জ্যামারসহ তিন ‘জঙ্গি’ গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: 6:06 AM, December 7, 2015

প্রান্ত ডেস্ক:রাজধানীর উত্তরা পূর্ব এলাকায় মোবাইল জ্যামার যন্ত্রসহ জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহেদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) তিন জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো: এএইচএম খায়রুল আসাদ ওরফে সোহাগ (৩৫), মীর মোয়াজ্জেম হোসেন সাইফী ওরফে জার্মিন (৪৫) ও কফিল উদ্দিন বিন আমিন (৪০)। সাইফী ও কফিল জেএমবির সাবেক মজলিসে শূরা সদস্য। পুরান ঢাকার হোসেনি দালানে বোমা হামলার ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের সঙ্গে ওই তিনজনের যোগাযোগ ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ তাদের ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে।
গতকাল দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর ডিবি পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম জানান, হোসেনি দালানে বোমা হামলার সঙ্গে যারা জড়িত ছিল তাদের গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। এ সময় তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের তথ্যের ভিত্তিতে জেএমবির সক্রিয় সদস্য সোহাগ, জার্মিন ও কফিলের নাম বলে। এরপর শনিবার রাত পৌনে ৮টায় উত্তরার পূর্ব থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার করার সময় তাদের কাছ থেকে ১টি জ্যামার ও বিপুল পরিমাণ উগ্র ধর্মীয় মতবাদের বই উদ্ধার করা হয়। একটি হিটলিস্টও উদ্ধার হয়েছে। ওই হিটলিস্টে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তাগুতি শক্তি এবং মাজারের সঙ্গে জড়িত খাদেম ও ফকিরদের শিরকের মধ্যে নিমজ্জিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত সোহাগ কারিগরি প্রকৌশলী। একটি বেসরকারি মোবাইল কোম্পানিতে চাকরি করতেন। আর বাকি দুইজন ব্যবসায়ী। তারা শূরা সদস্যদের মিটিং করার সময় জ্যামার ব্যবহার করতেন। যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে না পারে। তবে ওই মোবাইল জ্যামার কোথা থেকে তারা সংগ্রহ করেছে তা জানা যায়নি। গ্রেপ্তার হওয়া সাইফী ও কফিল শূরা সদস্য ছিলেন এবং তারা বিভিন্ন সময় উগ্র ধর্মীয় মতবাদ প্রচার করতেন। তাদের কাজ ছিল কথিত জেহাদের নানা ব্যাখ্যা দিয়ে তরুণদের মগজ ধোলাই করা। ডিবির যুগ্ম কমিশনার বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া তিন সদস্য জেএমবির প্রধান মাওলানা সাইদুরের একসময় অনুসারী ছিলেন। তবে মাওলানা সাইদুর পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর জেএমবিতে নেতৃত্বের কোন্দল দেখা দিলে বিভক্ত হয়ে যাওয়া অন্য গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। রিমান্ডে এনে তাদের কাছ থেকে আরও গোপন তথ্য জানার চেষ্টা করা হবে। গ্রেপ্তারকৃতদের অর্থের উৎস কী সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, তারা নিজেরা যেমন জঙ্গি কার্যক্রম চালাতেন তেমনি নিজের আয়ের একটি অংশ ওই কাজে ব্যবহার করতেন। তারা আগে গ্রেপ্তার হয়েছিল কিনা অপর একটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, আগে গ্রেপ্তার হয়েছিল কিনা তা জানা নেই। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে বিষয়টি জানা যাবে। জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত তিনজন আহলে হাদিস বাংলাদেশের কর্মী ছিল। ওই দলে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পরে জেএমবিতে যোগ দেয়। সোহাগ রাজধানীর একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। সোহাগের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলায়। আর কফিল ও সাইফীর পেশা ব্যবসা। তাদের দুইজনের গ্রামের বাড়ি গাজীপুর জেলায়। এদিকে সোহাগের পরিবারের দাবি, সোহাগকে এক সপ্তাহ আগে উত্তরার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। কিন্তু পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে এ সময় অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডিসি ডিবি (উত্তর) শেখ নাজমুল আলম, ডিসি ডিবি (পূর্ব) মো. মাহাবুব আলম, ডিসি ডিবি (দক্ষিণ) মাশরুকুর রহমান খালেদ, ডিসি ডিবি (পশ্চিম) সাজ্জাদুর রহমান, ডিসি (মিডিয়া) মো. মুনতাসিরুল ইসলাম ও ডিবির এডিসি (দক্ষিণ) মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার রহমত উল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 14 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ