গড়ে ১৩ হাজার ৯২২ কোটি ডলার পাচার হচ্ছে। এর পরেই রয়েছে রাশিয়া (১০৪৯৭.৭ কোটি), মেক্সিকো (৫২৮৪.৪ কোটি)। ভিয়েতনাম রয়েছে ১৮তম অবস্থানে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারত হতে গড়ে পাচার হচ্ছে ৫ হাজার ১০২ কোটি ৯০ লাখ ডলার।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মুদ্রা পাচারের ৮৩ ভাগ হয়ে থাকে আমদানি-রফতানির মিথ্যা তথ্য দিয়ে। উন্নয়নশীল বিশ্বের মধ্যে এশিয়ার দেশগুলো হতে পাচার হচ্ছে ৩৮.৮ শতাংশ অর্থ। সাব-সাহারান আফ্রিকা থেকে পাচার হচ্ছে ৮.৬ শতাংশ অর্থ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 8 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ