সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির সম্মেলন : নেতৃত্বের দৌঁড়ে ‘পলাতকরা’ও

প্রকাশিত: 5:55 AM, February 1, 2016

সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির সম্মেলন : নেতৃত্বের দৌঁড়ে ‘পলাতকরা’ও
সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির সম্মেলন ঘিরে দেশে-বিদেশে থাকা নেতারা নেতারা তৎপরতা শুরু করেছেন। দলের গুরুত্বপূর্ণ সময় তারা ‘দূরে’ থাকলে এখন নেতৃত্বের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেছেন।

সিলেট বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে বিভিন্ন সময় দায়িত্ব পালন করেছেন ‘ত্যাগী’ অনেক নেতা। তবে বক্তৃতা-বিবৃতিতে তারা সর্বদা মাঠ গরম রাখলেও অনেক সময় আড়ালেই রেখেছেন নিজেদের।

নিজ অনুসারী ও শুভাকাক্সক্ষীদের কাছে ‘ত্যাগী’ ও ‘পরীক্ষিত’ এসব নেতার অনেকে ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি পরবর্তী সরকার বিরোধী আন্দোলনে অগ্নিপরীক্ষায় পড়েন। রাজপথের আন্দোলনে কেউ কেউ আবার অল্পসংখ্যক অনুসারী নিয়ে ব্যানার টানিয়ে ফটোসেশন করে গণমাধ্যমে পাঠিয়ে দিয়ে আন্দোলনের সাথে নিজের সম্পৃক্ততার ‘প্রমাণ’ও রেখেছেন। অনেকে সরকার দলীয় নেতাদের মধ্যস্থতায় প্রশাসনের সাথে আপোষ করে গোপনে পাড়ি জমান বিদেশে।

দীর্ঘদিন যেসব নেতা রাজপথের আন্দোলন সংগ্রাম থেকে ‘পলাতক’ ছিলেন তারা আবারও সরব হয়ে ওঠেছেন। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারির কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে তারা পছন্দের পদের জন্য চালাচ্ছেন জোর প্রচেষ্টা। কাউন্সিলরদের ‘ম্যানেজ’ করে তারা বাগে নিতে চান দলের শীর্ষ পদ।

পদের দাবিদার এসব নেতারা কাউন্সিলরদের মন ‘ভোলাতে যেমন চালিয়ে যাচ্ছেন প্রাণপণ চেষ্টা তেমনি কেন্দ্রের সাথেও রাখছেন সার্বক্ষণিক যোগাযোগ।

দলীয় সূত্রে জানা যায়- জেলা বিএনপির সভাপতি পদের জন্য মাঠে রয়েছেন বর্তমান সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক দিলদার হোসেন সেলিম ও যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম। এ দু’নেতার বিরুদ্ধে একটি করে মামলা রয়েছে। মামলা রয়েছে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীদের বিরুদ্ধেও। তবে তাদেও মধ্যে সবচেয়ে বেশি মামলা রয়েছে যুগ্ম আহ্বায়ক এডভোকেট সামসুজ্জামান জামানের বিরুদ্ধে। গত আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি প্রায় দেড়ডজনের বেশি মামলার আসামী হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। আর অপর প্রার্থী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহমদও একাধিক মামলা আসামি।

জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মামলার আসামি হয়ে কারাগারে রয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি আবদুল আহাদ খান জামাল। এছাড়া ওই পদে প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এমরান আহমদ চৌধুরী, ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা সিদ্দিকুর রহমান পাপলু, অ্যাডভোকেট হাসান আহমদ পাটোয়ারি রিপন, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ফয়সল আহমদ চৌধুরী, সাবেক দফতর সম্পাদক ময়নুল হক।

মহানগর বিএনপির সভাপতি পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে বর্তমান আহ্বায়ক ডা. শাহরীয়ার হোসেন চৌধুরী বিগত আন্দোলনের সময় জেল খেটেছেন। অপর দুইপ্রার্থীর মধ্যে নাসিম হোসেইন ও আবদুল কাইয়ূম জালালী পংকীর মধ্যে একাধিক মামলার আসামি পংকী। সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীদের মধ্যে বর্তমান সদস্য সচিব বদরুজ্জামান সেলিম আন্দোলন করতে গিয়ে কারাভোগ করেন। ওই পদে অন্য প্রার্থীরা হলেন- মহানগর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও সাবেক কোষাধ্যক্ষ ফরহাদ চৌধুরী শামীম। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজমল বখত সাদেক, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ূন কবীর শাহীন, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মিফতাহ সিদ্দিকী, মাহবুব চৌধুরী ও এমদাদ চৌধুরী।

এসব নেতাদের মধ্যে কেউ কেউ বিভিন্ন সময় নিজেদের আড়ালেও রেখেছেন। কেউ আবার ছিলেন দেশের বাইরে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংবাদটি 22 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ