দুই দলে বিদ্রোহীর ছড়াছড়ি

প্রকাশিত: 6:45 AM, December 4, 2015

দুই দলে বিদ্রোহীর ছড়াছড়ি

ZNপ্রান্ত ডস্কে:উৎসবমুখর পরিবেশে দেশের ২৩৫টি পৌরসভায় মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন মেয়র, সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরা। প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে হতে যাওয়া নির্বাচনে নিবন্ধিত ৪০টি দলের মধ্যে বড়-ছোট মিলিয়ে অনেকেই অংশ নিচ্ছে। যদিও প্রধান দুই দল ছাড়া অন্য দলগুলো সব পৌরসভায় প্রার্থী দিতে পারেনি। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ২৩৫টি, বিএনপি ২৩৪টি এবং সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ৯৩টি পৌরসভায় মেয়র পদে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়। তবে দলীয় মনোনয়নের পরও বড় দুটি দলের স্থানীয় পর্যায়ের অনেক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। শতাধিক পৌরসভায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী রয়েছেন। আওয়ামী লীগ স্বীকার করলেও বিএনপি তাদের ‘বিদ্রোহী’ বলে স্বীকার করছে না। তারা বলছে ‘ডামি’ প্রার্থী। এ ছাড়া দলের নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় প্রার্থী মনোনয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির প্রায় ১৮ জন সদস্য স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রিটার্নিং অফিসাররা মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন।
মূল প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের পাশাপাশি দুই দলের ‘বিদ্রোহী’ ও ‘ডামি’ প্রার্থীরা একই কার্যালয়ে ঢুকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বড় ধরনের কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই। বরং দীর্ঘদিন ধরে চেনা-জানা নেতাকর্মীরা বিভিন্ন প্রার্থীর সমর্থনে হাজির হয়ে উৎসবে নতুন রং যোগ করেছে। মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী ছাড়াও নির্দলীয় ব্যানারে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরাও। ফলে জাতীয় নির্বাচনের আমেজ নিয়ে হাজির হওয়া আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে উৎসবের আমেজে মেতে উঠছে মফস্বল শহরগুলোর সাধারণ কর্মী ও ভোটাররা।
গতকাল রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘোষিত ২৩৬টি পৌরসভায় মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে। কারণ ইসি প্রথমে ২৩৬টি পৌরসভায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিল। মনোনীত প্রার্থীরা নিজ নিজ পৌরসভার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে গতকাল মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তবে দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ১৬৯ জন স্থানীয় নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ ছাড়া মেয়র পদে বিএনপির মনোনীত ২৩৪ জন ছাড়া আরো ৭৫ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে।
বিভিন্ন পৌরসভার বাসিন্দারা বলেছে, দীর্ঘদিন পর ভোটের আমেজ পাচ্ছে তারা। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় অর্ধেক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় কোনো নির্বাচনই হয়নি। আর যেসব আসনে নির্বাচন হয়েছে,
সেখানেও তেমন কোনো নির্বাচনী আমেজ দেখা যায়নি। কারণ তখনকার প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও এর নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচনে অংশ তো নেয়ইনি, বরং নির্বাচন ঠেকাতে আগে ও পরে অবরোধ ও সহিংসতা চালানোয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক নেমে আসে। অবশ্য জাতীয় নির্বাচনের পরপরই উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হয় সারা দেশে। নির্দলীয় ব্যানারে অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে বিএনপিও অংশ নিয়েছিল। তবে সেই নির্বাচন দলীয় ব্যানারে হয়নি। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হচ্ছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। এ কারণে দীর্ঘদিন পর দেশজুড়ে পৌর শহরগুলোয় জমজমাট একটি নির্বাচনের আমেজ পাচ্ছে দলগুলোর নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটাররা। গতকাল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনের পরিবেশ দেখে এমনটিই মনে করছে জেলা পর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তা, বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটাররা।
দলীয় ভিত্তিতে পৌরসভা নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে সহিংসতা ও বিভেদ ছড়িয়ে পড়ার যে আশঙ্কা বিভিন্ন মহল থেকে করা হচ্ছিল, গতকাল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে তার কোনো আঁচ পাওয়া যায়নি।
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে জানান, ‘শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে প্রার্থীরা আচরণবিধি মেনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।’
ঝালকাঠির রিটার্নিং অফিসার খান আবি শাহানুর খান বলেন, ‘প্রার্থীরা সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অত্যন্ত আনন্দমুখর পরিবেশে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আমরা প্রার্থীদের শেষদিন পর্যন্ত নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছি।’
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মুহাম্মদ সরোয়ার হোসেন জানান, ‘শান্তিপূর্ণভাবে প্রার্থীরা তাঁদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।’
সারা দেশে আচরণবিধি মেনে ও শান্তিপূর্ণভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ঘটনা ঘটলেও প্রায় তিন হাজার কর্মীকে গণভোজ করিয়েছেন শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী আবুল বাশার চোকদার। এ পৌরসভায় মোট ভোটার ছয় হাজার ১০৩ জন। সেখানে দুটি গরু ও পাঁচটি খাসি জবাই করে তিন হাজার কর্মীর জন্য নিজ বাড়িতে ভূরিভোজের আয়োজন করেন তিনি। খাওয়া-দাওয়া শেষে মিছিলসহ গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি।
আচরণবিধি ভঙ্গ করে ভূরিভোজের আয়োজন সম্পর্কে জানতে চাইলে আবুল বাশার চোকদার বলেন, ‘আমার বাবা অসুস্থ ও আমি একটি শুভ কাজে যাচ্ছি। তাই বাড়িতে মিলাদের আয়োজন করেছিলাম। সেখানে আমার শুভাকাঙ্ক্ষীরা উপস্থিত হয়েছে। এটা আচরণবিধি লঙ্ঘন নয়।’
সারা দেশে মেয়র পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিভিন্ন পৌরসভায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী রয়েছেন। তবে বরাবরের মতোই ক্ষমতাসীন দল হিসেবে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী তুলনামূলকভাবে বেশি। দলগতভাবে প্রার্থী দেওয়া হলেও বিভিন্ন পৌরসভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য কিংবা মন্ত্রীরা নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে। টাঙ্গাইলের সখীপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগ আবু হানিফ আজাদকে মনোনয়ন দিলেও সেখানে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অনুপম শাহজাহান জয়ের চাচাতো ভাই ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর তালুকদার। দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান আলী সরকার পুতু। সেখানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমানের ছোট ভাই খাজা মঈনুদ্দিন ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হয়েছেন। কোথাও কোথাও জাতীয় পার্টিরও ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী রয়েছেন।
আওয়ামী লীগ বলছে, দলীয় টিকিটের বাইরে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া মেয়র পদপ্রার্থীদের সবাই বিদ্রোহী নন। আগামী ১৩ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগেই এসব প্রার্থীর বেশির ভাগই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেবেন। আর দলীয় সিদ্ধান্ত না মেনে কেউ স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করলে, তাকে দল থেকে বহিষ্কার করার হুমকি দেওয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে।
বিএনপি নেতাদের মতে, দলটির প্রেক্ষাপট ভিন্ন। দলের স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের নামে নানা ধরনের মামলা রয়েছে। তাই একক প্রার্থী বাছাইয়ের চেয়ে দলটি একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে। এগুলোকে ‘ডামি’ প্রার্থী বলছে বিএনপি। মামলা বা অন্য কোনো কারণে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হলেও যাতে নির্বাচনের মাঠে বিএনপির প্রার্থী থাকে, সে জন্যই একাধিক প্রার্থী দেওয়ার কৌশল নিয়েছে দলটি। এত কৌশলের পরও মাদারীপুরের কালকিনি পৌরসভায় বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই। তবে গতকাল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষদিনে অনেক পৌরসভায় বিএনপির একক প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
বিএনপি কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় শরিক দল জাতীয় পার্টিকে (কাজী জাফর) এবং চট্টগ্রামের চন্দনাইশ পৌরসভা ছেড়ে দেয় এলডিপিকে। বাকি ২৩৩ পৌরসভায় দলটির মনোনীত প্রার্থীরা গতকাল মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে কৌশলগত কারণে বিএনপিতে ৩০ জনের বেশি ‘ডামি’ প্রার্থী রয়েছেন। তাঁরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি ৯৩টি পৌরসভায় প্রার্থী মনোনয়ন দেয়। তবে দলের মনোনয়ন উপেক্ষা করে জাতীয় পার্টির একজন নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। দলটির বেশির ভাগ কেন্দ্রীয় নেতাই পৌরসভার মেয়র পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
দলীয় ও ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হলেও তেমন কোনো অঘটন ঘটেনি। তবে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা দলীয় কার্যালয় ‘অজ্ঞাত কারণে’ গতকাল দিনভর তালাবদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী আনিছুর রহমান ঢুকতে পারেননি। তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে কার্যালয়ের বাইরে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল করেছেন। আনিছুর রহমান বলেন, ‘কার্যালয়ে কারা তালা ঝুলিয়ে রেখেছে, তা আমার জানা নেই।’ তবে তাঁর সমর্থকরা বলছে, মনোনয়নবঞ্চিতরাই এ কাজ করেছে।
ঝালকাঠির নলছটি পৌরসভায় মেয়র পদে বিএনপির একক প্রার্থী মজিবর রহমান। সেখানে আওয়ামী লীগ মনোনীত তছলিম উদ্দিন চৌধুরী ছাড়াও দলটির তিন নেতা মাসুদ খান, ইঞ্জিনিয়ার মাসুম হোসেন ও আবু সাঈদ মোস্তফা কামাল ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হয়েছেন। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরসভায় বিএনপির একক প্রার্থী রাজু আহমদ। সেখানে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হাজি আবদুল মনাফ ছাড়াও ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী রয়েছেন শাহ নুরুল করিম। কিশোরগঞ্জের সাত পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছয়জন, বিএনপির তিনজন। আবার কোথাও কোথাও আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী থাকলেও একাধিক প্রার্থী রয়েছে বিএনপির। যশোরের কেশবপুর পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী রফিকুল ইসলাম। সেখানে বিএনপির প্রার্থী আবদুস সামাদ বিশ্বাস ছাড়াও ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন যুবদল নেতা আলমগীর কবির। বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা সোমনাথ দে। তিনি বলেন, লাঙল প্রতীকের চেয়ে এলাকার মানুষ ব্যক্তি সোমনাথকে অনেক বেশি ভালোবাসে। ভোটারদের উত্সাহ পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তবে গাইবান্ধা সদর ও পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি কিংবা অন্য কোনো দলেরই কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী নেই।
অনেক স্থানে বিএনপি থেকে পদত্যাগকারী নেতারাও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া পৌরসভায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. মন্তাজ মিয়া। সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন মো. জয়নাল আবেদীন আবদু ও বিএনপি থেকে পদত্যাগকারী মো. মশিউর রহমান বাবুল। গোপালগঞ্জ ও টুঙ্গিপাড়া পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া দুই প্রার্থী কাজী লিয়াকত আলী লেকু ও শেখ আহম্মদ হোসেন মির্জা গতকাল সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা জানিয়ে রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী এনায়েত হোসেন। সেখানে আওয়ামী লীগেরই তিন ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী মশিউর রহমান সবুজ, লোকমান হোসেন, আবুল কালাম আজাদ ও ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের লুত্ফর রহমান। এ পৌরসভায় বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই। সেখানে বিএনপির শরিক জামায়াত বা অন্য দলেরও কোনো প্রার্থী নেই।
৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে দেশের সবচেয়ে বেশি সহিংসতা ঘটে যে চাঁপাইনবাবগঞ্জে, সেখানে জামায়াতের প্রার্থীর কোনো অভাব নেই। সদর পৌরসভায় বিএনপি থেকে অধ্যাপক আতাউর রহমানকে মনোনয়ন দেওয়ার পরও সেখানে জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক নজরুল ইসলাম ও জামায়াত নেতা আবদুস সবুর প্রার্থী হয়েছেন। জেলার শিবগঞ্জে জামায়াত নেতা জাফর আলী, নাচোলে রফিকুল ইসলাম ও রহনপুর পৌরসভায় জামায়াত নেতা মিজানুর রহমান স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। এই তিনটিতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী রয়েছেন।
এদিকে রাজশাহীর আড়ানী পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বাবুল হোসেন গতকাল মৃত্যুবরণ করায় সেখানে দলটি মুক্তার আলীকে নতুন প্রার্থী ঘোষণা করেছে। মুক্তার আলী গতকাল মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে বগুড়ার ধুনটে মেয়র পদে মনোনয়ন না পাওয়ায় আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেছেন বর্তমান পৌর কাউন্সিলর আল-আমিন তরফদার।
বাগেরহাটের বিভিন্ন পৌরসভায় নির্বাচনী উৎসব শুরু হলেও মংলার চিত্র ভিন্ন। নির্বাচন কমিশন মংলা পোর্ট পৌরসভার ভোট ছয় মাসের জন্য স্থগিত ঘোষণা করায় আগামী ৩০ ডিসেম্বর সেখানে নির্বাচন হবে না। বাগেরহাট জেলা নির্বাচন অফিসার মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানান, উচ্চ আদালতের একটি আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা পরিহারের জন্য মংলা পোর্ট পৌরসভা নির্বাচন ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
ভোটার তালিকাসংশ্লিষ্ট একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার হাইকোর্ট মানিকগঞ্জের সিংগাইর পৌরসভার নির্বাচন ছয় মাসের জন্য স্থগিত রাখার আদেশ দিয়েছেন। তবে হাইকোর্টের নির্দেশনা-সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র হাতে না পাওয়ায় নির্বাচনের স্বাভাবিক কার্যক্রম চলছে বলে জানান জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মনির হোসাইন।
মেয়র পদে মনোনয়নপত্র জমা ১,১৪০ জনের : ইসিতে নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থীর সংখ্যা বেশি। এ ছাড়া ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টি ও খেলাফত মজলিশের মনোনীত ৪৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। একই সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন ১৭৭। সব মিলিয়ে ২৩৫টি পৌরসভায় মেয়র পদে এক হাজার ১৪০ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে তিন হাজার ২৫৩ এবং সংরক্ষিত (মহিলা) কাউন্সিলর পদে ৮৫০ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
দলে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অনেকেই হয়তো দাখিল করেছেন, কিন্তু মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় এখনো আছে। এর পরও যদি কেউ নির্বাচন করেন তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রায় একই মন্তব্য করেন সিলেট জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবুল কাহের শামীম।
সুশাসনের জন্য নাগরিক সিলেট জেলা শাখার সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দলগুলোর বিদ্রোহী প্রার্থী থাকার কারণে প্রার্থীসংখ্যা বেড়েছে। এ থেকে বোঝা যায়, দলগুলো প্রার্থীদের যথাযথ মূল্যায়ন করেনি। এ ছাড়া প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 24 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ