ফাঁসির মাস নভেম্বর

প্রকাশিত: 11:52 AM, December 3, 2015

ফাঁসির মাস নভেম্বর

imagesপ্রান্ত ডস্কে:গত নভেম্বরে সারা দেশে ১৩টি মামলার রায়ে ৫৮ জনের ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়। মাসটি যেন বিচারের দীর্ঘসূত্রতার বিরুদ্ধে বিচার বিভাগের একটি জবাব হয়ে এসেছে। এর মধ্যে আবার মাত্র সোয়া তিন মাসে বিচার শেষ করার নজিরও আছে।
তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র জমা, সাক্ষী, হাজিরা ও শুনানির দীর্ঘ পথ এত কম সময়ে পাড়ি দেওয়া সরকারের সদিচ্ছার কারণেই সম্ভব হয়েছে বলে জানালেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
তাই সব মামলার ক্ষেত্রে বিচারের এ গতি ধরে রাখতে তদন্তকারী কর্মকর্তা, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী, এমনকি বিচারকদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার পরামর্শ দিলেন সাবেক বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম।
নভেম্বরের যত রায়
খুলনায় এক মোটর ওয়ার্কশপে ১২ বছরের শিশু রাকিবকে নির্মম কায়দায় হত্যা করা হয় গত ৩ আগস্ট। মাত্র ২২ দিনে তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। ৫ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের পর মাত্র ১০ কার্যদিবসে বিচারক দিলরুবা সুলতানা ৩৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেন। বিচারপ্রক্রিয়া শেষ করতে সব মিলিয়ে সময় লেগেছে সোয়া তিন মাস।
সিলেটের শিশু রাজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় গত ৮ জুলাই। মাত্র দেড় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয় ১ অক্টোবর। ১৭ কার্যদিবসে ৩৬ জন সাক্ষী ও উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শেষে ৮ নভেম্বর রায় দেন বিচারক।
নভেম্বরের ৪ তারিখ নারায়ণগঞ্জের তানিয়া হত্যা মামলার রায়, ৮ তারিখ রাজন-রাকিব হত্যা মামলার রায়, পরদিন ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় শিশু ফরহাদ হত্যা মামলার রায়, ১৮ তারিখ চট্টগ্রামে ইয়াছিন হত্যা মামলার রায়, ২৯ নভেম্বর রিয়াজ হত্যা মামলার রায় ও মাসের শেষ দিন ৩০ নভেম্বর সারা দেশে ছয়টি মামলায় ২২ জনের ফাঁসির রায় হয়।
সম্প্রতি দেশে ব্যাপকভাবে শিশু হত্যার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে বিচার বিভাগের এমন সচল হওয়াকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন আইনমন্ত্রী। আদালতের রায়ে সমাজের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে বলে মনে করেন তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 8 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ